বিদ্যমান নিয়োগ বিধিতে অসামঞ্জস্য থাকায় নতুন করে ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। আগামীকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠেয় প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদনের জন্য এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সভাপতিত্ব করবেন।
বৈঠকে বেসরকারি থেকে সরকারি ঘোষণা করায় ‘সরকারীকৃত কলেজশিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা, ২০১৮’ সংশোধন প্রস্তাবও পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
এ ছাড়া রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ১২৯টি, স্থায়ীভাবে ২০২টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্তীকরণের জন্য ১১১টি এবং রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ১৪টি পদের বিষয়ভিত্তিক জিও জারির প্রস্তাব রয়েছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে। সচিব কমিটিতে অনুমোদনের জন্য মোট ৪৫৬টি পদ সৃজনের প্রস্তাব রয়েছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালার খসড়া অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুব কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বর্তমানে সারা দেশে সংস্থাটির মোট ৬৪০টি কার্যালয় রয়েছে। এর আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১২ প্রণয়নের পর এই অধিদপ্তরে ১ হাজার ৩১৮টি পদ সৃজন করা হয়েছে। কিন্তু এই পদগুলোর মধ্যে ২৯টি ক্যাটাগরির ৬৪৫টি পদ বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত নেই। তা ছাড়া ‘ক্রেডিট সুপারভাইজার’ পদের নাম পরিবর্তন করে ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ নাম দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালার কয়েকটি পদের পদসোপানে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এ কারণে নতুন নিয়োগ বিধিমালা ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো ‘সরকারীকৃত কলেজশিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা, ২০১৮ সংশোধনসংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান বিধিমালার বিধি-২-এর উপবিধি-৪ ও ১, বিধি-৫-এর উপবিধি-১, বিধি-৬, বিধি-৭-এর উপবিধি-২, বিধি-৯, বিধি-১৩-এর উপবিধি-১ এবং বিধি-১৪-এর উপবিধি-২ সংশোধন বা পরিমার্জন প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আত্তীকরণের লক্ষ্যে ১১১টি পদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করেছে। ঘোষণা করা ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণের লক্ষ্যে এই ১১১টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া সচিব কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সুশাসনসংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিবীক্ষণের জন্য শুদ্ধাচার কৌশল, অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি, তথ্য অধিকার, ই-গভর্ন্যান্স কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়।
কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনসংক্রান্ত কমিশন অন্যতম। এই কমিশন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের পরিবর্তে একটি দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে শুদ্ধাচার কৌশল, অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি, তথ্য অধিকার এবং ই-গভর্ন্যান্সবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির কাছে বিবেচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, ২০১২’-এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে বন্ধ রয়েছে।
আগামীকাল অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ২৯টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ১০টি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ১১৭টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন আদালতে মামলার চাপ প্রশমনসহ মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা রোধ করার লক্ষ্যে এসব পদ সৃজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে এসব পদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করেছে। তাই এই পদগুলোর জন্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘লিডারশিপ ট্রেনিং সেন্টার’ (এলটিসি)-এর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ১২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় এসব পদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করেছে।
সচিব কমিটিতে ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ ও বর্ধিতকরণ’ শীর্ষক সমাপ্ত প্রকল্পের ৯২টি পদ অস্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ২০১৮ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালার ৫৬ (ক) বিশেষ বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ ও বর্ধিতকরণ’ শীর্ষক সমাপ্ত প্রকল্পের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পদোন্নতি, অবসর গ্রহণ, চাকরিচ্যুতি, পদত্যাগজনিত বা মৃত্যুজনিত অথবা অন্য কোনো কারণে শূন্য হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই পদগুলো বিলুপ্ত হবে ও ওই পদসমূহে কোনো জনবল নিয়োগ করা যাবে না।
তবে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত এ-সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় কর্মরত পদধারীদের তাদের চাকরির মেয়াদকালের জন্য এই পদগুলো স্থায়ী করার লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া আগামীকালের বৈঠকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ‘১৫৫ আনম্যান্ড অ্যারিয়াল সিস্টেম (ইউএএস) ইউনিট’-এর সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে ১১০টি পদ রাজস্ব খাতে সৃজনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১৬টি আনম্যান্ড অ্যারিয়াল ভেহিক্যাল (ইউএসি) ও ৪টি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (জিসিএস) বিমানবাহিনীতে সংযুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তা ছাড়া জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ হাইড্রোকার্বন ইউনিটের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে আগে সৃজন করা ১৪টি পদের বিষয়ভিত্তিক সংশোধিত জিও জারির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে।