বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিম আসন্ন নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভোলা জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজুর রহমান।
খবরের কাগজ: বিভিন্ন দল থেকে অনেক দিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই ‘ভালো’ নির্বাচনের পরিবেশ দেখছেন এখন?
হাফিজ ইব্রাহিম: নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা দেওয়া, যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে খারাপ কিছু দেখছি না। এখন পর্যন্ত ঠিক আছে।
খবরের কাগজ: নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি? নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেমন মনে করছেন?
হাফিজ ইব্রাহিম: এ মুহূর্তে তো নির্বাচনের মূল কাজ শুরু হয়নি। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে প্রচার। বর্তমানে আমাদের লোকজন যারা মাঠে কাজ করছেন, প্রাথমিকভাবে তারা সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। ভোলা-২ আসন তথা বোরহানউদ্দিন-দৌলতখানে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হইনি।
খবরের কাগজ: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই। নির্বাচনের আগে এ ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি কি হয়েছে? কোথাও কি আরও কাজ করতে হবে?
হাফিজ ইব্রাহিম: ভোলা জেলায় চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোলা-২ এলাকাটি আওয়ামী লীগের সময় সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। আমি আমার বাড়িতে আসতে পারিনি। আমার স্ত্রী-সন্তান তারা পর্যন্ত বাড়িঘরে থাকতে পারেনি। তাদের ওপর হামলা হয়েছে। এখন এ মুহূর্তে এই জাতীয় কোনো কিছু নেই। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে এলাকায় অবস্থান করছে। পুলিশ তাদের কাজ করছে। খাতাপত্রে যারা সন্ত্রাসী, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। খারাপ যাদের পাওয়া যায় তাদের পুলিশ ধরছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো–এলাকা থেকে মাদক দূর করতে হবে। মাদকমুক্ত হলেই অনেক কিছুর সমাধান হবে। আর নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন–এটি করলেই হবে।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেমন দেখছেন?
হাফিজ ইব্রাহিম: এখন পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কথা হয়নি। আগামীতে কথা হতে পারে। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
খবরের কাগজ: নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?
হাফিজ ইব্রাহিম: নির্বাচনের দিন দুটি ব্যালটে ভোট হবে। একটি ব্যালটে এমপির জন্য ভোট দিতে হবে। আরেকটি ব্যালটে গণভোটের জন্য মতামত ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিতে হবে। এখানে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না, কারণ আমাদের লোকজন প্রায় সবাই লেখাপড়া জানে। কাজেই এখানে এমন কোনো সমস্যা হবে না।
খবরের কাগজ: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন?
হাফিজ ইব্রাহিম: প্রতিটি দলের নিজেদের লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা–এটিই হলো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতি উৎসাহী হয়ে কেউ যাতে কোনো কিছু না করে, সেদিকে রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ রাখতে হবে।
খবরের কাগজ: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
হাফিজ ইব্রাহিম: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। যা সত্য তাই গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া উচিত। কেননা গণমাধ্যমের কাজ কোনো পক্ষকে জেতানো নয়, বরং সত্যকে সামনে আনা এবং ভোটারের আস্থা রক্ষা করা। গণমাধ্যম যত দায়িত্বশীল হবে, নির্বাচন তত বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।