রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার পর মার্কেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ তুলে সেখানে তুলকালাম ঘটিয়েছে বেশকিছু বিক্ষুব্ধ লোকজন। ওই এলাকার রিকশাচালক ও স্থানীয় কিছু বাসিন্দা সংঘবদ্ধ হয়ে ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিংমলে ব্যাপক লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সড়ক অবরোধ করে হট্টগোল, গুজব ছড়িয়ে মব সৃষ্টি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টা থেকে সোমবার ভোর ৪টা পর্যন্ত উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিংমলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উত্তরা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে উত্তর পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘শপিংমলে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘেরাও করে ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মালিক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি কাজী রফিক বলেন, ‘উত্তরা স্কয়ার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে একটি রিকশা পার্কিং করলে সেখানের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে রিকশাচালকের মারামারির ঘটনা ঘটে। এরপর একাধিক রিকশাচালক ওই শপিংমলের সামনে জড়ো হয়ে হট্টগোল করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে এক শ্রেণির এলাকাবাসী ও রিকশাচালকরা মিলে শপিংমলে ঢুকে ভাঙচুর ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে লুটপাট চালায়।’
এ ঘটনার পর ওই মার্কেটের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার এলাকার কিছু রিকশাচালক জানিয়েছেন, রবিবার রাতে একজন রিকশাচালককে পিটিয়ে ছিলেন ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরীরা। পরে আহত রিকশাচালককে ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়, যা গুজব ছিল। এতে বেশকিছু লোক বিক্ষুব্ধ হয়ে শপিংমলে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। বিক্ষোভের রেশ ধরে বেশকিছু রিকশাচালক উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গেও বিশৃঙ্খল আচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে থানা ভবনের সামনে রাখা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, রিকশাচালকসহ স্থানীয়দের সঙ্গে মার্কেট সংশ্লিষ্টদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। কিন্তু খবর জানাজানি হওয়ার পরও সংঘর্ষের দীর্ঘ সময়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।