সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম মোল্লা মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর নিজেকে বিএনপি বানাতে গিয়ে এবার বিএনপি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে নেমেছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে তার গুটিকয়েক অনুসারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারসহ সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে কিছু স্বজন ও ভাড়াটিয়া লোকজনদের নিয়ে কিশোরগঞ্জে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন আব্দুর রহিম মোল্লা।
জেলা শহরের সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) এর সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতেও করেছেন অবাক কাণ্ড! মানববন্ধনের জন্য করেছেন ৩০টিরও বেশি ব্যানার। কিন্তু সেইসব ব্যানারের পিছনে দাঁড়ানোর মতো লোকজন পাননি তিনি। এমনকি ভালোভাবে ব্যানার ধরার জন্য লোকও ছিল না মানববন্ধন কর্মসূচিটিতে। ফলে বিশাল আকারের প্রতিটি ব্যানার নিয়ে ২/৩ জন করে ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এমনকি ব্যানার ধরার লোক না পাওয়ায় অনেকগুলো ব্যানার পাশ্ববর্তী দেওয়ালে টানিয়ে রাখা হয়।
নৌকায় ভ্রমণ শেষে নিজেকে এখন বিএনপির কর্মী বলে দাবি করছেন সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম মোল্লা। তিনি দাবি করছেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অথচ কিশোরগঞ্জের বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিষয়টি জানেন না।
অনেকেই জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। এরপর ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চৌধুরী কামরুল হাসানের নৌকার যাত্রী হয়ে একরকম ভ্রমণবিলাসে দিন কাটিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরি জীবনে তিনি ছিলেন ‘দুর্নীতির বরপুত্র’। যে কারণে উপসচিব হিসেবেই চাকুরি শেষ করতে হয় তাকে। এরপরও তিনি নিজেকে পরিচয় দেন সচিব হিসেবে। আরও অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে না গিয়েও চাকরিকালীন প্রভাব কাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাগিয়ে নিয়েছেন আব্দুর রহিম মোল্লা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করে তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলেরও দাবি জানিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনীতিকে ব্যবসাবৃত্তি হিসেবে বেছে নিতে আব্দুর রহিম মোল্লা খোলস পাল্টে বিএনপির একজন সাজতে চাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে চেয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনয়ন। কিন্তু এ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে সেই চেষ্টায়ও ব্যর্থ হন আব্দুর রহিম মোল্লা। বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ কোনো পর্যায়ে তার কোনো পদ-পদবী না থাকার পরেও বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করতে চাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলছেন, এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী এবং জনসাধারণের সঙ্গে আব্দুর রহিম মোল্লার সম্পৃক্ততা নাই বললেই চলে। স্বভাবতই নিজ এলাকা ইটনাতেও কর্মসূচি পালন করলে তিনি মানুষ পাবেন না। এছাড়া মূলত ফজলুর রহমানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি নিজেকে হাইলাইট করতে চাচ্ছেন। এই কারণে তিনি কখনো ঢাকা এবং কখনো কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে টাকার বিনিময়ে লোকজন জোগাড় করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এর মাধ্যমে আব্দুর রহিম মোল্লা দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্তকেই প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করে চলেছেন।
কেবল তাই নয়, তিনি ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এই তিন উপজেলার গণমানুষের আবেগ-অনুভুতির বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। কেননা, এই আসনে ফজলুর রহমানকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বসিত। দলীয় মনোনয়নে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি হাইকমান্ডের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
আব্দুর রহিম মোল্লার এমন তৎপরতার বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, দলে উনার কোনো পদ-পদবী নেই। এমনটি তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যও নন। তাই দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নেই।
নিজ এলাকায় কর্মসূচি পালন না করে জেলা সদরে কেন করেছেন? প্রাসঙ্গিকভাবে এই প্রশ্ন করেছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। জবাবে আব্দুর রহিম মোল্লা বলেছেন, এটি আমাদের জেলা শহর। এখানে আমাদের তিন উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ বসবাস করে। মিডিয়া, প্রশাসন ও জেলা বিএনপির নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এখানে কর্মসূচিটি করা হয়েছে।
তাসলিমা/মাহফুজ