ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
Nagad desktop

আমাদের লক্ষ্য নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
আমাদের লক্ষ্য নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয় বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের  দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।’

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। 

ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করে তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে হয়তো ১০০ বছর আগে, যে জমির মালিক ছিলেন মাত্র একজন। সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে সেই জমির মালিক হয়তো ১০০ কিংবা তারও বেশি। এভাবে ভূমির মালিকানা-শরিকানা যেমন বেড়েছে স্বাভাবিকভাবেই জমির মালিকানা সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে রেকর্ডে রাখার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তেমন বেড়েছে।’

ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত বেশি সহজ হয়ে যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সিএস, আরএস বা ডিএস- এই শব্দগুলোর সঙ্গে জমির মালিক মাত্রই কমবেশি পরিচিত। ফলে এসব বিষয়ে নিজেদের মালিকানা হালনাগাদ রাখতে মানুষকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে।’

জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্মও কমবে। চলমান এই ভূমি মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে  জনগণের নিজেদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণও কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সময়ের অপরিহার্য দাবি।’

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমি প্রশাসনের প্রায় সকল সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।’

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সহায়তার লক্ষে সারাদেশে ভূমিসেবা মেলা আয়োজন এবং জমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ এবং আধুনিকায়ন করার ব্যাপারে আমরা জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনি ইশতেহারেও উল্লেখ করেছিলাম। আজ থেকে সারাদেশে তিন দিনব্যাপী এ ধরনের ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেয়া আরো একটি নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। কারণ, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ  বর্তমানে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের  অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতগুলোতে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি সবমিলিয়ে  ৪৭ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই বেশি। সুতরাং, এ মুহূর্তে সরকারের সামনে প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে  আদালতে বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি। তবে প্রচলিত আদালতের বাইরেও  জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা এডিআর (বিকল্প বিবাদ নিরসনের ব্যবস্থা) অর্থাৎ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো আইনানুগ মাধ্যম অবলম্বনের দিকে আরও জোর দেওয়া জরুরি।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, ‘শক্তি দিয়ে শান্তি রক্ষা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব।’

বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বা দেওয়ানি মামলাগুলো পর্যায়ক্রমে সমঝোতা বা মধ্যস্থতা, সালিশের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথ কার্যকর করা গেলে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমবে, অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করাও সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জমি বা ভূমি শুধু এক টুকরো সম্পদই নয়, বরং মানুষের জীবনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই  ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।’

ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, আইন ও বিচার মন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। -বাসস

অমিয়/

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:১৯ এএম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এর তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।

 রবিবার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। 

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ ভূটানের পুনাখা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে।

মাটির ৩৫ কিলোমিটার তলদেশে হওয়া এই শক্তিশালী কম্পনের ফলে ভূটান ছাড়াও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল কেঁপে ওঠে।

প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, এই ভূমিকম্পের ফলে কম্পন অনুভূত হওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে- বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, ভূটান ও চীন।

মাঝরাতের এই আকস্মিক ঝাঁকুনিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে, এই ভূমিকম্পের কারণে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসএন/

নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে ট্রাফিক আইন ও নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে চলাচল করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডাম্পট্রাক। এতে সড়কে ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।

রবিবার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে বাংলামোটর এলাকায় দেখা যায়, ডিএসসিসির একটি ডাম্পট্রাক নির্ধারিত লেন ও সড়ক শৃঙ্খলা না মেনে এলোমেলোভাবে চলাচল করছে। ট্রাকটির এমন বেপরোয়া চলাচলের কারণে আশপাশের যানবাহনকে সতর্ক হয়ে চলতে হয়।

সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে রাতে ডাম্পট্রাকের বেপরোয়া গতি ও নিয়ম না মানার প্রবণতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

নগরবাসীর দাবি, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব যানবাহনকেও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

জয়ন্ত/রিফাত/

চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

চীন সরকারের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রবিবার (৭ জুন) রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি বেইজিং পৌঁছান। এর আগে দুপুরের দিকে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। বিএনপি মিডিয়া সেল এসব নিশ্চিত করেছে। 

মিডিয়া সেল জানায়, চীন যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুপুরে তথ্যমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে সফরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

মিডিয়া সেল আরও জানায়, সফরকালে তথ্যমন্ত্রী চায়না মিডিয়া গ্রুপের আয়োজনে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন অনুষ্ঠেয় ‘৫ম সিএমজি ফোরাম’-এ অংশ নেবেন। এ ছাড়া চীনের তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তথ্য বিনিময়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে নীতিগত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে তথ্য, প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে আশা করা হচ্ছে। 

ব্যাংক খাত সংস্কারের বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী 
ব্যাংক খাতের সংস্কার এখন সময়ের দাবি এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান।

রবিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরএফ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বলেন, গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। কিন্তু আয়নাটি যদি বিকৃত হয়, তাহলে প্রকৃত চিত্রও বিকৃতভাবে প্রতিফলিত হবে। তাই গণমাধ্যমকে নিজস্ব কাঠামোগত দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সঠিক, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উপস্থাপনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। 
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু তথ্য প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তথ্যের নির্ভুলতা, প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হয়। তবে তথ্য গোপন রাখাও কোনো সমাধান নয়। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় উপস্থিতি অপরিহার্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা থাকতে হবে, তবে সেই স্বাধীনতার ভিত্তি হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। গণমাধ্যমকে এমন পেশাগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, যাতে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে। গণমাধ্যমের জবাবদিহির একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা।

ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাশহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ।

কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক
ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গাকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে।

ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

ওসি মনিরুল বলেন, “আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। উন্নত জীবন যাপনের প্রলোভন দেখিয়ে লোকজন মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে জিম্মি করেন তিনি। জিম্মি করার পর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে থাকেন। 

পুলিশ জানায়, তাকে আটকের পর মানবপাচার সংক্রান্ত বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


তারেকুর রহমান/এসএন

ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১০ পিএম
ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
ছবি: খবরের কাগজ

চীন ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের মধ্যে সম্পর্ক, পেশাগত যোগাযোগ এবং তথ্য বিনিময় আরও জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং বাংলাদেশ-চীন আপন মিডিয়া ক্লাব। 

রবিবার (৭ জুন) রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ডিক্যাব-এর সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস এবং বাংলাদেশ-চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অলিভিয়া ছু।

ডিক্যাব-এর অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা খুব কাছ থেকে চীন সম্পর্কে জানতে পারছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিক্যাবের সদস্যরা চীন সরকারের আমন্ত্রণে চীন সফরও করেছেন। আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের গণমাধ্যম সহযোগিতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো। আশা করি, এর মাধ্যমে আগামীতে আরও বেশি সাংবাদিক চীন সফর করার সুযোগ পাবেন, যা দুই দেশের মানুষকে পরস্পরকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং মৈত্রী দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।’

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ডিক্যাব-এর সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আদান-প্রদানে এই চুক্তি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দুই দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এটি একটি দারুণ সুযোগ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, বাংলাদেশি সিনে-জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিজেএ) সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ, টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশের (টিএমজিবি) সভাপতি মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সভাপতি হাসান শরীফ, এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদ আনন্দ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ-চীন আপন মিডিয়া ক্লাব। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ডিক্যাব দীর্ঘ ২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুনাম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে আসছে।

রবিউল/রিফাত/