আসন্ন বর্ষা মৌসুমে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা এবং কম ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাপদাহ এবং বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আগে সব খাতকে সমন্বিত প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় ক্লাইমেট অ্যাপ্লিকেশন ফোরাম ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্যের ব্যবহার আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়। পূর্বাভাস প্রদানকারী সংস্থা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনরা এতে অংশ নেন।
তীব্র দাবদাহ ও এল নিনোর প্রভাব
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমের ঋতুভিত্তিক জলবায়ু পূর্বাভাস উপস্থাপন করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ। তিনি জানান, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কম বৃষ্টিপাত ও দাবদাহের পূর্বাভাস রয়েছে, যা কৃষি, গবাদি পশু, মৎস্য, পানিসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রভাব ফেলতে পারে।
আরেক আবহাওয়াবিদ এস এম কামরুল হাসান ‘এল নিনোর পূর্বাভাস ২০২৬’ সংক্রান্ত প্রবন্ধে জানান, শক্তিশালী এল নিনো মানেই সব সময় শক্তিশালী প্রভাব নয়; বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ওপর এর প্রভাব নিবিড়ভাবে বিবেচনা করতে হবে।
আগাম সতর্কবার্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক প্রস্তুতির পদক্ষেপে রূপান্তরিত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বিগত আকস্মিক বন্যার একটি কেস স্টাডি তুলে ধরে বলেন, উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সময়োপযোগী তথ্য বড় ক্ষতির আগেই প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে।
ব্রিটিশ হাইকমিশন-ঢাকার প্রতিনিধি এ বি এম ফিরোজ আহমেদ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কেয়ার বাংলাদেশের মো. ফুয়াদ-উর-রাব্বি সময়মতো মানবিক সহায়তা ও আগাম পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কৃষকরা কীভাবে পূর্বাভাস ব্যবহার করে কৃষি পরিকল্পনা ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করছেন, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুয়ীদ জলবায়ু পূর্বাভাসকে সরাসরি কৃষি সম্প্রসারণ সেবার সঙ্গে যুক্ত করার তাগিদ দেন।
সাধারণ মানুষের কাছে আবহাওয়ার তথ্য সহজে পৌঁছে দিতে অনুষ্ঠানে আবহাওয়া অধিদপ্তরের মোবাইল অ্যাপের একটি পরীক্ষামূলক সংস্করণ (বেটা ভার্সন) উন্মোচন করা হয়।
আঞ্চলিক সমন্বিত বহুমুখী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার (রাইমস) সহায়তায় এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল কোলাবোরেশন, প্রতিষ্ঠা কনসোর্টিয়াম ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের অংশীদারত্বে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানটি হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাইমসের সিনিয়র আবহাওয়া কর্মকর্তা সৈয়দা সাবরিনা সুলতানা।