সমাজে মব জাস্টিসের নামে নারী নির্যাতন অব্যাহত থাকলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান।
‘মব জাস্টিস রুখতে অন্তর্বর্তী সরকার কেন চুপচাপ’ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে এখনো নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। পথে-ঘাটে নারীকে হেনস্তা করা হচ্ছে। এখনো নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন? একটা গোষ্ঠী বলছে মব জাস্টিস। কিসের মব জাস্টিস। মব জাস্টিস কারা করছে। সরকার কেনো চুপচাপ? সরকার কেন কথা বলছে না?’
শনিবার (৮ মার্চ) সকালে নয়া পল্টনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের র্যালি-পূর্ব সমাবেশে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত র্যালিটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে মহিলা দলের শতাধিক নারী সদস্য এতে অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, বিশ্ববিখ্যাত নন্দিত নেতা ড. ইউনূস এই সময়ে যারা বিভিন্ন অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে তাদের কঠোর হস্তে দমন করবেন এবং তাদের শাস্তি দেবেন। সমাজে যে অস্থিরতা-অস্থিতিশীলতা, সমাজে যে মব জাস্টিস, সমাজে যে নারী ধর্ষণ, এটা যদি বন্ধ করতে না পারেন তাহলে বাংলাদেশের জনগণ যে স্বপ্ন নিয়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছিল সেই স্বপ্ন আমাদের পূরণ হবে না।’
তিনি বলেন, নারী হেনস্তার মাধ্যমে কিছু লোক দেশকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে। এ জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের সম্মান রক্ষার্থে আরও সজাগ থেকে কাজ করতে হবে। নারী নিপীড়নের বিষয়ে সমস্বরে প্রতিবাদ করতে হবে। নারী উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রেী বেগম খালেদা জিয়ার নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সেলিমা রহমান।
সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর এখন একটি কথা বেরিয়েছে মব কালচার। এই মব কালচার তৈরি হলো কেন? আজকের অন্তর্বর্তী সরকার তো সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের সমর্থিত সরকার। এই মব কালচারে সমাজে কত যে নিপীড়ন-নির্যাতন হচ্ছে, তার কোনো ইয়ত্তা নাই। কত নারী ও কন্যাশিশু নিপীড়িত হচ্ছে এর পরিসংখ্যান যা আসে তা অল্প। কেন দুষ্কৃতকারীরা আধিপত্য বজায় রাখবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তাহলে সরকার কিসের জন্য।’
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় এই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। সমাবেশের পর একটি র্যালি কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁর মোড় হয়ে আবার নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।