কোরআনুল কারিম কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নাজিলকৃত চিরন্তন বার্তা, হেদায়েতের আলোকবর্তিকা এবং জীবনবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংবিধান। মুমিনের হৃদয়ে এর স্থান অপরিসীম। ঈমানের অন্যতম দাবি হলো, এই মহাগ্রন্থের প্রতি গভীরতম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং পূর্ণ আনুগত্য।
এই ভালোবাসার এক নিবিড় প্রকাশ হলো- এর গভীরতম জ্ঞান অর্জন। যেমন প্রিয়জনের প্রতিটি কথা, প্রতিটি ভাব জানতে মন আকুল হয়, তেমনি মুমিনের অন্তরে কোরআনের প্রতিটি সুরা, প্রতিটি আয়াত এবং এর অন্তর্নিহিত ভাবার্থ জানার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগে।
এই আকাঙ্ক্ষার পথে প্রথম ধাপ হলো, সুরাসমূহের নামের তাৎপর্য অনুধাবন করা এবং প্রতিটি সুরার মূল আলোচ্য বিষয়ের পরিচয় লাভ করা। সুরার নাম কেবল পরিচায়ক চিহ্ন নয়, বরং এতে লুকিয়ে আছে সুরার মূল বার্তা, বিশেষ ঘটনা ও গভীর ইঙ্গিত। আর আলোচ্য বিষয়? তা তো সরাসরি আমাদের জীবনপথের দিকনির্দেশক।
এই মহান গ্রন্থের সঙ্গে আরও নিবিড়, অর্থবহ ও প্রেমময় সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ থেকেই নির্ভরযোগ্য অনূদিত সংক্ষিপ্ত তাফসিরগ্রন্থের নির্যাস নিয়ে সাজানো হয়েছে এই সুরা-পরিচিতি সংকলন। ইনশাআল্লাহ, এটি আপনার কোরআন-প্রেমকে আরও শক্তিশালী ও আলোকিত করে তুলবে।
সুরা তওবা
এ সুরায় কয়েকজন সাহাবির তওবা কবুলের কথা বর্ণিত হয়েছে। সে সাহাবিগণ তাবুক যুদ্ধে যোগদান থেকে বিরত ছিলেন। পরে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তারা যারপরনাই অনুতাপে দগ্ধ হন ও কৃতকর্মের জন্য তওবা করেন। আল্লাহতায়ালা তাদের তওবা কবুল করে নেন। ১০২ ও ১১৮ নম্বর আয়াতে তাদের তওবা কবুলের কথা বর্ণিত হয়েছে। এ থেকেই সুরাটির নাম ‘তওবা’। এই সংক্ষিপ্ত সুরা-পরিচিতি যেন একটি আলোকিত মানচিত্র— যা কোরআনের বিশাল সমুদ্রে আপনার প্রথম পদক্ষেপকে নিরাপদ ও আনন্দময় করে। প্রতিটি নামের পিছনে লুকিয়ে আছে একটি জীবন্ত গল্প, প্রতিটি আলোচ্য বিষয়ে মিশে আছে আল্লাহর অপার রহমতের ছোঁয়া।
এই জ্ঞান যখন হৃদয়ে স্থান পাবে, তখন কোরআন আর কেবল পড়ার গ্রন্থ থাকবে না বরং হয়ে উঠবে জীবনের সঙ্গী, অন্তরের আলো এবং প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মিশে যাওয়া প্রেম।
আসুন, এই পরিচয়কে শুরু মেনে নিয়ে প্রতিদিন একটি সুরা নিয়ে গভীরভাবে পড়ি, চিন্তা করি, আমল করি। তা হলেই কোরআন আমাদের জন্য হয়ে উঠবে ‘রুহের খোরাক’ এবং জান্নাতের পথের সওগাত।