রমজান আত্মসংযম, সংহতি ও আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু রমজানে ইফতার ও সাহরিকে কেন্দ্র করে ফাস্ট ফুডের অতিরিক্ত চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা স্বাস্থ্য ও রমজানের চেতনা উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক। অধিকাংশ ফাস্ট ফুডে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, লবণ ও চিনি থাকে। মেডিকেল সায়েন্স বলছে, দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের কম যেন স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে আসে এবং লবণ ৫ গ্রামের বেশি না হয়। কিন্তু আমরা ইফতারে ছোলা, পেঁয়াজু, বুন্দিয়া, বেগুনি, আলুর চপ ও বিরিয়ানির মতো উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেয়ে থাকি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর এমন ভারী ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে হজমে সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি ও পানিশূন্যতা বেড়ে যায়। ফলে রোজার আধ্যাত্মিক উপকারিতা যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি দৈহিক কর্মক্ষমতাও কমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ এখন উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি। অতিরিক্ত লবণ ও ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। রমজানে অতিরিক্ত বিলাসী ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রোজার মূল দর্শনের পরিপন্থি। ইফতার হওয়া উচিত সুষম ও পরিমিত- অতিরিক্ত নয়। মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা প্রচার করা প্রয়োজন। যেন ফাস্ট ফুডকে রমজানের ট্রেন্ড হিসেবে উপস্থাপন না করা হয়। রমজানে ফাস্ট ফুড থেকে বিরত থাকা কেবল স্বাস্থ্যগত সিদ্ধান্ত নয়। এটি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্বও বটে। ব্যক্তিগত সচেতনতা, পারিবারিক উদ্যোগ ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল প্রচারণাই পারে সুস্থ ও সংযমী রমজান গড়ে তুলতে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]