নরসিংদীর পাঁচটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এসব আসনে বিগত সময়ের তুলনায় এবার জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটের সমীকরণে জামায়াত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নরসিংদীর কাঁঠালিয়ায় জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১২ জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন।
এরমধ্যে নরসিংদী-২ আসনে এনসিপি প্রার্থী শাপলা কলীর পক্ষে সারোয়ার তুষার ফেসবুকে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিলেও পোস্টে দাবি করেন, শাপলা কলীর সঙ্গে 'বিশ্বাসঘাতকতা' করে ১১ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মওলানা আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। তার দাবি, জামায়াত কর্মীরা জোটের সঙ্গে 'গাদ্দারি' করেছে।
নির্বাচনের পর দ্বিতীয় দিনেই নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। নরসিংদী-২(পলাশ) ও নরসিংদী-১ (সদর) উপজেলায় জামায়াত সমর্থিত কর্মীদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কাঁঠালিয়া, আমতলা ও ডৌকাদী নিমতলায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহতদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াত সমর্থক কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোক্তার হোসেন, নয়ন মিয়া, আব্দুর রশিদ, বিথী আক্তার, বিউটি আক্তার ও আব্দুল জব্বার এবং বিএনপি কর্মী সাইফুল ইসলাম। তারা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলায় আহত কাঁঠালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জামায়াত কর্মীদের অতর্কিত হামলায় বিএনপির ৭-৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া তার বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, আহত জামায়াত কর্মীদের মধ্যে আব্দুল জব্বার গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার পরিবারের সদস্য বিথী আক্তার ও বিউটি আক্তার অভিযোগ করেন, 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে বিএনপির কর্মীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে।
নির্বাচনে জাল ভোটসহ কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ তুলেছেন নরসিংদী-১ আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর পরাজিত প্রার্থী ইব্রাহীম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, "আমার 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের এজেন্টরা কেন্দ্রে গিয়ে দেখে আগেই ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। আমার কর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে রক্তাক্ত হয়েছে। এছাড়া মাধবদী ও চরদিঘলদীসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।" তবে তিনি এও জানান যে, সার্বিক ফলে সন্তুষ্ট না হলেও আগের তুলনায় এবারের নির্বাচন কিছুটা ভালো ছিল।
এদিকে সদর আসনে গণফোরাম থেকে 'ট্রাক' প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছেন অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মীদের আধিক্য থাকায় তারা কোনো নির্বাচনি নিয়ম-নীতি মানেনি। এছাড়া বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টরা কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে ভোট চেয়েছে এবং তার এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দিয়েছে। সামগ্রিক নির্বাচন নিয়ে তিনি চরম হতাশা ব্যক্ত করেন।
শাওন খন্দকার শাহিন/এসএন