সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সুমহান সামাজিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের অতন্দ্র প্রহরী। একজন সাংবাদিক যখন তার কলম ধরেন, তখন তার পেছনে থাকে কোটি মানুষের আস্থা এবং সত্য জানার আকুলতা। এ আস্থাকে ধারণ করা কেবল দায়িত্ব নয়, বরং একটি পবিত্র আমানত। তাই সাংবাদিকতা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন ব্যক্তিগত চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং অটল নৈতিকতা। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির ভিড়ে সাংবাদিকতা এবং সাধারণ ইউটিউবারের মধ্যে পার্থক্যটি অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একজন সাংবাদিকের চলন-বলন ও রুচিবোধ যদি সাধারণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের মতো সস্তা জনপ্রিয়তামুখী হয়, তবে তিনি এই মহান পেশার মানকে ক্ষুণ্ণ বা কলঙ্কিত করেন। সাংবাদিকতার প্রাণ হলো তার গাম্ভীর্য ও ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিত্বহীন সাংবাদিকতা সমাজের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, আর বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো মানেই একজন সাংবাদিকের পেশাগত মৃত্যু। এ পেশায় সফল হতে হলে সবার আগে লোভ-লালসাকে বিসর্জন দিতে হবে। সাংবাদিকতা কোনো অর্থ উপার্জনের মেশিন নয়। যদি সত্য প্রকাশের আগেই মনে করেন, ‘কী পাব’ বা ‘কী খাব’ এমন ধান্দা তৈরি হয়, তবে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা হারিয়ে যায়। অবৈধ অর্থের মোহ এবং নীতিবিবর্জিত সাংবাদিকতা কেবল নিজের ভবিষ্যৎকেই অন্ধকারে ঠেলে দেয় না, বরং পুরো দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্ত করে। পরিশেষে, সাংবাদিকতায় টিকে থাকার একমাত্র মূলমন্ত্র হলো সততা। দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে একজন সাংবাদিককে হতে হবে নির্ভীক এবং নির্লোভ। নিজের নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে আর যাই হোক, প্রকৃত সাংবাদিক হওয়া সম্ভব নয়। সত্যের পথে অবিচল থেকে ব্যক্তিত্ব বজায় রাখাই হলো এই মহান পেশার প্রকৃত সার্থকতা।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]