আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ শান্ত করা। বর্তমানে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির অভিঘাত মোকাবিলা করা। বিগত ১৫ বছরে যেসব কাজ হয়েছে বিশেষ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে, ব্যাংক সেক্টরে, পুঁজিবাজারে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, সেখানে আমরা দেখেছি অনেক অনিয়ম, অনেক দুর্নীতি, বহু দমন-পীড়ন হয়েছে। আমরা একটা রূপরেখা শুরু করে দিয়ে যাব। সবাইকে এখন ধৈর্য ধরতে হবে। দ্রুত সবকিছু করা সম্ভব নয়।...
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের সম্পাদকীয় বিভাগের সিনিয়র সহসম্পাদক শেহনাজ পূর্ণা
খবরের কাগজ: বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই ১০০ দিন পার করেছে। সময়টিকে একটি মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: বর্তমানে আমাদের সামনে যে কয়টি চ্যালেঞ্জ আছে, অর্থাৎ যে চ্যালেঞ্জগুলো সঙ্গে নিয়ে নতুন সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপকতা খুব বেশি। আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ শান্ত করা। আমরা প্রথমত সেই চেষ্টা করেছি। বর্তমানে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির অভিঘাত মোকাবিলা করা। এখানে কতগুলো বিষয় উল্লেখযোগ্য, যেমন- ব্যবসা-বাণিজ্য, শেয়ারবাজার, ব্যাংকিং খাত, বিদেশি বিনিয়োগসহ সবকিছু মিলে আমরা মনে করি যে সার্বিকভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিছু কিছু সমস্যা হয়তো দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে। কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হবে। মূল কথা হচ্ছে, আমরা একটি ভিত রচনা করছি ভবিষ্যতের জন্য। একটা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা ও কাজ করছি। এটাই হলো প্রকৃত সাফল্য। আমরা মনে করি, পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই ধারাবাহিকতা বয়ে নিয়ে যাবে, অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং তা বাস্তবায়ন করবে। সুষ্ঠু গঠনমূলক নির্বাচনের ব্যাপারেও কথাবার্তা হয়েছে। সেদিকেও অন্তর্বর্তী সরকার যথাযথভাবে সামনের দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচনের যেসব বিষয় আছে, বর্তমান সরকার সে ক্ষেত্রে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেগুলো নেবে। সে ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি যেসব বিষয় ছিল তা সার্বিকভাবে দেখা হচ্ছে- এটাই সাফল্য। এর মধ্যে কিছু ভুলত্রুটি ছিল এবং থাকবে। সবকিছুই যে রাতারাতি একেবারে শতভাগ ঠিক হবে তা নয়। আমাদের ভুলত্রুটি অনেকে চিহ্নিত করছেন, বিশেষ করে প্রেস থেকে, বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে- সবার কথাই আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি এবং সেগুলো সঠিকভাবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় নিয়ে তাদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করছি।
খবরের কাগজ: দেশের অর্থনৈতিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আপনি কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্কার করা হচ্ছে। এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে কর সংস্কার করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, চলমান প্রকল্পগুলো যা ছিল সেগুলো ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টরে ইতিবাচক সংস্কার চলছে। এর ফলে কিছু দুর্বল ব্যাংক ইতোমধ্যেই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সরকারি ব্যাংকগুলো ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও অগ্রসরমাণ ব্যবসা-বাণিজ্য মন্থর গতি থেকে ধারাবাহিকতায় ফিরতে শুরু করেছে, অর্থাৎ এক ধরনের গতি সঞ্চার হয়েছে। সবচেয়ে বড় হলো, দেশি-বিদেশি বহুজাতিক সংস্থাসহ দেশের সঙ্গে আর্থিক সহায়তা, কারিগরি সহায়তার জন্য আমরা কথাবার্তা বলছি। তারা সবাই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। সহযোগিতার জন্য আশ্বাস দিয়েছেন। এর ফলে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা যেগুলো আছে, সেগুলো আমরা চালু করতে সক্ষম হব। কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী স্বাভাবিকতা বিনষ্ট করতে অকারণে নানা রকম অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাচ্ছে। দেশের কল্যাণে এগুলো তাদের বাদ দিতে হবে। সরকারের কাজে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।
খবরের কাগজ: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলছে। কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের পরও সেসব পণ্যের দাম কমছে না। এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: এর কারণ একাধিক, একই সঙ্গে জটিল। একটি হলো চাহিদাজনিত কারণ এবং অন্যটি সরবরাহজনিত কারণ। চাহিদাজনিত কারণ হলো- মানুষের হাতে যখন টাকা-পয়সা আসে, ইনকাম বেড়ে যায় বা ট্যাক্স কমে গেলে চাহিদা বেড়ে যায়। সরবরাহের দিকটা বলতে নিত্যপণ্য, অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো- চাল, ডাল, গম, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, ডিম- এগুলোর সরবরাহ যেন অবিরত থাকে, সেটা আমরা চেষ্টা করছি। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসছে। প্রথমত, আমরা পলিসিগত ট্যাক্স অনেক কমিয়ে দিয়েছি। সেটা ছাড়াও আমাদের দেশে কয়েক দিন আগে বন্যা হয়েছে- কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বেশির ভাগ জায়গায় বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য নষ্ট হয়েছে। তার পরই অতিবৃষ্টির কারণে আবার শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলে কৃষিপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অনেক খামার ভেসে গেছে, ধসে গেছে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে। অতএব ডিমের যে চাহিদা তা ৪ থেকে ৫ কোটি, উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি। তার পরও চাহিদার ঘাটতি থাকবেই। সব মিলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। বাইরে থেকে আমদানির ক্ষেত্রে বেশির ভাগ পণ্যের আমদানি মূল্য বেড়ে গেছে। সয়াবিনের দাম অনেক বেড়ে গেছে বাইরে। চিনির দামের ক্ষেত্রে আমরা সাশ্রয়ী হচ্ছি। আর চাল আমদানি করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চালের দাম যে কমছে তা নয়। ওটাও বাড়তি আছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময়ে। বর্তমানে পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে তা আরও বেড়েছে। যা আমরা বাইরে থেকে আমদানি করি তার দাম বেড়ে যাচ্ছে- এটা একটা কারণ। কৃষি উৎপাদন ঠিকই ছিল, হঠাৎ করে বন্যার কারণে পণ্যের দাম বেড়ে গেল। এখন শীতের মৌসুম, অনেক কিছুই স্বাভাবিক হয়ে যাবে আশা করা যায়। আমরা মূল্য সমন্বয়ের চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় যে কারণ তা হলো সরকারের পলিসির বাইরে থেকে যারা আমদানি করছে, পাইকারি ব্যবসায়ী, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে, সেখানে কতগুলো মধ্যস্বত্বভোগী আছে। আমি সিন্ডিকেট না বলি, আমি বলি কতগুলো মধ্যস্বত্বভোগী আছে। আমি যদি একটি উদাহরণ দিই, যেমন- মহাস্থানগড় থেকে একটা পণ্য বগুড়া হয়ে ঢাকায় আসবে। এখানে অনেক হাত বদল হয়, অকারণে। এখানে মিডিলম্যানের প্রয়োজন আছে- এখানে লোড করার, ঢাকায় আনার, ঢাকা থেকে গাড়িতে বিভিন্ন জায়গায় যাবে- মাঝে অহেতুক চাঁদা দিতে হয়। যেমন- বগুড়ায় ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদা নিচ্ছে, যমুনার পাড়ে এসে চাঁদা নিচ্ছে, মিরপুর বা মাওয়া ঘাটে চাঁদা নিচ্ছে, আবার কারওয়ান বাজারে চাঁদা নিচ্ছে। আমি বলি, তাদের কোনো কাজ নেই, বসে বসে এসব কাজ এরা করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে যে চক্রগুলো আছে, সেগুলো ভাঙতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, প্রকৃত ব্যবসায়ী যারা আছেন তাদের একত্র হতে হবে। ভোক্তার কাছে সহজ হতে হবে, অর্থাৎ তাদের জন্য পণ্যমূল্য সহজলভ্য করে দিতে হবে। উৎপাদন খরচ, অর্থাৎ চাষিরা যে খরচটা করে শস্য ফলায়, ভোক্তার কাছে এসে দামটা খুব বেশি অধিক হয়ে যায়। সেখানে হয়তোবা ১০-১৫ টাকা বেশি হতে পারে। যদি বেগুনের দাম ১০ টাকা হয়, ঢাকায় এসে সেটা বড়জোর ২০ টাকা হবে। কিন্তু তাই বলে ৬০ টাকা হওয়ার তো কোনো কারণ থাকতে পারে না। আমরা সব হিসাব যোগ করে দেখেছি, অহেতুক দাম বাড়ানো হচ্ছে- সেটাও একটা কারণ। সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতিটা বেড়ে গেছে। এগুলো দূর করতে একটু সময় লাগবে। তবে অকারণে দাম বাড়িয়ে মূলস্ফীতির যে অসাধু অভিপ্রায় সেটা দূর হয়ে যাবে। সরকার কৃষিতেও প্রচুর ভর্তুকি দিয়েছে। কাঁচা তরিতরকারি, ডিম কিনে সরবরাহ করছে এবং এটা চলবে। রোজার সময় খেজুর আমদানি করার জন্য এলসি খোলা হয়েছে। মসুর ডাল, ছোলা- এগুলো আমরা নিশ্চিত করছি। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি রোধে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। এটা আস্তে আস্তে কমে আসবে এবং সব পণ্যের দাম সহনীয় হবে।
খবরের কাগজ: উত্তরাধিকার সূত্রে একটা খারাপ অর্থনীতি পেয়েছেন। এর থেকে উত্তরণ খুব সহজ নয়। লক্ষ্য অর্জনে আপনি কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন বা নিচ্ছেন?
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: বিগত ১৫ বছরে যেসব কাজ হয়েছে বিশেষ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে, ব্যাংক সেক্টরে, পুঁজিবাজারে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, সেখানে আমরা দেখেছি অনেক অনিয়ম, অনেক দুর্নীতি, বহু দমন-পীড়ন হয়েছে। কিছুসংখ্যক লোকের হাতে সবকিছু কুক্ষিগত করা হয়েছে। যে আমদানি করে, সে আবার মিলের মালিক, সেই আবার ব্যাংকের মালিক- এগুলো মিলে সবকিছুতেই অনিয়ম-নৈরাজ্য হয়েছে। এগুলো আমরা ঠিক করার জন্য কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমরা দেখছি যে, বিভিন্ন জায়গায় যারা মালিক বা ব্যবসায়ী আছেন, তারা ঠিকমতো কর দিচ্ছেন কি না, ঠিকমতো স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন কি না, বিশেষ বিশেষ লোকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে একটা বিষয় হচ্ছে, কোনো ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি। যাদের সন্দেহ করা হয়েছে, তারাও অর্থাৎ সেই সব ব্যবসায়ী এখনো সক্রিয় আছেন। ব্যাংকের সঙ্গে ট্রানজ্যাকশন অ্যালাউ করা হয়েছে। তাদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে। সে জন্য একটা নিয়ম বেঁধে দেওয়া হলেও তাদের কর্মকাণ্ড যেন একেবারে ব্যাহত না হয়, সেটাও ভেবে দেখা হচ্ছে।
খবরের কাগজ: দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরেনি এখনো। ফলে পতনের ধারা অব্যাহত আছে। পুঁজিবাজারকে চাঙা করতে আপনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: দেশের পুঁজিবাজার সংস্কার করা হচ্ছে। যে শেয়ারের কোনো অস্তিত্ব নেই সেসব শেয়ারের ব্যাপারে নতুন যে নিয়ন্ত্রক আছে তাদের দেখতে বলা হয়েছে। যারা ছোট শেয়ার কিনে রেখেছে, তার পর দেখা যাচ্ছে কোম্পানিরই কোনো অস্থিত্ব নেই, তাদের পুরো টাকাটাই নষ্ট হচ্ছে। কাজেই ভালো কোম্পানির শেয়ার কিনতে হবে। শেয়ারবাজার জোর করে ওঠানো-নামানোর বিষয় নয়। এখানেও যারা দুর্নীতি করবে অথবা আগে করেছে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। তারাই আবার এখন নানা রকম অপপ্রচার করছে শেয়ারবাজারকে নিয়ে। পৃথিবীর সব দেশেই সবচেয়ে বেশি কেলেঙ্কারি হয়েছে ব্যাংকিং সেক্টর আর শেয়ার মার্কেট নিয়ে। আমরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। এনবিআরকে আমরা অটোমেটেড করছি। এবার ট্যাক্স রিটার্নের ক্ষেত্রে ঢাকা, গাজীপুরে ই-রিটার্ন দেবে। এখন আর হাতে হাতে নেওয়া হবে না। আমরা এই ব্যাপারগুলো উৎসাহিত করছি। যখন সব জায়গায় এটা অটোমেটেড হবে, তখন এমনিতেই এসব দুর্নীতি কমে যাবে। আমাদের বৈদেশিক বিনিময় স্থিতিশীল হয়েছে। এখানে স্বল্পকালীন, মধ্যমেয়াদি কিছু কাজ থাকবে। ট্যাক্সের বিভিন্ন আইন, ব্যাংকের আইনগুলো ব্যবহারে সময় লাগবে। তবে আমাদের এখন স্বল্পমেয়াদি কাজগুলো কেমন হচ্ছে সেগুলো বেশি দেখা হবে। মধ্যমেয়াদি প্রকল্প শুরু করা বা দীর্ঘমেয়াদি শুরু করলেও রাজনৈতিক দল যারা আছে তারা দেখবে। আমরা একটা রূপরেখা শুরু করে দিয়ে যাব। তারা সে ক্ষেত্রে আরও বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে যেন তা বাস্তবায়ন করতে পারে। অতএব সবাইকে এখন ধৈর্য ধরতে হবে। দ্রুতই সবকিছু করা সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, ১৫ বছরের এই অনিয়ম, এটা সহজেই অল্প সময়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।
[শেষ পর্ব আগামীকাল…]


.jpg)