চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালী থানাধীন জামিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে নাশকতার চেষ্টা ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে ১৯ জন এবং খুলশী থানা পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের সামনের পাকা রাস্তা থেকে তাদের ধাওয়া করে পুলিশ। পরে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালী ও খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।
কোতোয়ালী থানায় গ্রেপ্তাররা হলেন- কোতোয়ালী থানার বদরপাতি লেইন এলাকার যুবলীগ নেতা মো. মহিউদ্দিন প্রকাশ মহিউদ্দিন (৩৯) এবং গোয়ালপাড়া এলাকার যুবলীগ নেতা মো. মুর্তুজা মেহেদী প্রকাশ মেহেদী হাসান (২২), মো. সুমন (২৪), মো. ইমন (২৩), মো. বশর প্রকাশ হাসান (২৪), মো. সজিব (২৭), মো. মুসা (৪২), মো. সোহেল (২৮), মো. মনির (৩৭), রায়হান (২৯), ইলিয়াছ প্রকাশ মিলন (২৬), মো. জাহিদুল হক প্রকাশ সোহাগ (২৪), মো. শাহিন (২৭), মো. শরীফ (২০), মো. ছোটন প্রকাশ রাকিব মিয়া (২৮), আলামিন (২৪), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৯), মো. রাসেল (২৫) এবং মো. জয়নাল (২২)।
খুলশী থানায় গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. জাহিদুল ইসলাম শিপন (২৭), জোবায়ের আলম (৩০), মো. মোর্শেদ আলম (৩০), মোমিনুল হাসান সাগর (১৯), আব্দুল মজিদ আলী (৫৪) ও মো. আমিনুল ইসলাম প্রকাশ সাব্বির (৩০)। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় হলেও বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জানাজা শেষ হওয়ার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতা-কর্মী কোতোয়ালী থানাধীন জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার ওপর সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করে। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ উদ্দিন ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়াদের ধাওয়া করলে তারা অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া ১৫টি ইটের টুকরা ও ৮টি কাঠের লাঠি জব্দ করে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, পুলিশের একাধিক টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের সিডিএমএস (সেন্ট্রাল ডাটাবেজ) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭ জনের বিরুদ্ধে আগের একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি, দ্রুত বিচার আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সুমনের বিরুদ্ধে খুনসহ দস্যুতা, মুসার বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলা রয়েছে।
কোতোয়ালী থানার ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী বলে স্বীকার করেছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রসারিত করা এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিল।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, জামিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে নাশকতার চেষ্টা ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ওয়াসার মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কোতোয়ালী ও খুলশী থানায় পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে তাদের যথাযথ পুলিশ পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিফাত/