মানুষ সৃষ্টির আগে আল্লাহতায়ালা জিনদের সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কালো কাদামাটি থেকে, যা শুকিয়ে ঠনঠনে হয়েছিল। আর তাদের আগে জিনকে সৃষ্টি করেছি লেলিহান অগ্নিশিখা থেকে।’ (সুরা হিজর, আয়াত: ২৬-২৭)
ইবলিস ও জিন সম্পর্কে আল্লাহ মানুষকে যতটুকু জানিয়েছেন, এর বাইরে তাদের অবয়ব, আকৃতি ও ক্ষমতা সম্পর্কে মানুষ তেমন কিছুই জানে না। মানুষের মতো জিনদেরও চোখ, কান ও হৃদয় আছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি অনেক জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য। তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা অনুধাবন করে না। তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না। তাদের কান আছে, কিন্তু দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তার থেকেও নীচ; তারাই অমনোযোগী।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৭৯)
আল্লাহ বলেছেন, জিনদের অন্তর, চোখ ও কান আছে। একইভাবে শয়তানদের কণ্ঠস্বরও রয়েছে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তাদের (বনি আদমের) মধ্যে যাদের পারো, তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে সত্যচ্যুত করো।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ৬৪)
বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত কিছু হাদিস থেকে জানা যায়, শয়তানদের জিহ্বা ও লালা আছে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, “তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পেছনে ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। হঠাৎ নবি (সা.) তেলাওয়াতের মাঝে এদিক-সেদিক করে ফেলেন। নামাজ শেষ করে তিনি বলে ওঠেন, ‘তোমরা যদি আমাকে আর ইবলিসকে দেখতে পেতে! আমি তাকে জাপটে ধরে তার শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করছিলাম। এমনকি আমার বৃদ্ধাঙ্গুলি আর তর্জনীতে তার লালার শীতলতা টের পাচ্ছিলাম। আমার ভাই সুলাইমানের দোয়া না থাকলে আজ সকালে তোমরা তাকে মসজিদের খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় পেতে। আর মদিনার বাচ্চারা তাকে নিয়ে খেলা করত।” (মুসলিম, হাদিস: ৫৪২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে সুলাইমান (আ.)-এর যে দোয়ার কথা বলেছেন, সেটি হলো, “সুলাইমান (আ.) বললেন, ‘হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন এবং এমন রাজত্ব দান করুন, যা আমার পরে আর কেউ পাবে না।’ (সুরা সাদ, আয়াত: ৩৫)
এই দোয়ার ফলে জিন জাতিকে সুলাইমান (আ.)-এর অধীন ও বাধ্য করে দেওয়া হয়। তিনি তাদের ওপর কর্তৃত্ব খাটাতে পারতেন। তার পরে আর কাউকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। প্রত্যেক নবি-রাসুলকে আল্লাহতায়ালা বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে সবার চেয়ে অনন্য ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)।
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক