জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দল ও অন্য অংশীজনদের সঙ্গে পঞ্চম দফায় বৈঠকে বসবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য সর্বদলীয় এই বৈঠকে বিএনপির যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়াও বিএনপির মিত্রদল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টিও বৈঠক অংশ নিচ্ছে না।
বিএনপির সূত্রমতে, দলের ভেতরে আলোচনা আছে, এই বৈঠকে অংশ নেবে না বিএনপি।
যদিও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই দলটি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা জানতে অপেক্ষা বাড়ছে।
আরেকটি সূত্রের দাবি, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে যোগ দিতে পারেন শুধুমাত্র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৈঠকে বিএনপি যাবে কিনা এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, তারা নির্বাচনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে আগে যে অবস্থানে ছিল, এখনো তারা সেই অবস্থানেই আছেন।
তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে আলাদা ঘোষণাপত্র দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, এলডিপি প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের প্রেস সেক্রেটারি সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক জানান, জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র তৈরির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নেবে না এলডিপি।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের রাজনৈতিক দল। বুধবার রাত ৯টা ৫১মিনিটে এসএমএস পাঠিয়ে দাওয়াত দেওয়াকে আমরা অসম্মানজনক অসৌজন্যমূলক আচরণ বলে মনেকরি। তাই আজকের সভা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে লেবার পার্টি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ এবং নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট, দল ও সংগঠনের নেতারা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
শফিকুল ইসলাম/অমিয়/