আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি সংসদীয় আসনে ২ হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২১টি অতিগুরুত্বপূর্ণ এবং ৮২৭টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৫০.৫ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের শতকরা ভাগ ২৯.১৫ এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের শতকরা ২১.৯ ভাগ । নির্বাচন কমিশনে বরিশাল বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঠানো প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে বরিশাল মহানগর এলাকায় অতিঝুঁকিপূর্ণ বা অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ২৩টি।
বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত কয়েকটি উপজেলা আছে, যেখানে যাতায়াত কঠিন এবং ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা তুলনামূলক জটিল। ভোটকেন্দ্রে দুর্বল অবকাঠামো, অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, প্রার্থীদের বাড়িসংলগ্ন কেন্দ্র, কেন্দ্রভিত্তিক অতীত নির্বাচনে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার এলাকা ও মহাসড়ক এলাকায় কেন্দ্রের অবস্থান, জনসংখ্যাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে (অতিঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ) ভাগ করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে- বরিশাল বিভাগের ভোটকেন্দ্রগুলোর অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।’
বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিভাগে মোট ভোটকেন্দ্র ২ হাজার ৮৩৮টি। এর মধ্যে ৮২৭টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬২১টি অতিগুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলে নৌযান, অতিরিক্ত যানবাহন ও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইলেকশন ম্যাটেরিয়ালস পাঠানো, ভোটকর্মী পৌঁছে দেওয়া এবং ফিরে আসা সবই বড় চ্যালেঞ্জ। সেগুলো বিবেচনা করে কেন্দ্রগুলো সাজানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রত্যন্ত এলাকাতেও ১৫ মিনিটের মধ্যে ফোর্স পৌঁছানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভাগের ৬টি জেলায় ২১টি আসনের মোট ভোটার সংখ্য ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে বরিশাল মহানগর ও সদর উপজেলা মিলে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৩ হাজার তিনজন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৬টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ (অতিগুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রর সংখ্যা ২৩টি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্গম এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। এসব ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা সংযুক্ত থাকবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। এতে দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
বরিশালের রিটার্নিং অফিসার মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আমাদের আনুগত্য নেই। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোর কমিটি ইতোমধ্যে সভা করেছে। সন্ত্রাসীদের দমনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।