ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায়
Nagad desktop

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট ওপরে গরম, ভেতরে নরম ৮ দল

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৭ এএম
ওপরে গরম, ভেতরে নরম ৮ দল
ছবি: সংগৃহীত

গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে মুখে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিলেও ভেতরে ভেতরে তুষ্ট জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দল। কার্যত নির্বাচনের দিনেই গণভোট মেনে নিয়েছে তারা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি থেকেও সরে আসছে। জানা গেছে, আপাতত বড় কোনো আন্দোলনের দিকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত দলগুলোর। এখন পূর্ণ মাত্রায় সংসদ নির্বাচনের কাজে মনোনিবেশ করেছে তারা। তবে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে রাখার নানা কৌশল অব্যাহত রাখবে। 

দলগুলোর একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার আট দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে মেনে নিয়েছেন। গণভোটের পক্ষে যাতে বেশি ‘হ্যাঁ’ পড়ে সে জন্য ব্যাপক প্রচার চালানোর পরামর্শ দেন নেতারা। কারণ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার লক্ষ্য থাকবে সব দলের। গণভোটে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে বলে বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারকে গণভোটের প্রচারের জন্য উদ্যোগ নিতে বৈঠকে আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে সমমনা আট দলের মূল্যায়ন হলো- বিএনপির তুলনায় তাদের দাবি বেশি পূরণ হয়েছে। বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা করে সংসদে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি (সংখ্যানুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব) চালু হচ্ছে, সাংবিধানিক আদেশ, সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের মতামত, গণপরিষদ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি এবং প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের মতো সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে দেওয়ায় তাদের দাবি পূরণ হয়েছে। এতে বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের গণভোটের দাবি পূরণ না হওয়ায় কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে জামায়াতসহ আট দলের আন্দোলন অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি আমলে নিচ্ছে না বিএনপি। দলটি বলছে, জুলাই সনদে বিএনপির চেয়ে জামায়াতের দাবি বেশি পূরণ হয়েছে। তার পরও আমরা মেনে নিয়েছি। কর্মসূচি তো আমাদের বিরুদ্ধে পালন করছে না, পালন করছে সরকারের বিরুদ্ধে। এটা সরকারের বিষয়। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু খবরের কাগজকে বলেন, ‘তারা (৮ দল) তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমার মনে হয়, বিএনপির বিরোধিতা করার জন্যই হয়তো তারা কর্মসূচি পালন করছে।’ 

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমমনা আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে এখন থেকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য জামায়াতকে পরামর্শ দেওয়া হয়। সব দলই আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হচ্ছে- যে আসনে যে দলের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী আছেন, সেই আসনটি তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এভাবেই আসন সমঝোতা করে তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি দলের কাছে তালিকাও চাওয়া হয়েছে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করা হতে পারে। পাশাপাশি এই বলয়ে আরও কয়েকটি দলকে দেখা যেতে পারে। তবে জোট হবে কি না, তার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। 

বৈঠকের পর গতকাল জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের আংশিক দাবি পূরণ হয়েছে। আলোচনা করে কর্মসূচির বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য যে গণভোট হবে, সেখানে তার দলসহ আট দল সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলবে। জনগণকেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই চলছে। এরই মধ্যে আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়টিও এসেছে। আট দলের আসন সমঝোতার বিষয়টি ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হবে। আমরা এখন আট দল একসঙ্গে আছি। সামনে দলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’

গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে দুই মাস ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ, গণমিছিল, সমাবেশ, সরকারকে স্মারকলিপি দেওয়াসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে জামায়াতসহ আট দল। অন্য দলগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা আট দল আসন সমঝোতা করেই নির্বাচনে যাব। এখানে নির্বাচনি জোট হবে না। কারণ জোট হলে তার শীর্ষনেতা ও শীর্ষদল থাকতে হয়। জোট হলে পরবর্তী সময়ে ঝামেলা তৈরি হয়। আমরা সবাই বসে আসন সমঝোতা করে প্রার্থী ঠিক করব। যেখানে যে দলের ভোটে লড়াই করার মতো হেভিওয়েট প্রার্থী আছেই, সবার পক্ষ থেকে সেই প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হবে। আমি খুলনা-৪ আসনে নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।’ 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনের দিন গণভোটের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া কারও উপায় নেই। কারণ এই সরকারকে শুরু থেকেই আমরা সব দলই সমর্থন দিয়েছি। তবে নির্বাচনের দিনে গণভোটের বিষয়টি যাতে চাপা পড়ে না যায়, সে জন্য দলীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারের পাশাপাশি গণভোটের ব্যাপারেও মানুষদের সচেতন করবেন।’

তিনি বলেন, গণভোটের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মানুষকে জানাতে প্রচারে আগ্রহী হতে হবে। 

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিরোধী নই। সমমনা আট দল নিজেদের মধ্যে আসন সমঝোতার ব্যাপারে একমত। আগামী দিনে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগবিরোধী এবং জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা আরও কোনো দল যদি যোগ দেয় তাদের আমরা স্বাগত জানাব।’ 

তিনি বলেন, ‘সব দলের কাছ থেকে তালিকা পাওয়ার পর আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমঝোতা হবে। তবে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই।’

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের প্রেমতলা এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পুরো মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে দেখানো হয়। ইতোমধ্যে ভিডিওটি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি করা হয়। মিছিলের সামনে একজন জাতীয় পতাকা বহন করছেন এবং তার পেছনে ব্যানার হাতে নেতা-কর্মীরা সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। এ সময় তারা শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। 

পাশাপাশি শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষেও স্লোগান দিতে শোনা যায়। পুরো মিছিলটি জেলা মোটরশ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পালং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শেখ সেলিমের ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি দেখানো হয়। ইতোমধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, বিষয়টি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দুপুরের দিকে প্রেমতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বিধান মজুমদার/রিফাত/

তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

দেশে চলমান চরম অর্থনৈতিক মন্দা, কর্মসংস্থানহীন বাজেট এবং জ্বালানি সংকটের কারণে তীব্র খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে ‘সৈনিক’ হিসেবে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

শনিবার (৬ জুন) দলের এক প্রয়াত নেতার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

কৃষি খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে সংকটের কারণে দেশে সার আমদানিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ, তেল ও সারের অভাবে শীতকালীন সেচ ও উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশে তীব্র খাদ্য সংকট এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। অর্থনৈতিক মন্দা ও সামাজিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশ চরম নৈরাজ্যের দিকে যাচ্ছে।’

দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, ‘মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির এবং সাধারণ মানুষের আয় সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সামনে আরও বাড়বে। নতুন বাজেটে কর্মসংস্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। মানুষ যদি খেতে না পারে, কথা বলতে না পারে, তবে তারা কীভাবে বাঁচবে?’

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় পার্টির অতীত সুশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির আমলে দেশে শান্তি ও সুশাসন ছিল, মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো ভয়ভীতি বা অনিশ্চয়তা ছিল না। জনগণ আজ আবারও জাতীয় পার্টির সেই স্থিতিশীল শাসনের কথা মনে করছে।’

রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান অস্থিরতার মধ্যে দলীয় সাংগঠনিক অবস্থান জোরদার করার তাগিদ দিতে গিয়ে জাপা চেয়ারম্যান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জি এম কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পরিষ্কারভাবে দুটি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে গেছে। এক পক্ষ সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তান আমলের মতো সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, ভিন্ন মতাবলম্বীদের দোসর বা দালাল আখ্যা দিয়ে নাজেহাল করছে। তারা সাধারণ জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, নির্যাতিত মজলুম মানুষও এর বিরুদ্ধে আস্তে আস্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ সমস্ত ওয়ার্ড ও থানার কমিটিগুলো পুনর্গঠন করতে হবে এবং সেখানে তরুণ ও ত্যাগী নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে।

মাঠপর্যায়ে সাতটি টিম কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি সামনের দিকে অনিশ্চিত ও অস্থির। এই পরিস্থিতিতে জনগণ জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের সুসংগঠিত সৈনিক প্রয়োজন। দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের সংগ্রামে শামিল হতে হবে।’

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোতালেব হোসেন এবং একটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষও রয়েছেন। 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর জেলা শহরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলের পরপরই পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি মামলায় তারা অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমন বলেন, ‘জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বকুল/রিফাত/

জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) বলেছে, ২০ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করে তুলবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।

শনিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

তারা বলেন, ‘সরকারের বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায্য ও গণবিরোধী। ভোক্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বিদ্যুতের মূল্যহ্রাসের জন্য গণশুনানির আয়োজন করা হোক। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিদ্যুতের মূল্য কমানোর বিকল্প পথের সন্ধান করা যেতে পারে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে কোনো যৌক্তিক কারণে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু বিইআরসি ও সরকার সে পথে না হেঁটে মূল্যবৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার অনৈতিক, অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণায় দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে মানুষ নানামুখী চাপের মধ্যে রয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধু গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে না, বরং এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপরও পড়বে।’

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তারা বলেন, ‘চলতি বছরই সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু মাত্র তিন মাস পার হতে না হতেই সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বৃদ্ধি করা হলো এবং বিদ্যুতের দামও প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হলো। এতে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ না করে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে।’

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের শর্ত পূরণের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে উল্লেখ করে নেতৃদ্বয় বলেন, ‘আমরা আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জনমত উপেক্ষা করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি দেশবাসীকে হতবাক ও উদ্বিগ্ন করেছে। এরই মধ্যে সরকার দুবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এখন আবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হলো। এর ফলে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যও বেড়ে যাবে, যার চাপ সাধারণ মানুষের ঘাড়েই এসে পড়বে।’

দলটির নেতারা অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার অথবা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের কল্যাণ ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে- এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিরত থাকতে হবে।’

অমিয়/

বিএনপি তিন মাসে অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
বিএনপি তিন মাসে অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। ছবি: খবরের কাগজ

বিএনপি তিন মাসে তাদের সাংগঠনিক অদক্ষতা ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে একটি অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুমিল্লার একটি কনভেনশন হলরুমে কুমিল্লা এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যা, ধর্ষণ, আন্দোলন বা অন্য কোনো ঘটনা ঘটলেই বলা হতো নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের আমলে এসব ঘটনা দিন দিন আরও বেড়ে চলেছে। তারা বলেছিল, ক্ষমতায় গেলে দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না। কিন্তু ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যেই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে দ্রব্যমূল্যও বাড়বে। গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ যে পরিমাণ দাম বাড়ায়নি, তারা মাত্র তিন মাসে ক্ষমতায় এসে তার চেয়েও বেশি দাম বাড়িয়েছে।’

যোগদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

পরে কুমিল্লা নগরী, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে আসা অন্তত ১০০ জন নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগদান করেন।

জহির শান্ত/রিফাত/