ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু
Nagad desktop

আগামী হজে বিমান ভাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা কমবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
আগামী হজে বিমান ভাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা কমবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

সরকার হজের খরচ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, বিমান ভাড়া সর্বনিম্ন যতটুকু না নিলেই নয় শুধু সেটুকুই নেওয়া হবে এবং আগামী বছর বিমানভাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।  

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশের অন্যতম বেসরকারি লীড এজেন্সি আমিন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের উদ্যোগে এবং সৌদির রাওয়াফ মিনা এজেন্সির সহযোগিতায় রাজধানীর একটি হোটেলে হাজীদের মধ্যে নুসুক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে লীড এজেন্সি আমিন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মাধ্যমে হজে যাওয়া ১৪টি এজেন্সির হাজীদের মধ্যে নুসুক কার্ড বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে এই প্রথমবারের মতো দেশে থেকেই নুসুক কার্ড হাতে পেয়ে যাচ্ছেন হজযাত্রীরা। এর মাধ্যমে হাজীদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এর স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদি আমিন, হজ মনিটরিং কমিটির সদস্য এম. ডি. শামীম কায়সার লিংকন এমপি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাওয়াফ মিনার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এহসান কাতেব ও হেড অব রাওয়াফ মিনা সার্ভিস সেন্টার লুয়াই ফয়সাল আবদুল্লাহ খান। এ সময় হাবের সহসভাপতি শামীম সাঈদীসহ অন্যান্য অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। 

রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী সোমবার হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে হজ অ্যাজেন্সিগুলো যদি হাজীদের সঠিকভাবে সেবা না দেয় তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একইভাবে হাজীদের সেবায় বিমান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের কেউ যদি সঠিকভাবে সেবা না দেয় তাহলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের সময়ে এই প্রথমবারের মতো দেশে বসেই হাজীরা নসুক কার্ড হাতে পেয়ে যাচ্ছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আগামীতে হজ ব্যবস্থাপনা যাতে আরও সুন্দর ও আধুনিকভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বলেন, দেশে এই প্রথমবারের মতো এরকম একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা হজ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আগামীতে দেশের হজ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও হাজি বান্ধব করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। মূলত ইসলাম ধর্মের ফরজ এ ইবাদত যাতে সবাই সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন সে জন্য কীভাবে হজের খরচ আরও কমানো যায় সে ব্যাপারে কাজ করবে সরকার। আগামীতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সরকার আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের হজ ব্যবস্থাপনা উপহার দিতে পারবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।  

সংসদ সদস্য শামীম কায়সার বলেন, বর্তমান সরকার হজের প্রস্তুতির জন্য খুবই কম সময় পেয়েছে। তবুও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিময় নেতৃত্বে আমরা একটি সুশৃঙ্খল হজ উপহার দিতে পারবো বলে আশা করছি। সৌদিতে যেখানেই লাল-সবুজের হজ মিশনের অফিস থাকবে সেখান থেকেই হাজীরা সেবা নিতে পারবেন। নুসুক কার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়। যেটা হারিয়ে গেলে হাজীরা বিপদে পড়েন। এটি দেশ থেকে আগেই দিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে।  

হাব মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার বলেন, নুসুক কার্ডের গুরুত্ব অত্যাধিক। নুসুক কার্ড না থাকলে হারাম শরিফে প্রবেশ করা যায় না। এমনকি শ্রমিকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয় সে আচরণের শিকার হন হাজীরা। তারা আটকও হয়ে যেতে পারেন। এজন্য এবারই প্রথম সরকার দেশ থেকেই নুসুক কার্ড বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই প্রশংসাযোগ্য। তবে এ কার্ড বিতরণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কার্ড আগেই দিয়ে দিলে হজযাত্রীরা দেশে রেখে চলে যেতে পারেন বা হারিয়ে ফেলতে পারেন। তখন আর দ্বিতীয় কার্ড করা যাবে না। এজন্য হাজীরা যাওয়ার আগে বিমানে এ কার্ড বিতরণের পরামর্শ দেন তিনি। 

শফিকুল ইসলাম/নাঈম

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ সময় তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, তাঁর এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।

এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে।

এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে একটি পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষভাবে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যৌথ উৎপাদন ও সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: খবরের কাগজ

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া সম্মেলনেই শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

তিনি বলেন, ওই সম্মেলনেই জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে বিশেষ ও ঐতিহাসিক অবদান রেখেছিল।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

একাত্তরের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে যে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৮ নং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। মেজর জিয়াউর রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে এই রেজিমেন্ট পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার পান্ডে তেলিয়াপাড়া হেডকোয়ার্টারে বাঙালি সামরিক অফিসারদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মেজর জিয়ার এ সশস্ত্র প্রতিরোধের বার্তাটি পৌঁছে দেন। এই খবরটি মাঠপর্যায়ের বিদ্রোহীদের মনোবল বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তী সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তরের ৪ এপ্রিল সকাল ১০টায় তেলিয়াপাড়া হেডকোয়ার্টারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঊর্ধ্বতন বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেজর জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ওই সভায় বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধকে একটি সুসংগঠিত জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বসম্মতিক্রমে কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার অন্যতম অংশীদার ও নীতি-নির্ধারক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক অবিস্মরণীয় রূপকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বে জাতিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। 

তিনি আরও বলেন, জিয়ার আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। 

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধার ও ২০ তলা ভবনের পরিকল্পনা
বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মিলনায়তন সংস্কার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অতীতে বেদখল হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত অন্য বক্তারা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি যখন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, ঠিক তখনই জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ উল্টো ক্রমান্বয়ে কমছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের অংশ বিগত কয়েক বছরে ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জাতীয় জলবায়ু বাজেটেও স্বাস্থ্য খাতের অংশ কমে দেড় শতাংশে ঠেকেছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের নীতিসংলাপে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ও অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি জোর দাবি জানান।

সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), হেক্স/ইপিইআর এবং সুশীলন যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সাম্প্রতিক দুটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

উপকূলের নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে
সিপিআরডি পরিচালিত প্রথম গবেষণায় উঠে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ভয়াবহ চিত্র। দারিদ্র্য, নিরাপদ পানির তীব্র সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেখানকার নারীরা গুরুতর মাতৃস্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন। এই গবেষণার জরিপে অংশ নেওয়া ৮২.৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন যে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাবেই তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে। প্রায় অর্ধেক নারী বলেছেন, অনিয়মিত মাসিক, তীব্র ব্যথা এবং অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন জটিলতায় তারা ভুগছেন। উপকূলীয় নারীদের মধ্যে গর্ভপাত, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এবং গাইনোকোলজিক্যাল সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

নীতিমালায় গালভরা প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে শূন্যতা
‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন: নীতিগত অঙ্গীকার ও আর্থিক বাস্তবতা’ শীর্ষক দ্বিতীয় গবেষণায় দেখা যায়, সরকারের নীতিমালায় স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও বাজেটে তার প্রতিফলন নেই। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মোট অর্থায়নের এক শতাংশেরও কম বরাদ্দ পেয়েছে স্বাস্থ্য খাত। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই তহবিলের আওতায় অনুমোদিত ৮৭৭টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রকল্প স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে যে অর্থায়ন মিলছে, তা মূলত ক্ষণস্থায়ী প্রকল্পনির্ভর। রোগ নজরদারি, জরুরি প্রস্তুতি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

নীতিসংলাপে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন এখনো একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র। বৈশ্বিক পর্যায়ে অর্থায়ন আকর্ষণ করতে হলে আমাদের শক্তিশালী তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু জলবায়ু–স্বাস্থ্য আলোচনা এখনো শুধু নিরাপদ পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী আন্তর্জাতিক তহবিল পাওয়ার জন্য শক্তিশালী যুক্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি জলবায়ু-স্বাস্থ্য বাজেট প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থার সুপারিশ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির বলেন, ‘বিশ্বব্যাপীই জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে যায়, যা প্রমাণ করে এই খাতটি বৈশ্বিক পর্যায়ে অবহেলিত। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের অভাবই শক্তিশালী অর্থায়ন প্রস্তাব তৈরির মূল বাধা।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল আহমেদ সতর্ক করে বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল দিন দিন কমছে। তাই বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্যায়নের তাগিদ দেন।

আসন্ন বাজেটের জন্য জরুরি সুপারিশ
নীতিসংলাপ থেকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-জাতীয় বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারসমূহকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা; জলবায়ু বাজেট ট্র্যাকিং বা নজরদারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করা; মহামারি ও রোগ নজরদারির মতো জরুরি প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য স্থায়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যখাত-নিয়ন্ত্রিত অভিযোজন কর্মসূচির জন্য দেশীয় জলবায়ু তহবিল থেকে সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকায় বসছে বিশ্ব নেতাদের মেলা। আগামী ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংলাপের অন্যতম বৃহৎ আসর ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই সংলাপ প্ল্যাটফর্মের এবার পঞ্চম আসর বসছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেবেন। ফলে এটি বাংলাদেশের মাটিতে অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক কৌশলগত ও নীতিনির্ধারণী সংলাপের আসরে পরিণত হতে যাচ্ছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘ভাঙন, নতুন দিগন্ত, আগামী দিনের বিশ্ব: পুনর্লিখিত এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার নতুন পথচলা’।

আয়োজকরা জানান, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস, জলবায়ু সংকট এবং রাষ্ট্র ও সমাজে আস্থার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে থাকবে উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন, নেতৃত্ব পর্যায়ের সংলাপ, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক পর্ব, মুখোমুখি আলাপচারিতা এবং একটি বিশেষ তরুণ নেতা ফোরাম।

সম্মেলনের মূল আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও সংযোগ, জলবায়ু ও মানব নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসন এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান সিজিএস জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনটি পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো- পরিবর্তনশীল ক্ষমতার রাজনীতি (ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা); প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার জগৎ ও তথ্যের ক্ষমতা); অর্থনীতির নতুন ভূগোল (বাণিজ্য, সংযোগ ও প্রবৃদ্ধির নতুন বাস্তবতা); জলবায়ু, স্থিতিস্থাপকতা ও মানব নিরাপত্তা এবং আস্থা, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ভবিষ্যৎ।

‘বে অব বেঙ্গল লেকচার’, উচ্চপর্যায়ের লিডারশিপ ফোরাম এবং বিশেষ অধিবেশন ‘বঙ্গোপসাগর: ভূরাজনীতি, সংযোগ ও ভবিষ্যতের নতুন কেন্দ্র’ এবারের সম্মেলনকে আরও জমিয়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান সিজিএস।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিজিএস সরকার, কূটনীতি, নিরাপত্তা, ব্যবসা, গবেষণা, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংলাপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নীতিনির্ধারক, চিন্তাবিদ, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং তরুণ নেতারা এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নিয়ে সমসাময়িক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করে থাকেন।

সিজিএস বলছে, বর্তমান সময়ে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সংযোগস্থল হিসেবে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু অভিযোজনে এই অঞ্চল ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আয়োজকদের আশা, এ সম্মেলন এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ আলোচনা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্মেলনের বক্তা, অংশীদার প্রতিষ্ঠান, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং বিস্তারিত কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার
অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং গ্রামীণ চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে দুই ধরনের পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ও সৌরচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নকশায় স্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারকদের মাধ্যমে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো নির্মিত হবে।

শনিবার  (৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকের বরাত দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে নকশা, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, প্রোটোটাইপ নির্মাণ ও পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে বিদেশ থেকে অ্যাম্বুলেন্স আমদানি পরিহার করতে চাই। বুয়েট নকশা চূড়ান্ত করার পর দেশীয় গাড়ি প্রস্তুতকারকদের মাধ্যমে এগুলো তৈরি করা হবে এবং একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে।’

প্রস্তাবিত দুই ধরনের অ্যাম্বুলেন্সের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী মা ও গুরুতর রোগীদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার জন্য চার চাকার পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক অ্যাম্বুলেন্স তৈরি হবে। এগুলো ডিজেল বা পেট্রোলে চলবে না, বরং ব্যাটারি এবং সৌর বিদ্যুতে (সোলার) চলবে। অন্যদিকে, উপজেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল বা রাজধানীতে রোগী স্থানান্তরের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বড় অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা হবে। এগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডার, বেড ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জাম থাকবে। প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালুর পর আগামী বছর থেকে সারা দেশে এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অকেজো আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স সচল হচ্ছে জুলাইয়ে। এদিকে দেশের সরকারি ও উপহার হিসেবে পাওয়া আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সগুলো চালক ও জ্বালানি সংকটের কারণে অকেজো পড়ে থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংকটের কথা স্বীকার করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মূল সমস্যা হল, এগুলোর ড্রাইভার এবং ফুয়েলের কোনো সরকারি মঞ্জুরি ছিল না। আমরা আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এগুলোকে সরকারি মঞ্জুরির আওতায় এনে সচল করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ডেঙ্গু মোকাবিলায় মজুদ হচ্ছে ২ লাখ স্যালাইন
চলতি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমরা বিনামূল্যে ১ লাখ স্যালাইন পেয়েছি। এ ছাড়া দেশের বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারক সমিতি আগামীকাল সকালে আরও ১ লাখ স্যালাইন সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। এর ফলে আগামীকালই কেন্দ্রীয় স্টকে ২ লাখ স্যালাইন মজুত থাকবে। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও স্যালাইন আমাদের হাতে আসবে, তাই ডেঙ্গু চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।’

জয়ন্ত সাহা/নাঈম