ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি শ্রেয়াসের প্রত্যাবর্তন, তিলকের উত্থান, আর ১৫ বছরের বিস্ময় সূর্যবংশী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ পুশইনের আড়ালে সীমান্তে মানবপাচারের অপচেষ্টা, সতর্ক বিজিবি-জনতা হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আনোয়ারায় দুই পরিবারের কাঁটায় বন্ধ শতাধিক পরিবারের চলার পথ হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী? চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান হলিউড অভিনেতা খুন, প্রেমিকার ছেলে গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে বাস-পিকআপভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ১ স্বর্ণ ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা এআই এজেন্টের নতুন প্ল্যাটফর্ম প্রজেক্ট সোলারা কেএফটির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তের বিশ্বজয়, রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক অর্জন সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায়  হামে এক শিশুর মৃত্যু নড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি মুকুসদপুরে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য ও নেইমারের প্রতিকৃতি জামালপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সাঘাটায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ চ্যাটজিপিটির মেমোরি ফিচারে বড় পরিবর্তন বিমানবাহিনী জাদুঘরে রেনেসন্স হোটেলের বাহার রেস্টুরেন্টে শুরু হচ্ছে ‘ম্যাজিক্যাল ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ’ বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ঘুঘুর বাচ্চা নামাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন ১০ জনকে পুশইনের ৩০ ঘণ্টা পরও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে তরুণীর হুমকি, ‘আমার স্বামী পুলিশ’ দেওয়ানগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে যুবক নিহত সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন
Nagad desktop

কিশোরগঞ্জে ব্যানার ধরার লোকও পেলেন না ‘কথিত’ বিএনপি নেতা রহিম মোল্লা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৩ পিএম
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩৯ পিএম
কিশোরগঞ্জে ব্যানার ধরার লোকও পেলেন না ‘কথিত’ বিএনপি নেতা রহিম মোল্লা
ছবি: খবরের কাগজ

সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম মোল্লা মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর নিজেকে বিএনপি বানাতে গিয়ে এবার বিএনপি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে নেমেছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে তার গুটিকয়েক অনুসারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারসহ সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে কিছু স্বজন ও ভাড়াটিয়া লোকজনদের নিয়ে কিশোরগঞ্জে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন আব্দুর রহিম মোল্লা। 

জেলা শহরের সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) এর সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতেও করেছেন অবাক কাণ্ড! মানববন্ধনের জন্য করেছেন ৩০টিরও বেশি ব্যানার। কিন্তু সেইসব ব্যানারের পিছনে দাঁড়ানোর মতো লোকজন পাননি তিনি। এমনকি ভালোভাবে ব্যানার ধরার জন্য লোকও ছিল না মানববন্ধন কর্মসূচিটিতে। ফলে বিশাল আকারের প্রতিটি ব্যানার নিয়ে ২/৩ জন করে ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এমনকি ব্যানার ধরার লোক না পাওয়ায় অনেকগুলো ব্যানার পাশ্ববর্তী দেওয়ালে টানিয়ে রাখা হয়।

নৌকায় ভ্রমণ শেষে নিজেকে এখন বিএনপির কর্মী বলে দাবি করছেন সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম মোল্লা। তিনি দাবি করছেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অথচ কিশোরগঞ্জের বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিষয়টি জানেন না। 

অনেকেই জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। এরপর ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চৌধুরী কামরুল হাসানের নৌকার যাত্রী হয়ে একরকম ভ্রমণবিলাসে দিন কাটিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, চাকরি জীবনে তিনি ছিলেন ‘দুর্নীতির বরপুত্র’। যে কারণে উপসচিব হিসেবেই চাকুরি শেষ করতে হয় তাকে। এরপরও তিনি নিজেকে পরিচয় দেন সচিব হিসেবে। আরও অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে না গিয়েও চাকরিকালীন প্রভাব কাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাগিয়ে নিয়েছেন আব্দুর রহিম মোল্লা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করে তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলেরও দাবি জানিয়েছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনীতিকে ব্যবসাবৃত্তি হিসেবে বেছে নিতে আব্দুর রহিম মোল্লা খোলস পাল্টে বিএনপির একজন সাজতে চাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে চেয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনয়ন। কিন্তু এ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে সেই চেষ্টায়ও ব্যর্থ হন আব্দুর রহিম মোল্লা। বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ কোনো পর্যায়ে তার কোনো পদ-পদবী না থাকার পরেও বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করতে চাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলছেন, এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী এবং জনসাধারণের সঙ্গে আব্দুর রহিম মোল্লার সম্পৃক্ততা নাই বললেই চলে। স্বভাবতই নিজ এলাকা ইটনাতেও কর্মসূচি পালন করলে তিনি মানুষ পাবেন না। এছাড়া মূলত ফজলুর রহমানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি নিজেকে হাইলাইট করতে চাচ্ছেন। এই কারণে তিনি কখনো ঢাকা এবং কখনো কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে টাকার বিনিময়ে লোকজন জোগাড় করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এর মাধ্যমে আব্দুর রহিম মোল্লা দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্তকেই প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করে চলেছেন। 

কেবল তাই নয়, তিনি ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এই তিন উপজেলার গণমানুষের আবেগ-অনুভুতির বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। কেননা, এই আসনে ফজলুর রহমানকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বসিত। দলীয় মনোনয়নে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি হাইকমান্ডের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

আব্দুর রহিম মোল্লার এমন তৎপরতার বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, দলে উনার কোনো পদ-পদবী নেই। এমনটি তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যও নন। তাই দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নেই।

নিজ এলাকায় কর্মসূচি পালন না করে জেলা সদরে কেন করেছেন? প্রাসঙ্গিকভাবে এই প্রশ্ন করেছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। জবাবে আব্দুর রহিম মোল্লা বলেছেন, এটি আমাদের জেলা শহর। এখানে আমাদের তিন উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ বসবাস করে। মিডিয়া, প্রশাসন ও জেলা বিএনপির নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এখানে কর্মসূচিটি করা হয়েছে।

তাসলিমা/মাহফুজ

হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এনসিপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।  

ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতার নাম আব্দুল গাফফার (২৯)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।

গাফফার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।  

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের পৈতৃক বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল স্থানীয় সাগরিয়া বাজারে এ হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিম সেফ হোমে ছিল। তখন আমিই হান্নান মাসউদকে সেফ করছি। তখন তাদের সব গুলো ভিডিও থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করছি। তার কারণে হান্নানের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সাথে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি। ৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন এতে আমি বাধা দিই।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে আমি রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসুদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদকে তার অনুসারীদের আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানাই। তিনি বলেন, ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শুনেনা। তারা যা করার করুক।’ 

ছাত্রদল নেতা গাফফার অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে হান্নানের নির্দেশে আমার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে, প্রধান ফটকে হামলা করে। পরবর্তীতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভয়ে আছে। মা-বাবা বলছে আমি যেন আর কোন বক্তব্য না দেই। আবারও তারা বাড়িতে হামলার আশঙ্কা করছে।’

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির স্টেটম্যান দেওয়ায় গত দুদিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নাস মাসউদের অনুসারী এনসিপি নেতাকর্মিরা হুমকি-ধমকি দেয়। যারা হুমকি দিয়েছে তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তীব্রিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে এটা এনসিপির নেতাকর্মী করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মিরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলো ট্যাকেল দিয়ে উঠতে পারি না, আমি আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব? পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক করা হয়েছে। যাতে করে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক কি করতে পারে।’

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার, ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মারছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার অংশ বিশেষ ভেঙে যায়। কে মারছে, কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

হানিফ সাকিব/তামান্না রুপা/

ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২৭ এএম
ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সভা ও মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ও সাবেক এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে পুলিশ বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করে।

মামলায় অজ্ঞাত আরও ৮০–৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রোসাংঙ্গিরি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট-মাইজভাণ্ডার সড়কে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মশাল মিছিল বের করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা মশাল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মো. জামান বাবু (২৩) ও সাইফুল ইসলাম (২৫) নামের দুই যুবককে আটক করা হয়। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাঁশের তৈরি মশাল জব্দ করা হয়।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রলীগের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দিলেও একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের 'সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির' বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে সহস্ত্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার ছাত্রলীগ যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকরা মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশে বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় এবং সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হব না এবং রাজপথ ছাড়ব না।

কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। পুলিশ প্রথমে আমাদেরকে বাধা দিলে আমাদের নেতাকর্মী ভয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করি এবং সমাবেশ করি। আমরা বিশ্বাস করি অতি দ্রুত আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে দেশের দায়িত্ব নিবেন এবং আমাদের নেত্রী দেশে ফেরার সাথে সাথেই বর্তমান সময়ের সন্ত্রাস চাঁদাবাজরা দেশ ছেড়ে পালাবে। 

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না । আমরা মিছিলে শুরুতে তাদের বাধা দিলেও পরবর্তীতে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।


ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। ছবি: খবরের কাগজ

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো হলে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমান হাদির সমাধিস্থলে আসে। সেখান থেকে হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে আলটিমেটাম দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। 

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকার হাদি হত্যার বিচারের কোনো রূপরেখা দেয়নি। সরকার কতদিনের মধ্যে আসামিকে ফিরিয়ে আনবে এবং এ হত্যার বিচার করবে, সে বিষয়ে জানতে চায় ইনকিলাব মঞ্চ। যদি আগামী শুক্রবারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সময়সীমা না দিতে পারে; আমরা বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে শাহবাগে লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এই কর্মসূচি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, আমরা জানি না।’

গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র।

রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।’

রিফাত/