ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয় যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও নদী রক্ষায় ১০ হাজার কোটির বেশি টাকার মহাপরিকল্পনা আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয় মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তবতা প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি খরচ বাড়লে বিপাকে পড়বে সাধারণ জনগণ পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাঁশি হাতে থাকছেন ব্রাজিলের উইল্টন সাম্পাইও টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক নিউ ইয়র্কে বিশেষ সম্মাননা পেলে ও অঁরিকে নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমছে মুক্তিযোদ্ধাসহ যাদের ভাতা বাড়বে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত আনচেলত্তির জন্মদিন আর ব্রাজিলের জন্মদিন, কিছুতেই নেই নেইমার আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
Nagad desktop

রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘‌আলিমুল গায়েব’ ছিলেন না

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:২০ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:২৫ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘‌আলিমুল গায়েব’ ছিলেন না
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ লেখা আরবি ক্যালিগ্রাফি। ইন্টারনেট

একদল মানুষ নবীজি (সা.)-কেই আলিমুল গায়েব (অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী) বানিয়ে দিয়েছে। তাকে সর্বজ্ঞানী সাব্যস্ত করেছে। তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ইলমের মাঝে পার্থক্য কী রইল? এভাবে মুসলিমদের কিছু সম্প্রদায় নবিজির ব্যাপারে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছে। অথচ নবীজি এই বাড়াবাড়ি থেকে আগেই সতর্ক করে গিয়েছিলেন, ‘তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না, যেভাবে খ্রিষ্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে। আমি তো শুধু আল্লাহর বান্দা। তাই তোমরা বলো, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর নবী।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৪৪৫) 

তাদের কথা হলো, ‘এত কিছু যিনি জানেন, তিনি আলিমুল গায়েব হন না কী করে? যিনি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সাহাবিদের সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে ও কী ঘটবে সবকিছু বলে দিয়েছেন, তিনি আলিমুল গায়েব হন না কী করে?’
উত্তর হলো, এটা মুদ্রার এক পিঠ। অন্য পিঠে তারা দৃষ্টি দিলেই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারতেন, বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়িমুক্ত ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বাসের অনুসারী হতে পারতেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় অসংখ্য বিষয় জানতেন না। 

কয়েক কদম দূরে পড়ে থাকা তার স্ত্রী আয়েশা (আ.)-এর ‘হার’ সম্পর্কে তার অবগতি ছিল না। অথচ হাজার বছর আগে শত সহস্র মাইল দূরত্বে অবস্থিত তূর পর্বতে কী ঘটেছিল-তা তিনি জানতেন। তার স্ত্রী আয়েশা (আ.)-এর চরিত্রে অপবাদের কালিমা লেপন করা হলে দীর্ঘ এক মাস তিনি ব্যথিত-ভারাক্রান্ত ও সিদ্ধান্তহীন থাকেন। বাস্তবে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে অনবগত থাকেন। অথচ শত শত বছর আগে ফিলিস্তিনের ছোট্ট এক গ্রামে ঈসা (আ.)-এর মা মারইয়ামের সম্প্রদায় তার চরিত্রে কালিমা লেপন করলেও তিনি যে পবিত্র ও নিষ্কলুষ ছিলেন, তা তিনি জানতেন! 

এর মূল কারণ অহি। সাধারণ মানুষ থেকে নবি-রাসুলগণকে অসাধারণ করে এই অহি। অহির বাইরে তারা মানুষ। ফলে অহির মাধ্যমে যখন তাদের জানানো হয়; তখন অতীত ও ভবিষ্যতের যেকোনো নিগঢ় বিষয় তাদের সামনে দৃশ্যমান হয়ে ভাসতে থাকে। বিপরীতে অহি না এলে তারা দেওয়ালের ওপাশে কী আছে; সেটাও বলতে পারেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। এটা তো অহি, যা তার প্রতি প্রেরিত হয়।’ (সুরা নাজম, আয়াত: ৩-৪) 

আল্লাহতায়ালা তাদেরকে যতটুকু জানান; ততটুকু তারা জানেন। এর বাইরে অদৃশ্য জ্ঞানের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কিয়ামতের আলামতগুলোর কিছু অংশ আল্লাহতায়ালা নবী-রাসুলকে জানিয়েছেন, যেন তারা মানুষকে সেগুলো জানিয়ে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রাসুলের দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেওয়া। তোমরা যা প্রকাশ করো আর যা গোপন করো সব আল্লাহ জানেন।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৯৯) 

জিবরাইল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাবে বলেন, ‘প্রশ্নকারীর চেয়ে প্রশ্নকৃত ব্যক্তি বেশি জানে না।‘ (অর্থাৎ এই বিষয়ে আমিও আপনার মতো কিছুই জানি না তখন জিবরাইল (আ.) কিয়ামতের আলামতের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে নবিজি অহির ভিত্তিতে জিবরিলকে কয়েকটি আলামতের কথা জানান।’ (মুসলিম, হাদিস: ৮) 

নবি-রাসুলদের দায়িত্ব শুধু আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। গায়েবের অধিকারী হওয়া, গায়েবের জ্ঞান লুকিয়ে রাখা, নিজেদের পক্ষ থেকে যোগ-বিয়োগ করা, কোনো কিছু তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-স্বাধীনতার ওপর নির্ভরশীল নয়।

লেখক : আলেম ও গবেষক

 

হাদিস যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি চোখ বুজে কল্পনা করুন, আপনি কয়েকজন বন্ধু বা পরিবার নিয়ে এক কোনায় বসে আল্লাহর প্রশংসা করছেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশ থেকে ডানা মেলে একদল ফেরেশতা এসে আপনাদের চারপাশে ঘিরে ধরলেন! শুধু কি তাই? তাদের ডানার বিস্তার ছড়াতে ছড়াতে একেবারে প্রথম আসমান পর্যন্ত পৌঁছে গেল এবং স্বয়ং মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহর কাছে আপনাদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হলো! এটি কোনো কাল্পনিক রূপকথা নয়, বরং আধ্যাত্মিক জগতের এক পরম বাস্তব। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জিকিরের মজলিসের এমন এক অনন্য অদৃশ্যের খবর দিয়েছেন, যা শুনলে যেকোনো মানুষের হৃদয় ঈমানের আলোয় আন্দোলিত হয়ে উঠবে।

মহাবিশ্বে আল্লাহর এমন কিছু বিশেষ ফেরেশতা আছেন, যাদের একমাত্র দায়িত্বই হলো দুনিয়ার বুকে কোথায় আল্লাহর নাম নেওয়া হচ্ছে তা খুঁজে বের করা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর অতিরিক্ত কিছু ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা আছেন, যারা ঘুরেফিরে জিকিরের মজলিস খুঁজতে থাকেন। যখন তারা এমন কোনো সম্প্রদায় বা মজলিস পেয়ে যান, তখন একে অপরকে ডেকে বলেন, ‘এসো, তোমাদের উদ্দেশ্যের দিকে।’ অতঃপর তারা নিজেদের ডানা দিয়ে তাদেরকে প্রথম আসমান পর্যন্ত ঢেকে ফেলেন। (বুখারি, ৬৪০৮; মুসলিম, ২৬৮৯)


যখন বান্দারা জিকির শেষ করে, তখন ফেরেশতারা আসমানে আরোহণ করেন। তখন আল্লাহতায়ালা সবকিছু জানা সত্ত্বেও ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার বান্দারা কী বলছিল?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তারা আপনার তাসবিহ, তাকবির ও তাহমিদ (প্রশংসা) করছিল।’ তখন আল্লাহ ও ফেরেশতাদের মধ্যে এক চমৎকার প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে:

আল্লাহ: তারা কি আমাকে দেখেছে?

ফেরেশতা: না, হে প্রতিপালক! তারা আপনাকে দেখেনি।

আল্লাহ: কেমন হতো যদি তারা আমাকে দেখত?

ফেরেশতা: তারা আপনাকে দেখলে আরও বেশি ইবাদত ও তাসবিহ করত।

আল্লাহ: তারা কী চায়?

ফেরেশতা: তারা আপনার জান্নাত চায় এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ (আশ্রয়) চায়।

আল্লাহ: তারা কি জান্নাত বা জাহান্নাম দেখেছে?

ফেরেশতা: না, তারা দেখেনি।

আল্লাহ: কেমন হতো যদি তারা তা দেখত?

ফেরেশতা: দেখলে তারা জান্নাতের জন্য আরও বেশি ব্যাকুল হতো এবং জাহান্নামকে আরও বেশি ভয় করত।

তখন আল্লাহতায়ালা এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের সবাইকে মাফ করে দিলাম, তাদের চাওয়া পূরণ করলাম এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলাম। ( বুখারি, ৬৪০৮; তিরমিজি, ৩৬০০)

এই হাদিসের সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং একদম নতুন যে দিকটি আমাদের চোখ খুলে দেয়, তা হলো আল্লাহর ক্ষমার এক পরম উদারতা। ফেরেশতারা তখন আল্লাহকে বলেন, ‘হে প্রতিপালক! ওই মজলিসে অমুক নামের একজন চরম পাপী লোক ছিল, সে আসলে জিকির করতে বসেনি, বরং নিজের একটা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এমনিই তাদের সাথে এসে বসেছিল। আল্লাহতায়ালা তখন উত্তর দেন, আমি তাকেও ক্ষমা করে দিলাম! কারণ তারা এমন এক দল, যাদের পাশে যে এসে বসে, সেও কখনো বঞ্চিত বা হতভাগা হয় না। (মুসলিম, ২৬৮৯; মুসনাদে আহমাদ, ৭৩৭৬)

এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, ভালো মানুষের পাশে বসার মূল্য আল্লাহর কাছে কত বেশি। আপনি হয়তো নিজে অনেক বড় ইবাদতকারী নন, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তাদের সান্নিধ্যে থাকলে আপনার অজান্তেই আপনার জীবনের পাপের খাতা শূন্য হয়ে যেতে পারে। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মের নামে নতুন কিছু যোগ করা কি সত্যিই পুণ্য, নাকি তা বিনাশের কারণ? ইসলামের মূল সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে চিরন্তন দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, বর্তমান সমাজে তা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষের তৈরি মনগড়া রীতিনীতি কীভাবে দ্বীনের আলো থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, তারই এক প্রামাণ্য চিত্র উঠে এসেছে নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহে।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে নতুন কোনো সংযোজনের সুযোগ নেই। উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০)।

অর্থাৎ, ইবাদত মনে করে দ্বীনের মাঝে নিজস্ব কোনো নিয়ম তৈরি করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। জাবের (রা.) বর্ণিত অন্য এক হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবায় বলতেন, শ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত মুহাম্মাদের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি (বিদ‘আত) এবং প্রত্যেক বিদ‘আতের পরিণতিই হলো পথভ্রষ্টতা ও জাহান্নাম (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১; নাসাঈ হা/১৫৭৮)।

ইসলামে প্রথার চেয়ে বিশ্বাসের শুদ্ধতা বড়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে জানা যায়, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি তিনজন:

১. হারামে নিষিদ্ধ কাজ বা সীমা লঙ্ঘনকারী।

২. ইসলামের ভেতরে এসেও জাহেলি যুগের রীতিনীতি বা কুসংস্কার চালু করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি।

৩. অন্যায়ভাবে কারও রক্তপাতকারী (বুখারি, মিশকাত হা/১৪২)।

ইসলামি আদর্শের বাইরে যেকোনো মনগড়া উৎসব বা অন্ধ অনুকরণই যে জাহেলিয়াত, তা এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী। একদা ফেরেশতারা তাঁর নিদ্রিতাবস্থায় (যার অন্তর জাগ্রত ছিল) একটি রূপক উদাহরণ দেন যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন করলেন এবং দূত পাঠালেন। যারা দূতের ডাকে সাড়া দিল, তারা ভোজ অংশ নিল।

এখানে গৃহটি হলো জান্নাত আর আহ্বানকারী স্বয়ং মুহাম্মাদ (বুখারি, মিশকাত হা/১৪৪)। সুতরাং, রাসুলের অবাধ্য হয়ে জান্নাতে প্রবেশের কোনো বিকল্প পথ নেই। ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক মর্মস্পর্শী বক্তব্য দিলেন যা শুনে সাহাবিদের চোখ অশ্রুসজল হলো। বিদায়ী এই উপদেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বহু মতভেদ প্রকাশ পাবে।

তখন তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে... মাড়ির দাঁতসমূহ দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। (আহমাদ, আবু দাঊদ, তিরমিজি, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৬৫)। ধর্মের নামে প্রচলিত সব কুসংস্কার ও বিদ‘আত বর্জন করে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের দেখানো খাঁটি সুন্নাহর পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত?

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত?
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি জানেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিঠে এমন এক অলৌকিক চিহ্ন ছিল, যা দেখে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের পণ্ডিতরা তাঁকে শেষ নবি হিসেবে চিনে নিতেন? কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর দুই কাঁধের মাঝের সেই পবিত্র ‘মোহরে নবুওয়াত’, যা দেখে সাহাবিদের চোখ আটকে যেত?

মোহরে নবুওয়াত হলো মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবয়বে দেওয়া এক অনন্য সিলমোহর ও নবুওয়াতের চূড়ান্ত নিদর্শন। এটি ছিল তাঁর দুই কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত একটি বিশেষ কুদরত।

সাহাবিরা বিভিন্ন সময়ে এই মোহরে নবুওয়াত অত্যন্ত কাছ থেকে অবলোকন করেছেন। বিখ্যাত সাহাবি সা’ইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) তাঁর শৈশবের এক স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বলেন, একবার তাঁর খালা তাঁকে নিয়ে নবিজি (সা.)-এর কাছে যান। নবিজি (সা.) তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন এবং অজু করেন। সা’ইব বলেন, ‘আমি তাঁর অজুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম এবং তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সহসা তাঁর দুই কাঁধের মধ্যস্থিত মোহরে নবুওয়াতের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে, যা দেখতে পাখির (কবুতরের) ডিমের মতো।’ (সহিহ বুখারি, ১৯০; সহিহ মুসলিম, ৬২৩৩)

এই চিহ্নের রং ও অবয়ব কেমন ছিল, তা আরও স্পষ্ট জানা যায় হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে মোহরে নবুওয়াত দেখেছি। আর তা যেন ছিল ডিমের মতো লাল গোশতপিণ্ড।’ (সহিহ মুসলিম, ৬২৩০; মিশকাত, ৫৭৭৯)

নবিজি (সা.)-এর এই সিলমোহরটি দেখার জন্য সাহাবিদের মনে প্রবল আগ্রহ থাকত। আনসারি নারী সাহাবি হজরত রুমায়সা (রা.) বলেন, ইসলামের মহান বীর সা’দ ইবনে মুয়াজ (রা.)-এর ওফাতের দিন রাসুল (সা.) এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন যে, সা’দের মৃত্যুতে রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে। রুমায়ছা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন এ উক্তি করেন তখন আমি তাঁর এত নিকটে ছিলাম যে, ইচ্ছে করলে তাঁর মোহরে নবুওয়াত চুম্বন করতে পারতাম।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৬৮৩৬; মু’জামুল কাবীর, ২০১৬৫)

মোহরে নবুওয়াতের গঠনশৈলী নিয়ে আরেকটি চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায় আবু জায়েদ আমর বিন আখতাব আনসারি (রা.)-এর হাদিসে। নবিজি (সা.) একবার তাঁকে ডেকে বললেন, ‘হে আবু জায়েদ! আমার কাছে এসো এবং আমার পৃষ্ঠদেশে হাত বুলাও।’ তিনি যখন পিঠে হাত বুলাচ্ছিলেন, তখন তাঁর আঙুলগুলো সেই মোহরে নবুওয়াতের ওপর গিয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সেই মোহরটি আসলে কেমন ছিল? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তা ছিল এক গুচ্ছ কেশ।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২২৯৪০; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪১৯৮)

মুহাদ্দিসিনদের মতে, সেই গোশতপিণ্ডের ওপর বা তার চারপাশে একগুচ্ছ সুবিন্যস্ত চুল ছিল, যা দূর থেকে বা স্পর্শ করলে চুলের গুচ্ছের মতোই অনুভূত হতো। এটি কোনো শারীরিক ত্রুটি ছিল না, বরং ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে খোদাই করা এক পরম সৌন্দর্য, যা কেবল শেষ নবির ভাগ্যেই জুটেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?
ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতাবশত বিছানা, কাঁথা বা কম্বলে নাপাকি লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে শিশুদের প্রস্রাব বা অন্য কোনো কারণে ভারী তোশক বা জাজিম অপবিত্র হয়ে পড়লে তা ধুয়ে পরিষ্কার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় ওই ঘরে বা বিছানায় নামাজ আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে মুসল্লিদের মনে অনেক সময় সংশয় তৈরি হয়। ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে।

যদি বড় কোনো কাঁথা বা কম্বলের নির্দিষ্ট এক অংশে নাপাকি লাগে, তবে এর অপর ‘পাক’ বা ঘরের পবিত্র অংশে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েজ। অর্থাৎ, পুরো কাপড়টি ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়; বরং যেখানে নাপাকি নেই সেখানে সিজদা করা এবং দাঁড়ানো যাবে। তবে শর্ত হলো, নাপাক অংশের আর্দ্রতা যেন পবিত্র অংশে স্থানান্তরিত না হয়।

ভারী তোশক, জাজিম বা ম্যাট্রেস যা সচরাচর ধোয়া সম্ভব হয় না, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিধান কিছুটা ভিন্ন। যদি তোশকের এক পিঠে নাপাকি লাগে এবং এর অপর পিঠে নাপাকির কোনো রং, গন্ধ বা ভেজা ভাব প্রকাশ না পায়, তবে ওই অপর পিঠে নামায আদায় করা যাবে। ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৬২) ও রদ্দুল মুহতার (১/৪০২) অনুযায়ী, নাপাকির প্রভাব অপর পিঠে না পৌঁছালে তা ব্যবহারের জন্য পবিত্র বলে গণ্য হবে।

যদি তোশক বা জাজিমের নাপাকি শুকিয়ে যায় কিন্তু তা ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে এর ওপর একটি পবিত্র জায়নামাজ বা মোটা কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। এতে নিচের নাপাকি নামাযে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ও আসসিআয়া-র বর্ণনা অনুযায়ী, শুকনো নাপাকির ওপর পবিত্র স্তর থাকলে তা ইবাদতের জন্য বাধা নয়।

পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। ভারী আসবাবপত্র পরিষ্কারের জটিলতা বিবেচনায় ফকিহগণ যে শিথিলতা দিয়েছেন, তা আমাদের ইবাদতকে সহজতর করে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সম্ভব হলে নাপাক স্থানটি মুছে নেওয়া বা রোদে শুকিয়ে নেওয়া উত্তম।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ
ছবি: সংগৃহীত

আজকের সমাজে মেকি জৌলুস আর চাটুকারিতার জোরে যখন কোনো মিথ্যাবাদী বা কপট ব্যক্তি সমাজের চালকের আসনে বসে, তখন আমরা অনেকেই তা স্বাভাবিকভাবে নিই। কিন্তু এর আধ্যাত্মিক প্রভাব কতটা ভয়াবহ? রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তোমরা মোনাফিককে নেতা হিশেবে গ্রহণ করো না; কারণ যখন কোনো ব্যক্তি একজন মিথ্যুক মোনাফিককে ‘হে আমার নেতা!’ বলে সম্বোধন করে, সে তখন তার প্রতিপালককে রাগান্বিত ও অসন্তুষ্ট করে তোলে (আবু দাউদ হা/৪৯৭৭; তারগীব হা/৪১৭৫)।

আধুনিক করপোরেট বা সামাজিক ডিলিংসে আমরা ‘ইনটিগ্রিটি’ বা সততার বড্ড অভাব দেখি। রাসুল (সা.) পাক্কা মোনাফিকের চারটি স্বভাবের কথা বলেছেন, যা আজকের সমাজের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আমানতের খিয়ানত করা, কথায় কথায় মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং কোনো কারণে কারও সঙ্গে বিবাদ বা ঝগড়া বাধলে অত্যন্ত নোংরা ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০)।

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অসত্য বা সাজানো খবর মুহূর্তেই দেশজুড়ে ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। কিন্তু এই সস্তা প্রচারের আড়ালে কী ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে? হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত এক দীর্ঘ ও অলৌকিক হাদিসে রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি স্বপ্নের বিবরণ পাওয়া যায়। সেখানে তিনি দেখেন, এক ব্যক্তির গালে লোহার সাঁড়াশি ঢুকিয়ে তা গর্দানের পিছন পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছে। সঙ্গী ফেরেশতাদ্বয় জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) রাসুলকে জানান–এই ব্যক্তি দুনিয়ায় এমন মিথ্যা বলত, যা মুহূর্তেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। কিয়ামত পর্যন্ত তার এই শাস্তি চলতে থাকবে (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

আজকের যুগে আমরা অনেকেই রাতে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে ঘুমিয়ে যাই, কিন্তু পবিত্র গ্রন্থের কোনো আমল আমাদের জীবনে থাকে না। রাসুলের দেখা সেই স্বপ্নে আরও ছিল, ভারী পাথর দিয়ে এক ব্যক্তির মাথা চূর্ণ করা হচ্ছিল, কারণ সে কোরআন শিক্ষা করার পরও তা থেকে গাফেল হয়ে রাতে ঘুমাত এবং দিনেও নির্দেশ মেনে চলত না। এ ছাড়া তন্দুরের মতো সংকীর্ণ অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষের জ্বলন্ত চিৎকার ছিল ব্যভিচারী বা জেনাকারীদের শাস্তি এবং রক্তের নদীতে পাথরের আঘাতে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তিটি ছিল সমাজের রক্তচোষা সুদখোর (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

রাসুল (সা.)-এর দেখা এই অলৌকিক স্বপ্নের শেষে জান্নাতে সাধারণ মুমিন ও শহিদদের মনোরম আবাসন এবং জাহান্নামের দারোগা মালেককেও দেখানো হয়। সমাজকে সুন্দর করতে এবং হাশরের সেই ভয়ংকর শাস্তি থেকে বাঁচতে আজই আমাদের মিথ্যা, খিয়ানত আর মোনাফিকির পথ পরিহার করা উচিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক