ভুল নীতি ও দুর্নীতি যদি এখান থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা না যায়, তাহলে জ্বালানিসংকট আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা।
তারা বলেছেন, বিগত সরকার যেভাবে কাঠামোগতভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা করে গেছে, সেই ব্যবস্থার ওপরই আছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সেই কাঠামো পরিবর্তন হয়নি। এ সময় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে জনবান্ধব নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান তারা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনবান্ধব জ্বালানি নীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জ্বালানি ব্যবস্থাপনার কাঠামো পরিবর্তন হয়নি। কাঠামো ভেঙে এই সরকার জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আসেনি। যে ব্যবস্থাপনা ছিল, সেই ব্যবস্থাপনার ওপরেই সরকার বসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সব অংশই কাঠামোগত দুর্নীতির সুবিধাভোগী। এই কাঠামো ভাঙার জন্য সরকারকেই শক্তিশালী হতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, ‘জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সময় আমরা কত টাকা ভবিষ্যতে সাশ্রয় করতে পারব, সেটা আমাদের চিন্তায় থাকতে হবে। জ্বালানিতে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হাসান আশরাফ বলেন, ‘তথাকথিত উন্নয়নের মডেলের মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আছে, সেখানে আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়েছে। সেখানে বিকল্প জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য উৎস খোঁজা উপেক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় আটকে গেছে। জ্বালানি এখন কেবল পণ্য না, বরং এটি এখন ক্ষমতা, অভিগম্যতা ও বৈষম্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু বলেন, ‘জ্বালানির ন্যায্য ও খাতভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা অতীতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আন্দোলন থেকে সরকারকে তার নীতি পরিবর্তনের যে পরামর্শ দিয়েছিলাম সেটা সরকার মানেনি। সরকার যদি এই পরামর্শগুলো এখনও না শোনে, ভুল নীতি ও দুর্নীতি যদি এখান থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা না যায়, তাহলে জ্বালানিসংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।’
সূচনা বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি মানেই খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অর্থাৎ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি। অন্যদিকে পেট্রল ও অকটেন তুলনামূলকভাবে সীমিত ও উচ্চ আয়ের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। এই বাস্তবতায় কোন খাতে জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে, সেই খাতের জাতীয় উৎপাদনে কী ভূমিকা, সেই খাতের ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কতটুকু ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করতে হবে।’
গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, মনির উদ্দিন পাপ্পু, সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী প্রমুখ।
শফিকুল/এসজি/