ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত এনআইএলএস এআইইউবি চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে প্রিমিয়ার ব্যাংক নিয়ে এলো অত্যাধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ২৮ ঘণ্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার ইতালির স্বপ্নে লিবিয়ায় নিখোঁজ টাঙ্গাইলের শহিদুল চট্টগ্রামে পিডিবি প্রকৌশলী লাঞ্ছিত সর্বত্র রাজস্ব জাল বিছানো হয়েছে খেলোয়াড়ের চেয়ে কম বয়সী কোচ নিয়ে বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জ জার্মানির ফেনীতে গ্যাসবোঝাই ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ২ চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল স্বাস্থ্যকর্মীর পুলিশি অভিযানে পণ্ড আ.লীগ নেতা-কর্মীদের খিচুড়ি পার্টি, আটক ২ স্বপ্ন, উন্মাদনা আর বিশ্বজয়ের লড়াই, বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ ৯ লাখ লোকের স্বপ্নের  ‘বামনী ক্লোজার’ এখন দৃশ্যমান মেহেরপুরে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু দেশের পোশাক খাতের নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ওয়ানডে আজ ভৈরবে প্রায় ৬ লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই দম্পতি আটক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুশইন ঠেকাতে রাতেও বিজিবির মাইকিং
Nagad desktop

ইতেকাফ কী, কেন এবং কীভাবে করবেন?

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ইতেকাফ কী, কেন এবং কীভাবে করবেন?
ছবি: সংগৃহীত

রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ ১০ দিনে ইতেকাফ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতেকাফ করতেন। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর স্ত্রীরাও (সে দিনগুলোয়) ইতেকাফ করতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ২০৪১)

২০ তারিখের সূর্যাস্তের পর ২১ তারিখের রাতের সূচনাতে ইতেকাফগৃহে প্রবেশ করতে হবে। ঈদের চাঁদ দেখার পর ইতেকাফ থেকে বেরোতে হবে। মধ্যবর্তী এ সময়টি শেষ ১০ দিন; যাতে ইতেকাফের বিধান দেওয়া হয়েছে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের মধ্যবর্তী ১০ দিনে সম্মিলিতভাবে ইতেকাফ পালন করতেন। ২০তম রাত বিগত হয়ে ২১তম দিবস উদিত হলে তিনি গৃহে প্রত্যাবর্তন করতেন এবং যারা তাঁর সঙ্গে ইতেকাফ যাপন করত, তারাও ফিরে আসত। সম্মিলিতভাবে যাপিত রাতগুলোর যে রাতে তিনি প্রত্যাবর্তন করতেন, একবার সে রাত যাপন করলেন সবাইকে নিয়ে, সবার উদ্দেশে ভাষণ দিলেন, তাদের নির্দেশ দিলেন আল্লাহতায়ালার আদেশ বিষয়ে। অতঃপর বললেন, আমি এর আগে এই দশে সম্মিলিতভাবে ইতেকাফ পালন করতাম।

এখন আমাকে জানানো হয়েছে যে, শেষ ১০ রাত সম্মিলিতভাবে যাপন করা কাম্য, সুতরাং যে আমার সঙ্গে ইতেকাফ করবে, সে যেন ইতেকাফস্থলে অবস্থান করে। আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, অতঃপর আমি তা বিস্মৃত হয়েছি। তোমরা তা শেষ ১০ দিনে অনুসন্ধান করো এবং অনুসন্ধান করো প্রতি বেজোড়ে। আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি পানি ও কাদায় সেজদা দিচ্ছি। একুশের রাতে আকাশ ঝেপে বৃষ্টি এল এবং রাসুলের জায়নামাজে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পানি পড়ল।’ (বুখারি, হাদিস: ১৯১৪) হাদিসটি প্রমাণ করে, একুশের রাত থেকেই ইতেকাফের সূচনা এবং ইতেকাফ দিবসগুলোর শেষ দিবসের সূর্যাস্তের পরই শুধু ইতেকাফকারী আপন গৃহে প্রত্যাবর্তন করবে। 

ইতেকাফ অবস্থাতেও পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। উরওয়া (রহ.) বলেন, ‘আয়েশা (রা.) আমাকে বলেছেন, হায়েজ অবস্থায় তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কেশবিন্যাস করে দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন মসজিদে অবস্থান করতেন। গৃহে অবস্থানরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে তিনি মাথা এগিয়ে দিতেন। তিনি হায়েজ অবস্থাতেই তার কেশবিন্যাস করে দিতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ২৯৬) ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, হাদিসটি প্রমাণ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সুগন্ধি ব্যবহার, গোসল, ক্ষৌরকর্ম, কেশ বিন্যাস বৈধ। অধিকাংশ আলেমের মতে, মসজিদে যেসব কাজ করা মাকরুহ, ইতেকাফে সেসব কাজ করা মাকরুহ। (ফাতহুল বারি: ৪/৩২০)

ইতেকাফে বসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন না। অংশ নিতেন না কোনো জানাজায়। বর্জন করতেন স্ত্রীর সংস্পর্শ বা সহবাস। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘ইতেকাফকারীর সুন্নত হচ্ছে, অসুস্থের দর্শনে গমন না করা, জানাজায় অংশ না নেওয়া, নারী সংসর্গ ও সহবাস বর্জন করা এবং অত্যাবশ্যকীয় কোনো প্রয়োজন ছাড়া ইতেকাফ থেকে বের না হওয়া।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৭৩)
ইতেকাফ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আলাপ করতেন। সাফিয়া (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) ইতেকাফরত অবস্থায় আমি তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এলাম, তার সঙ্গে আলাপ করে চলে এলাম।’ (বুখারি, হাদিস: ৩০৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যাবশ্যকীয় কারণ ছাড়া ইতেকাফগাহ থেকে বের হতেন না। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতেকাফ অবস্থায় কোনো কারণ ছাড়া গৃহে প্রবেশ করতেন না।’ (বুখারি, হাদিস: ২০২৯)। সাফিয়া (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতেকাফ অবস্থায় এক রাতে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাতে গিয়ে আলোচনা সেরে উঠে চলে এলাম। আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি এলেন। সাফিয়ার আবাস ছিল উসামা বিন জায়েদের বাড়িতে।’ (বুখারি, হাদিস: ৩২৮১) প্রবল কোনো কারণে কখনো কখনো রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পবিত্র দেহের কিছু অংশ ইতেকাফগাহ থেকে বের করতেন। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার তাঁর স্ত্রীদের উত্তম পথ প্রদর্শন, মনোরঞ্জন ও আনন্দ দেওয়ার জন্য রমজানের ইতেকাফ ত্যাগ করেছেন—তবে একই বছরের শাওয়াল মাসের প্রথম ১০ দিনে এই ইতেকাফের কাজা করেছেন। (ইবনে হিববান, ৩৬৬৩) আরেকবার সফরে থাকার কারণে ইতেকাফ পালন সম্ভব না হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) পরবর্তী বছরে ২০ দিন ইতেকাফ করে এর কাজা করে নিয়েছিলেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৮০৩) আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা, আকুতি জানানো, নিজেকে তার দরবারে বিলীন করার উত্তম পন্থা হলো ইতেকাফ।

যেসব কারণে ইতেকাফ ভেঙে যায়—১. কারণবশত বের হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিলম্ব করা। ২. প্রয়োজন ছাড়া মসজিদের বাইরে যাওয়া। ৩. স্ত্রী সহবাস করা। ৪. অসুস্থতা বা ভয়ের কারণে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। 
যা করা যাবে না—প্রাকৃতিক প্রয়োজন ও একান্ত বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ইতেকাফগৃহ থেকে বের হওয়া নিষেধ। প্রয়োজনে বাইরে বের হলেও কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন না বা সালাম বিনিময় করবেন না। কেউ সালাম দিলে তার জবাবও দেবেন না। তবে ইতেকাফগৃহে বসে এগুলো করা যাবে। ইতেকাফের সময় ইবাদত-বন্দেগিই মুখ্য। একেবারেই চুপচাপ বসে থাকা যাবে না। ঝগড়া বা অনর্থক কথাবার্তা বলা নিষেধ। গিবত বা পরনিন্দা করা যাবে না। মালপত্র মসজিদে এনে বেচাকেনা করা নাজায়েজ। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত?

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত?
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি জানেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিঠে এমন এক অলৌকিক চিহ্ন ছিল, যা দেখে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের পণ্ডিতরা তাঁকে শেষ নবি হিসেবে চিনে নিতেন? কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর দুই কাঁধের মাঝের সেই পবিত্র ‘মোহরে নবুওয়াত’, যা দেখে সাহাবিদের চোখ আটকে যেত?

মোহরে নবুওয়াত হলো মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবয়বে দেওয়া এক অনন্য সিলমোহর ও নবুওয়াতের চূড়ান্ত নিদর্শন। এটি ছিল তাঁর দুই কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত একটি বিশেষ কুদরত।

সাহাবিরা বিভিন্ন সময়ে এই মোহরে নবুওয়াত অত্যন্ত কাছ থেকে অবলোকন করেছেন। বিখ্যাত সাহাবি সা’ইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) তাঁর শৈশবের এক স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বলেন, একবার তাঁর খালা তাঁকে নিয়ে নবিজি (সা.)-এর কাছে যান। নবিজি (সা.) তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন এবং অজু করেন। সা’ইব বলেন, ‘আমি তাঁর অজুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম এবং তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সহসা তাঁর দুই কাঁধের মধ্যস্থিত মোহরে নবুওয়াতের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে, যা দেখতে পাখির (কবুতরের) ডিমের মতো।’ (সহিহ বুখারি, ১৯০; সহিহ মুসলিম, ৬২৩৩)

এই চিহ্নের রং ও অবয়ব কেমন ছিল, তা আরও স্পষ্ট জানা যায় হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে মোহরে নবুওয়াত দেখেছি। আর তা যেন ছিল ডিমের মতো লাল গোশতপিণ্ড।’ (সহিহ মুসলিম, ৬২৩০; মিশকাত, ৫৭৭৯)

নবিজি (সা.)-এর এই সিলমোহরটি দেখার জন্য সাহাবিদের মনে প্রবল আগ্রহ থাকত। আনসারি নারী সাহাবি হজরত রুমায়সা (রা.) বলেন, ইসলামের মহান বীর সা’দ ইবনে মুয়াজ (রা.)-এর ওফাতের দিন রাসুল (সা.) এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন যে, সা’দের মৃত্যুতে রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে। রুমায়ছা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন এ উক্তি করেন তখন আমি তাঁর এত নিকটে ছিলাম যে, ইচ্ছে করলে তাঁর মোহরে নবুওয়াত চুম্বন করতে পারতাম।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৬৮৩৬; মু’জামুল কাবীর, ২০১৬৫)

মোহরে নবুওয়াতের গঠনশৈলী নিয়ে আরেকটি চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায় আবু জায়েদ আমর বিন আখতাব আনসারি (রা.)-এর হাদিসে। নবিজি (সা.) একবার তাঁকে ডেকে বললেন, ‘হে আবু জায়েদ! আমার কাছে এসো এবং আমার পৃষ্ঠদেশে হাত বুলাও।’ তিনি যখন পিঠে হাত বুলাচ্ছিলেন, তখন তাঁর আঙুলগুলো সেই মোহরে নবুওয়াতের ওপর গিয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সেই মোহরটি আসলে কেমন ছিল? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তা ছিল এক গুচ্ছ কেশ।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২২৯৪০; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪১৯৮)

মুহাদ্দিসিনদের মতে, সেই গোশতপিণ্ডের ওপর বা তার চারপাশে একগুচ্ছ সুবিন্যস্ত চুল ছিল, যা দূর থেকে বা স্পর্শ করলে চুলের গুচ্ছের মতোই অনুভূত হতো। এটি কোনো শারীরিক ত্রুটি ছিল না, বরং ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে খোদাই করা এক পরম সৌন্দর্য, যা কেবল শেষ নবির ভাগ্যেই জুটেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?
ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতাবশত বিছানা, কাঁথা বা কম্বলে নাপাকি লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে শিশুদের প্রস্রাব বা অন্য কোনো কারণে ভারী তোশক বা জাজিম অপবিত্র হয়ে পড়লে তা ধুয়ে পরিষ্কার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় ওই ঘরে বা বিছানায় নামাজ আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে মুসল্লিদের মনে অনেক সময় সংশয় তৈরি হয়। ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে।

যদি বড় কোনো কাঁথা বা কম্বলের নির্দিষ্ট এক অংশে নাপাকি লাগে, তবে এর অপর ‘পাক’ বা ঘরের পবিত্র অংশে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েজ। অর্থাৎ, পুরো কাপড়টি ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়; বরং যেখানে নাপাকি নেই সেখানে সিজদা করা এবং দাঁড়ানো যাবে। তবে শর্ত হলো, নাপাক অংশের আর্দ্রতা যেন পবিত্র অংশে স্থানান্তরিত না হয়।

ভারী তোশক, জাজিম বা ম্যাট্রেস যা সচরাচর ধোয়া সম্ভব হয় না, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিধান কিছুটা ভিন্ন। যদি তোশকের এক পিঠে নাপাকি লাগে এবং এর অপর পিঠে নাপাকির কোনো রং, গন্ধ বা ভেজা ভাব প্রকাশ না পায়, তবে ওই অপর পিঠে নামায আদায় করা যাবে। ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৬২) ও রদ্দুল মুহতার (১/৪০২) অনুযায়ী, নাপাকির প্রভাব অপর পিঠে না পৌঁছালে তা ব্যবহারের জন্য পবিত্র বলে গণ্য হবে।

যদি তোশক বা জাজিমের নাপাকি শুকিয়ে যায় কিন্তু তা ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে এর ওপর একটি পবিত্র জায়নামাজ বা মোটা কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। এতে নিচের নাপাকি নামাযে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ও আসসিআয়া-র বর্ণনা অনুযায়ী, শুকনো নাপাকির ওপর পবিত্র স্তর থাকলে তা ইবাদতের জন্য বাধা নয়।

পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। ভারী আসবাবপত্র পরিষ্কারের জটিলতা বিবেচনায় ফকিহগণ যে শিথিলতা দিয়েছেন, তা আমাদের ইবাদতকে সহজতর করে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সম্ভব হলে নাপাক স্থানটি মুছে নেওয়া বা রোদে শুকিয়ে নেওয়া উত্তম।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ
ছবি: সংগৃহীত

আজকের সমাজে মেকি জৌলুস আর চাটুকারিতার জোরে যখন কোনো মিথ্যাবাদী বা কপট ব্যক্তি সমাজের চালকের আসনে বসে, তখন আমরা অনেকেই তা স্বাভাবিকভাবে নিই। কিন্তু এর আধ্যাত্মিক প্রভাব কতটা ভয়াবহ? রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তোমরা মোনাফিককে নেতা হিশেবে গ্রহণ করো না; কারণ যখন কোনো ব্যক্তি একজন মিথ্যুক মোনাফিককে ‘হে আমার নেতা!’ বলে সম্বোধন করে, সে তখন তার প্রতিপালককে রাগান্বিত ও অসন্তুষ্ট করে তোলে (আবু দাউদ হা/৪৯৭৭; তারগীব হা/৪১৭৫)।

আধুনিক করপোরেট বা সামাজিক ডিলিংসে আমরা ‘ইনটিগ্রিটি’ বা সততার বড্ড অভাব দেখি। রাসুল (সা.) পাক্কা মোনাফিকের চারটি স্বভাবের কথা বলেছেন, যা আজকের সমাজের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আমানতের খিয়ানত করা, কথায় কথায় মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং কোনো কারণে কারও সঙ্গে বিবাদ বা ঝগড়া বাধলে অত্যন্ত নোংরা ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০)।

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অসত্য বা সাজানো খবর মুহূর্তেই দেশজুড়ে ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। কিন্তু এই সস্তা প্রচারের আড়ালে কী ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে? হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত এক দীর্ঘ ও অলৌকিক হাদিসে রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি স্বপ্নের বিবরণ পাওয়া যায়। সেখানে তিনি দেখেন, এক ব্যক্তির গালে লোহার সাঁড়াশি ঢুকিয়ে তা গর্দানের পিছন পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছে। সঙ্গী ফেরেশতাদ্বয় জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) রাসুলকে জানান–এই ব্যক্তি দুনিয়ায় এমন মিথ্যা বলত, যা মুহূর্তেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। কিয়ামত পর্যন্ত তার এই শাস্তি চলতে থাকবে (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

আজকের যুগে আমরা অনেকেই রাতে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে ঘুমিয়ে যাই, কিন্তু পবিত্র গ্রন্থের কোনো আমল আমাদের জীবনে থাকে না। রাসুলের দেখা সেই স্বপ্নে আরও ছিল, ভারী পাথর দিয়ে এক ব্যক্তির মাথা চূর্ণ করা হচ্ছিল, কারণ সে কোরআন শিক্ষা করার পরও তা থেকে গাফেল হয়ে রাতে ঘুমাত এবং দিনেও নির্দেশ মেনে চলত না। এ ছাড়া তন্দুরের মতো সংকীর্ণ অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষের জ্বলন্ত চিৎকার ছিল ব্যভিচারী বা জেনাকারীদের শাস্তি এবং রক্তের নদীতে পাথরের আঘাতে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তিটি ছিল সমাজের রক্তচোষা সুদখোর (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

রাসুল (সা.)-এর দেখা এই অলৌকিক স্বপ্নের শেষে জান্নাতে সাধারণ মুমিন ও শহিদদের মনোরম আবাসন এবং জাহান্নামের দারোগা মালেককেও দেখানো হয়। সমাজকে সুন্দর করতে এবং হাশরের সেই ভয়ংকর শাস্তি থেকে বাঁচতে আজই আমাদের মিথ্যা, খিয়ানত আর মোনাফিকির পথ পরিহার করা উচিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার  ১০ উপায়

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার  ১০ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক সমাজে খুন, জালিয়াতি কিংবা অনৈতিক সম্পর্ক নিত্যদিনের খবর। কিন্তু সৃষ্টির আদালতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও বড় অপরাধ কোনগুলো? হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মানব ইতিহাসের তিনটি জঘন্যতম পাপের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো: যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে সমকক্ষ বা শরিক করা (শিরক)।

দ্বিতীয়টি হলো, দারিদ্র্য ও ভরণপোষণের ভয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করা। আর তৃতীয়টি হলো, বিশ্বাসের অমর্যাদা করে প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। রাসুল (সা.)-এর এই বাণীর সত্যায়ন করে আল্লাহতায়ালা সুরা ফুরক্বানের ৬৮ নম্বর আয়াতে নেককার বান্দাদের প্রশংসায় একই বার্তা অবতীর্ণ করেছেন (মুসলিম, ৪৯)।

আজকের বিশৃঙ্খল পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার উপায় কী? হযরত মু‘আয বিন জাবাল (রা.)-কে দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ১০টি উপদেশ যেকোনো সংকটে আলোর দিশারী হতে পারে। তিনি বলেছেন, () আগুনে পুড়িয়ে বা হত্যা করা হলেও আল্লাহর সঙ্গে শিরক না করা, () সর্বাবস্থায় পিতা-মাতার অনুগত থাকা, () ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ সালাত ত্যাগ না করা (কারণ সালাত ছাড়লে আল্লাহর জিম্মাদারি উঠে যায়), () সমস্ত অশ্লীলতার মূল মাদক থেকে দূরে থাকা, () আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচতে গোনাহ বর্জন করা, () যুদ্ধের ময়দান থেকে না পালানো, () মহামারিকবলিত এলাকায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করা, () সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের জন্য ব্যয় করা, () পরিবারকে সুশাসনে রাখা এবং (১০) তাদের সর্বদা আল্লাহর ভয় প্রদর্শন করা। (মুসনাদে আহমাদ, ৬১)

মানুষ ভুল ও অপরাধের এক চোরাবালিতে আটকেপড়া জীব। কিন্তু হতাশার এই অন্ধকারে স্রষ্টার ক্ষমার পরিধি কতটা বিশাল, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা মানুষের সমস্ত মনস্তাত্ত্বিক ভয় দূর করে দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি কাউকে পরোয়া না করে তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ এমনকি কোনো মানুষ যদি পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়, অথচ তার আমলনামায় ‘শিরক’-এর মতো কোনো পাপ না থাকে, তবে আল্লাহ স্বয়ং পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসেন (তিরমিজি, ২৩৩৬)।

সমাজ যতই অবক্ষয়ের দিকে যাক না কেন, নিজের পরিবারকে নৈতিক অনুশাসনে রাখা এবং আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তাওবা করার সুযোগ সব সময় খোলা থাকে। আসুন, বড় বড় অপরাধ ও শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি, যেন আমাদের ভুলগুলো স্রষ্টার অফুরন্ত ক্ষমার চাদরে ঢেকে যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ?
অবয়বের মাঝেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশ্নের চমৎকার এক উত্তর। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের আলোতে আমরা সবাই স্নিগ্ধতা খুঁজি, কিন্তু আপনি কি জানেন এমন এক চেহারার কথা, যার সামনে পূর্ণিমার চাঁদও ম্লান হয়ে যেত? কেমন ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে সুদর্শন মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গায়ের রং ও অবয়ব? সে রূপের উপমা দিতে গিয়ে কবিরা ক্লান্ত হয়েছেন, কিন্তু সাহাবিরা যখন রাসুল (সা.)-এর গায়ের বর্ণ সরাসরি দেখেছিলেন, তখন তাদের অনুভূতি কেমন ছিল? আর হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে কি কখনো সামনাসামনি দেখা সম্ভব? রাসুল (সা.)-এর অবয়বের মাঝেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশ্নের চমৎকার এক উত্তর।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক গঠন ও অবয়ব কেমন ছিল, তা জানা প্রতিটি মুমিনের জন্য এক আত্মিক প্রশান্তি। তিনি কেবল চরিত্রের দিক থেকেই শ্রেষ্ঠ ছিলেন না, বরং আল্লাহতায়ালা তাঁকে দান করেছিলেন এক অলৌকিক ও জ্যোতির্ময় শারীরিক সৌন্দর্য।

নবিজি (সা.)-এর দেহের রঙে এমন এক দ্যুতি ছিল, যা জোছনার আলোকেও হার মানাত। হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) এক অবিস্মরণীয় রাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি একবার পূর্ণিমা রাত্রির স্নিগ্ধ আলোতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাল চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। তখন আমি একবার তাঁর দিকে ও একবার চাঁদের দিকে তাকাতে থাকলাম। মনে হলো তিনি আমার কাছে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিকতর চমৎকার।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, ৭৩৮৩; মিশকাত, ৫৭৯৪)

আরো পড়ুন: কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ

অনেকে মনে করতে পারেন, এই সৌন্দর্য কি তরবারির মতো ধারালো বা চকচকে ছিল? বিশিষ্ট সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা কি তরবারির মতো ছিল?’ তিনি বললেন, ‘না; বরং তা ছিল চাঁদের মতো।’ (সহিহ বুখারি, ৩৫৫২; সহিহ ইবনে হিব্বান: ৬২৮৭)

মুহাদ্দিসিনরা এর ব্যাখ্যায় বলেন, তরবারির সঙ্গে তুলনা করলে চেহারা অতিরিক্ত লম্বাটে ও তীব্র তীক্ষ্ণ শুভ্রতার ধারণা তৈরি হয়, যাতে চোখের জন্য আরামদায়ক স্নিগ্ধতা থাকে না। পক্ষান্তরে, চাঁদের আলো যেমন গোলাকার, উজ্জ্বল ও চোখ জুড়ানো, নবিজি (সা.)-এর পবিত্র অবয়বও ছিল ঠিক তেমনই শান্ত ও মায়াবী।

আরো পড়ুন: কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শুভ্রতায় ছিলেন রৌপ্যের (রুপা) মতো এবং তাঁর চুলগুলো ছিল কিছুটা কোঁকড়ানো।’ (জামেউস সগীর, ৮৭৪৮; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৫৩)G ইসলামিক স্কলারদের মতে, নবিজি (সা.)-এর গায়ের রং নিরেট বা ফ্যাকাশে সাদা ছিল না, বরং তা ছিল লাল মিশ্রিত চমৎকার উজ্জ্বল সাদা। এই লাবণ্য ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক গঠনের কথা উল্লেখ করে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা নবিজি (সা.)-এর শেষ প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবি আবু তুফায়েল (রা.) বলেন, ‘তিনি ছিলেন শুভ্রকায় ও লাবণ্যময় সুসামঞ্জস্যপূর্ণ।’(সহিহ মুসলিম, ৪৪১; মিশকাত,৫৭১৪)

মিরাজের রাতে রাসুল (সা.)-কে পূর্ববর্তী নবিদের অবয়ব দেখানো হয়েছিল। সেখানে তিনি তাঁর নিজের সঙ্গে জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর এক অবিশ্বাস্য মিল খুঁজে পান। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি ঈসা (আ.)-কে উরওয়া ইবনে মাসউদের সাদৃশ্যপূর্ণ এবং ইব্রাহিম (আ.)-কে দেখতে পাই, যিনি তোমাদের সঙ্গীর (অর্থাৎ নিজের) সঙ্গে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।’ (মুসলিম, ৪৪১; মুসনাদে আহমাদ, ১৪৬২৯)

অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চেহারা ও অবয়ব কেমন ছিল, তা বুঝতে হলে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দৈহিক সৌন্দর্যের উপমাটিই সবচেয়ে পারফেক্ট। নবিজি (সা.)-এর এই অলৌকিক রূপের বিবরণ আমাদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তোলে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক