একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে নতুন প্রজন্মকে পুনরায় বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, কেবল জ্ঞানই পারে একটি সমাজকে সঠিকভাবে শাসন করতে এবং বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য বজায় রাখতে।
রবিবার (১৫ মার্চ) অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মা। দেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও আচরণ কেমন হবে, তা নির্ধারণ করে তার অর্থনীতি। গত দেড় দশকে দেশে একটি লুটপাটের অর্থনীতি কায়েম হয়েছিল। অন্ধকার সেই যুগে মাদক ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছিল, যা থেকে বের হয়ে আসার প্রক্রিয়া এখনো চলছে।’
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘২৪ জুলাই যে ভয়ঙ্কর পরিবর্তন ও গণজাগরণ শুরু হয়েছিল, তার গভীরতা আমাদের বুঝতে হবে। গত ১৮ বছর দেশে প্রকৃত নির্বাচন হয়নি, মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতা যে পরিবর্তন এনেছে, তাকে অর্থবহ করতে হলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে হবে।’
বক্তব্যে তিনি ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে ২৬শে মার্চ যে স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল, তা আমাদের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্যই হলো ভিন্ন মত ও আদর্শের সহাবস্থান। আমরা বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য (Unity in Diversity) চাই। এজন্য আধিপত্যবাদী শক্তির লেজুড়বৃত্তি না করে জাতীয় পুঁজির বিকাশ ঘটাতে হবে, যাতে আমরা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি।’
দেশের প্রতিটি উপজেলায় পাঠাগার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লাইব্রেরিগুলোকে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাব এবং সেখানে সরকারিভাবে বই সরবরাহের ব্যবস্থা করব। প্রকাশকদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা মানসম্মত বই প্রকাশ করুন যাতে আমাদের সন্তানরা আবার বইয়ের প্রতি আগ্রহী হয়।’
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বাংলা একাডেমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/