কুমিল্লায় হাম উপসর্গে ৬ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে শিশুটির মৃত্যু হয়।
রবিবার (৭ জুন) সকালে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. পিয়াস আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শিশুটি নগরীর নুরপুর এলাকার শিমুলের মেয়ে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, শিশুটি জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ হাম উপসর্গের পাশাপাশি নিমোনিয়াতেও আক্রান্ত ছিল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকাল ৬ টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. পিয়াস আহমেদ জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে এক জনের এবং হাম সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
জহির/আমান
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে একটি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) ভোর ৪টার দিকে ট্রেনটি সাফদারপুর স্টেশনে প্রবেশের আগেই দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী ও ঢাকার ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার টিম এখন ঘটনাস্থলে আছি। ট্রেনের বগি দুটি উদ্ধারের জন্য ঈশ্বরদী ও খুলনা থেকে রিলিফ ট্রেন রওনা দিয়েছে। রিলিফ ট্রেন পৌঁছালে কাজ শুরু করা হবে।’
তবে কখন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
মাহফুজুর রহমান/আজহার/
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টার ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোন সমাধান হয়নি। সীমান্তের শূন্যরেখায় এখনও অবস্থান করছেন ১১ জন ব্যক্তি।
এ ঘটনায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি সহযোগিতা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) রাত ৩টার দিকে বিএসএফ ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত অবস্থান নিয়ে পুশইনের চেষ্টা রুখে দেয়। তারপর থেকে ওই ১১ জন ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। ঘটনার ৩২ ঘণ্টা পার হলেও তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্টকর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে কমান্ডার পর্যায়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এদিকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবির সঙ্গে আমরাও সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিচ্ছি। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা সচেতন রয়েছি। কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
আরেক বাসিন্দা আনসারুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজন হলে স্থানীয়রাও বিজিবির পাশে থেকে সহযোগিতা করবে।’
তবে এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত টহলের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নবীন/আমান
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৭ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলার বড়তাকিয়া ও জোরারগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী একটি লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টারের (চালক) দ্রুত ও দূরদর্শী তৎপরতায় জরুরি ব্রেক চাপায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনের শত শত যাত্রী।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। ট্রেনটি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকা-সংলগ্ন একটি রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় একটি বালুভর্তি ট্রাক রেললাইনে উঠে বিকল হয়ে যায়। ট্রেনটি কাছাকাছি চলে আসায় লোকোমোটিভ মাস্টার লাইনে ট্রাকটি দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক চাপেন। ট্রেনের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শেষ রক্ষা হয়নি; ট্রেনটি ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে রেললাইনের উপর বেশ কিছু দূর টেনে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে দুর্ঘটনার পর পরই ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রেলরুটে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মীরা ও সীতাকুণ্ড অঞ্চলের উদ্ধারকারী দল এবং রেল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযান শেষে লাইন থেকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের অংশবিশেষ সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস পুনরায় সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে এবং এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং রেলক্রসিংটিতে গেটম্যানের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্তরা/অমিয়/
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া পরিদপ্তর আয়োজিত “ডেভেলপমেন্ট কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালক (অনূর্ধ্ব-১৫) ২০২৬”।
শনিবার ( ৬ জুন) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. আমিনুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ফুটবলের উন্নয়নে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা করেন যে, এই ধরনের অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট থেকে আগামী দিনের দক্ষ ও মানসম্পন্ন ফুটবলার বেরিয়ে আসবে, যারা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-২ অনুবিভাগ) জনাব মোঃ মাহফুজুল আলম খান।
তৃণমূলের উদীয়মান ফুটবলারদের দক্ষতা প্রদর্শন ও বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি আগামী ৮ জুন পর্যন্ত চলবে। আগামী সোমবার (৮ জুন) সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই ফুটবল উৎসবের পর্দা নামবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রীড়া পরিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদে ফুটবলাররা উপস্থিত ছিলেন।
ডেভেলপমেন্ট কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত ক্রীড়ামোদী। যখন ক্রিকেটের জন্য উজাড় করে দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। যখন ফুটবল হয় ফুটবলের জন্য চেষ্টা করে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্পোর্টসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের নতুন উদ্দ্যেগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর মাধ্যেমে তৃণমূল থেকে ফুটবলার, ক্রিকেটার, দাবাড়ু অ্যাথলেটিক্সের প্রতিভাবানদের তুলে আনা হবে। এছাড়াও বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্সগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে। খেলার মানকে এগিয়ে নিতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রিয়া অফিসার সৃজন করা হবে।
আমান/