হেডিংলি ভেন্যুটার নাম শুনলেই মনে পড়ে ২০১৯ অ্যাশেজের কথা। সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি বেন স্টোকস জিতিয়েছিল একা হাতে শতক হাঁকিয়ে। উইনিং শট খেলে তার সেই উদযাপনটা ছিল ফ্রেমে বেধে রাখার মতো। সেই হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই টেস্ট অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু করলেন ভারতের তরুণ ব্যাটার শুভমান গিল।
এই হেডিংলিতেই রাঙালেন নিজের টেস্ট অধিনায়কত্বের প্রথম দিনটি। রোহিতের জায়গায় অধিনায়ক হয়ে অভিষেকেই হাঁকালেন শতক। ৩৩তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেকে পেলেন শতকের দেখা। এই তালিকায় আছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। ২০২৩ সালে সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অধিনায়কত্বের অভিষেকে খেলেছিলেন ১০৫ রানের ইনিংস।
শুভমান গিল অবশ্য ভারতের প্রথম ক্রিকেটার নন এই তালিকায়। তার আগে বিজয় হাজারে, সুনীল গাভাস্কার, দিলীপ ভেংসরকার ও বিরাট কোহলিও আছেন এই তালিকায়। তালিকায় ভারতের পঞ্চম ক্রিকেটার গিল।
টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি—ভারতীয় ইতিহাসে এই কীর্তি আছে কেবল বিজয় হাজারে, সুনীল গাভাস্কার, দিলীপ ভেংসরকার ও বিরাট কোহলির নামে। এবার সেই তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন ‘ক্রিকেটের যুবরাজ’ খ্যাত গিলও।
১৬ চার ও ১ ছক্কায় ১২৭ রানে অপরাজিত আছেন প্রথম দিন শেষে। বিদেশের মাটিতে অধিনায়কত্বের অভিষেকেও প্রমাণ দিয়েছেন নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের।
তবে গিল একাই যে শতক হাঁকিয়েছেন, এমনটা নয়। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালও দেখা পেয়েছেন শতকের। তিনি দেখা পেয়েছেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট শতকের। এই শতক করার পথেই গিলের সঙ্গে গড়েছিলে ১২৯ রানের জুটি।
এরপর চতুর্থ উইকেটে পন্তের (৬৫*) সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১৩৮ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন নতুন ভারত।
লোকেশ রাহুল ওপেনিংয়ে নেমে করেন ৪২ রান, আর তিনে নামা সাই সুদর্শন ফেরেন শূন্য রানে। তবে এই ছোটখাটো ধাক্কাগুলোকে তেমন আমলেই নেয়নি ভারতের তরুণ ব্রিগেড। গিলের নেতৃত্বে প্রথম দিনটা তাই রঙিন ভাবেই কাটাল সফরকারী দল। দিনের খেলা শেষে ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৫৯ রান।
ইংল্যান্ডের হয়ে অধিনায়ক বেন স্টোকস দুটি ও ব্রাইডন কার্স পেয়েছেন ১ উইকেট।