চট্টগ্রামে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এর আগে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারের স্বাদ পাওয়া নিউজিল্যান্ড নতুন লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দলটির অধিনায়ক টম ল্যাথাম। সেখানে নানা প্রশ্নের উত্তরে উঠে এসেছে তার পরিকল্পনা, প্রত্যাশা ও সতর্কতার বার্তা।
দল গঠন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ল্যাথাম জানান, তাদের স্কোয়াডে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা যথেষ্ট সমৃদ্ধ। তার মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা কম থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেট ও বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা এই ফরম্যাটে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তার দল টি-টোয়েন্টি সিরিজটি নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত।
উইকেট না দেখলেও ল্যাথাম ধারণা দিয়েছেন, পুরো ম্যাচজুড়ে ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক উইকেট থাকতে পারে। আগের ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি সাজানোর কথাও জানান তিনি। তার বিশ্বাস, এই ফরম্যাটে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাচের মোড় ঘোরানো নিয়ে তিনি একমত হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাসের মন্তব্যের সঙ্গে। ল্যাথাম বলেন, এই ফরম্যাটে এক বা দুই ওভারেই ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে। কখনো একটি ওভার, কখনো কয়েকটি বল। এতটুকুই যথেষ্ট। তাই তার দলের লক্ষ্য থাকবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগানো এবং ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স তুলে ধরা।
বাংলাদেশ দলে নতুন মুখের উপস্থিতি নিয়েও সতর্ক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু তথ্য নেওয়া হলেও মাঠে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি। তার মতে, দুই দলেই নতুন খেলোয়াড় থাকায় সিরিজটি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হবে।
নতুন ও তুলনামূলক অনভিজ্ঞ দলকে নেতৃত্ব দেওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং, এমন প্রশ্নে ল্যাথামের উত্তর ছিল পরিষ্কার। তিনি খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দেওয়ার পক্ষেই। তার ভাষায়, দলে জায়গা পাওয়ার পেছনে প্রত্যেকেরই ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স রয়েছে। তাই তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেওয়া এবং আত্মবিশ্বাস জোগানোই অধিনায়ক ও কোচিং স্টাফের প্রধান কাজ।
বাংলাদেশ দলকে তিনি বরাবরের মতোই বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইনআপ হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশকে সব সময়ই বিপজ্জনক বলে মনে করেন তিনি। তবে প্রতিপক্ষ যেই হোক, নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান ল্যাথাম।
নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে ল্যাথাম বলেন, নিয়মিত না হলেও সুযোগ পেলে তিনি এই ফরম্যাটে খেলতে উপভোগ করেন। ওপেনিং, উইকেটরক্ষক বা যেকোনো দায়িত্ব; সব ক্ষেত্রেই নিজের সেরাটা দেওয়াই তার লক্ষ্য।
প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ল্যাথাম। তবে সব মিলিয়ে তার বার্তায় স্পষ্ট; টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির খেলায় ছোট ছোট মুহূর্তই নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য, আর সেই লড়াইয়ে প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড।
চঞ্চল/অনিক/