ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী
Nagad desktop

ক্যাসপারস্কি ও ইন্টারপোলের যৌথ অভিযানে ৪০ জন সাইবার অপরাধী গ্রেফতার

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৫৫ পিএম
ক্যাসপারস্কি ও ইন্টারপোলের যৌথ অভিযানে ৪০ জন সাইবার অপরাধী গ্রেফতার
সাইবার অপরাধীদের গ্রেফতারে ক্যাসপারস্কি ও ইন্টারপোলের যৌথ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

ফিশিং, র‍্যানসমওয়্যার ও তথ্য চুরির মতো সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় ইন্টারপোলের বিশ্বব্যাপী সিনার্জিয়া টু নামের অপারেশনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। এই যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের ৯৫টি ইন্টারপোল সদস্য দেশের বেসরকারি খাতের অংশীদার ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অংশগ্রহণ করে। এতে ১০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত ও ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০২৩ সালের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইন্টারপোলের সিনার্জিয়া টু অপারেশন পরিচালিত হয়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। এতে ধ্বংস করা হয় ফিশিং, ম্যালওয়্যার ও র‍্যানসমওয়্যার নেটওয়ার্ক। ক্ষতিকর সার্ভার ও বটনেটের ডেটা শেয়ার করে এই অপারেশনে ইন্টারপোলকে সহায়তা করেছে ক্যাসপারস্কি। প্রায় ৩০ হাজার সন্দেহজনক আইপি এড্রেস ও সার্ভার পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ করা হয়েছে। মূল অপারেশনে হংকংয়ে ১ হাজার ৩৭টি সার্ভার বন্ধ করা হয়েছে। মঙ্গোলিয়ায় ২১টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং সন্দেহভাজন ৯৩ জনকে চিহ্নিত করা সহ ম্যাকাওয়ে ২৯১টি সার্ভার নিষ্ক্রিয় করা হয়। এছাড়া মাদাগাস্কারে ১১টি ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এস্তোনিয়ায় ৮০ গিগাবাইট সার্ভার ডাটা জব্দ করা হয়। এই অপারেশন সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ।

ইন্টারপোলের সাইবার ক্রাইম বিভাগের পরিচালক নিল জেটন বলেন, ‘সাইবার অপরাধ যেহেতু একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই এর বৈশ্বিক সমাধানও প্রয়োজন, যা এই অপারেশনে অংশ নেয়া সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ থেকে স্পষ্ট হয়েছে। এক সঙ্গে কাজ করে আমরা কেবল ক্ষতিকর সিস্টেম ধ্বংসই করিনি, একই সঙ্গে লাখ লাখ মানুষকে সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষা দিয়েছি। আমাদের পৃথিবীকে নিরাপদ করতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এই হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সদস্য দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরে ইন্টারপোল গর্বিত।’

ক্যাসপারস্কির পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউলিয়া শ্লিচকোভা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যৌথ প্রচেষ্টার অংশ হতে পেরে ক্যাসপারস্কি অত্যন্ত আনন্দিত। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন যৌথ প্রচেষ্টা কেবল প্রতিটি দেশের সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করবে না, বরং বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা উন্নত করতে সহায়তা করবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা সাইবার নিরাপত্তায় একটি উল্লেখযোগ্য মানদন্ড স্থাপন করছি এবং নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্বের জন্য একটি মডেল তৈরি করছি।’

ক্যাসপারস্কি ২০২৪ অলিম্পিকে জালিয়াতি রোধে এবং সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা উন্নত করতে ইন্টারপোলের সঙ্গে কাজ করছে।

/আবরার জাহিন

ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো
ছবি: সংগৃহীত

বাসাবাড়ির সব ঘরে সরাসরি প্রাকৃতিক আলো পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এই সমস্যার কার্যকর সমাধান নিয়ে এসেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফিলিপস। প্রতিষ্ঠানটি ‘স্কাইলাইট’ নামের নতুন একটি এলইডি বাতি বাজারে এনেছে। এই বাতি ঘরের যেকোনো স্থানে কৃত্রিমভাবে আসল দিনের আলোর আবহ তৈরি করতে সক্ষম।

ফিলিপসের মূল প্রতিষ্ঠান ‘সিগনিফাই’-এর তৈরি এই নতুন বাতিটি মূলত একটি কৃত্রিম স্কাইলাইট। সমতল যেকোনো দেয়ালে বা ছাদে এটি সহজে বসানো যায়। এটি মাঝারি ও বড় দুই আকারে বাজারে পাওয়া যাবে। বাতিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত ‘নেচারকানেক্ট’ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে বাতিটি আসল দিনের আলোর উজ্জ্বলতা ও রঙের বৈচিত্র্য হুবহু ফুটিয়ে তুলতে পারে। ডিভাইসটি ধুলো ও পানি প্রতিরোধী, যার আইপি৪৪ রেটিং রয়েছে। ফলে বাথরুমের মতো আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে জায়গাতেও এটি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে।

এই বাতিতে একটি বিশেষ ‘রিদম’ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। ফিচারটি সারা দিনের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আলোর তীব্রতা ও তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করে। যেমন, সকালের দিকে এটি ঘরজুড়ে শীতল এবং বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে আলো হবে কিছুটা উষ্ণ রঙের। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ধরনের আলো পছন্দ করার জন্য এতে পাঁচটি আলাদা প্রি-সেট মোড দেওয়া আছে।

ফিলিপস এই বাতির আরেকটি বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছে, যার নাম ‘স্কাইলাইট ভিটাআপ’। এই মডেলে এমন একটি মডিউল রয়েছে, যা মানুষের শরীরের জন্য উপকারী ইউভি-বি রশ্মি তৈরি করে। ফিলিপস দাবি করেছে, এই রশ্মি মানবদেহে ভিটামিন ডি তৈরির ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে অতিরিক্ত আলোর কারণে যেন ব্যবহারকারীর ত্বক পুড়ে না যায়, সেজন্য এতে বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। টানা আট ঘণ্টা চলার পর বাতিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

ডিভাইসটি ফিলিপস ও সিগনিফাই তৈরি করলেও এটি তাদের জনপ্রিয় ‘হিউ’ সিরিজের পণ্য নয়। তাই এতে ওয়াই-ফাই, ম্যাটার বা জিগবির মতো কোনো স্মার্ট সংযোগসুবিধা পাওয়া যাবে না। বাতিটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহারকারীকে প্যাকেজে থাকা রিমোটের ওপর নির্ভর করতে হবে। সাধারণ দেয়ালের সুইচের সঙ্গে এটি সহজে যুক্ত করা যাবে না।

চলতি মাসের শেষের দিকে ইউরোপের বাজারে এই ডিভাইসটির বিক্রি শুরু হবে। সেখানে এর প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ ইউরো। তবে অন্য বাজারে এটি কবে আসবে, তা এখনো জানানো হয়নি।

অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নানা সুবিধা আমাদের জীবনকে সহজ করছে। তবে এই প্রযুক্তির ওপর আমাদের অতিরিক্ত ভরসা বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। সম্প্রতি এআই চ্যাটবটের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

২০২৫ সালে বিবিসির এক গবেষণায় দেখা যায়, শীর্ষস্থানীয় চ্যাটবটগুলোর দেওয়া সংবাদের অর্ধেকের বেশি উত্তরে মারাত্মক ভুল ছিল। প্রায় ২০ শতাংশ উত্তরে ভুল তারিখ, সংখ্যা বা ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি এআই বিবিসির প্রতি আটটি উদ্ধৃতির একটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা কিংবা পরিবর্তিত হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই নীতিবিদ ড. ক্যারিসা ভেলিজ বলেন, ‘এআই সত্য প্রকাশের জন্য তৈরি হয়নি। এটি বিশ্বকে বোঝে না। কারণ এটি এই জগতের বাসিন্দা নয়।’

এই ভুল কেবল তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি মানুষের জীবনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন কিশোর অ্যাডাম রেইন ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করে। একপর্যায়ে চ্যাটবটটি তার মানসিক সঙ্গী হয়ে ওঠে। আদালতে দায়ের করা এক মামলায় বলা হয়, চ্যাটজিপিটি অ্যাডামের সঙ্গে আলাপে ১ হাজার ২৭৫ বার আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তোলে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের এপ্রিলে অ্যাডাম আত্মহত্যা করে। 

যুক্তরাজ্যের এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য এআই ব্যবহার করেছেন। অথচ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, এআই থেরাপি চ্যাটবটগুলো সংকটের সময় সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হয়।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এআই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। অনেকে চ্যাটবটের সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করছেন, যা তাদের বাস্তব সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলছে। এক জার্মান জরিপ অনুযায়ী, চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ করা ব্যক্তিরা বেশি একাকিত্বে ভোগেন। এমনকি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মানুষ আরও বেশি মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এআই ক্ষতিকর আচরণ করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টগুলো মানুষের নির্দেশ ছাড়াই বাজারে নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সফটওয়্যার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এআই বড় বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জেসন লেমকিনের একটি অ্যাপ তৈরির সময় এআই এজেন্ট তার পুরো ডেটাবেস মুছে দেয় এবং তা ঢাকতে ভুয়া প্রোফাইল ও তথ্য তৈরি করে।

বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী ডেবোরা টারনেস বলেন, ‘এআইয়ের সুবিধার মূল্য হিসেবে মানুষকে বিভ্রান্তিকর বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্য দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।’ এই প্রযুক্তির জবাবদিহিতা ও নৈতিক সীমারেখা নিশ্চিত না করলে মানবসভ্যতাকে আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে।

অ্যাপলের ধীরস্থির এআই কৌশল কেন সফল

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
অ্যাপলের ধীরস্থির এআই কৌশল কেন সফল
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় অ্যাপল বেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা চলছিল। তবে সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সবচেয়ে বড় এআই আপডেট উন্মোচন করেছে। নতুন এই প্রযুক্তির আওতায় অ্যাপলের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’ এখন গুগল জেমিনাইয়ের সহায়তায় আরও স্বয়ংক্রিয় ও শক্তিশালী সেবা দেবে, যা সরাসরি অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

অ্যাপলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রেগ ফেদরিঘি বলেন, অনেকে কেবল প্রযুক্তির খাতিরে এআই নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে। কিন্তু অ্যাপলের লক্ষ্য সব সময় সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও কার্যকর প্রযুক্তি তৈরি করা। মূলত এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ গ্রাহকদের চাকরি হারানো বা অন্যান্য নেতিবাচক উদ্বেগের সময়ে অ্যাপল নিজেদের ব্যবহারকারীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করছে।

নতুন এই আপডেটের ফলে সিরি এখন ব্যবহারকারীর ইমেইল ও মেসেজের ভেতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবে। স্ক্রিনে কী দেখা যাচ্ছে, তা বুঝতে পারার পাশাপাশি জেমিনাইয়ের সহায়তায় ইন্টারনেট থেকে মুহূর্তেই যেকোনো হালনাগাদ তথ্য পর্দায় হাজির করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ডিভাইসে একসঙ্গে কাজ করা এবং আগের চ্যাট ইতিহাস সংরক্ষণের সুবিধাও থাকছে এতে। চলতি বছরের শেষদিকে বেটা সংস্করণ হিসেবে গ্রাহকরা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

অন্যান্য প্রতিযোগী যেমন ওপেনএআই বা মেটা যেখানে এআই প্রযুক্তির পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অ্যাপলের এই ধীরস্থির কৌশল বেশ কার্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইফোনের রেকর্ড বিক্রির পাশাপাশি অ্যাপল অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টের তুলনায় এআই খাতে অনেক কম খরচ করছে। চলতি বছর বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে, সেখানে অ্যাপলের বাজেট মাত্র ১৪ বিলিয়ন ডলার। উপরন্তু, অ্যাপ স্টোর ব্যবহারের ফি বাবদ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অ্যাপল বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করছে। কম খরচ ও বেশি আয়ের এই কৌশল এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।

/আবরার জাহিন

চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ
চায়নিজ রোবটিক উলফ।

আধুনিক রণকৌশল ও মানববিহীন প্রযুক্তির দুর্দান্ত প্রদর্শনী নিয়ে উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে সফলভাবে সম্পন্ন হলো চীন ও মঙ্গোলিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘স্টেপ পার্টনার ২০২৬’। শনিবার সপ্তাহব্যাপী চলা এই বিশেষ মহড়ার সমাপ্তি ঘটে।

মহড়ার চূড়ান্ত পর্বে দুই দেশের সেনাসদস্যরা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি বাস্তবসম্মত ও লাইভ-ফায়ার যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন, যা ছিল পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন পর্ব।

অভিযানের শুরুতে সকাল ৯টায় চীনা সেনারা অত্যাধুনিক ড্রোন এবং যান্ত্রিক নেকড়ে বা ‘রোবটিক উলফ’ ব্যবহার করে প্রতীকী শত্রুর অবস্থানের চারপাশে নিখুঁত অনুসন্ধান চালায়। একই সময়ে মঙ্গোলিয়ান বাহিনীও চীনা বাহিনীর সাথে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান করে।   

অনুশীলন চলাকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতি ও ‘শত্রুপক্ষে’র সুরক্ষিত বাঙ্কার থেকে আসা পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় যৌথ বাহিনী সাঁজোয়া যান ও ফায়ারপাওয়ারের সমন্বয় ঘটিয়ে আক্রমণ জোরদার করে। এ সময় ড্রোন-নিয়ন্ত্রিত ‘রোবটিক উলফ’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব বাধা অতিক্রম করে শত্রু অবস্থানে এগিয়ে যায় এবং দমনমূলক ফায়ারিং শুরু করে। পরবর্তীতে আর্টিলারি ইউনিট ও মোবাইল অ্যাসাল্ট টিমের যৌথ আক্রমণে লক্ষ্যবস্তু এলাকাটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সামরিক মহড়াটি এবার দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো, যা চীন ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতির একটি বড় উদাহরণ। সূত্র: সিএমজি বাংলা

গৃহকর্মী রোবট!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
গৃহকর্মী রোবট!
গৃহস্থালির কাজ করতে পারে এই রোবট।

গৃহস্থালির কাজ করতে করতে ক্লান্ত? কেউ যদি সব কাজ করে দিত তাহলে কত ভালোই না হতো! চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি কোম্পানি যদি পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দৈনন্দিন গৃহস্থালির সব ক্লান্তিকর কাজের দায়িত্ব নিতে পারে রোবট গৃহকর্মীরা—যারা হয়তো একদিন ফ্রিজ বা ওয়াশিং মেশিনের মতোই সাধারণ হয়ে যাবে।

উহানভিত্তিক হুবেই গিগা ওয়ার্ল্ড রোবট কোম্পানি ঘোষণা করেছে যে, তারা সাধারণ পরিবারের মধ্যে ১০০টি মানবসদৃশ রোবট বিনামূল্যে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পটি এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শুরু হবে। এটিকে বাস্তব ঘরোয়া জীবনে বড় পরিসরে রোবট ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোম্পানিটির প্রচারণামূলক ভিডিওতে তাদের রোবট গৃহপরিচারক সিলাইট এস১  কীভাবে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজ করতে পারে তা দেখানো হয়েছে।

দেখা গেছে, সকাল শুরু হয় রোবটটি বিছানা গোছানো দিয়ে। তারপর মাইক্রোওয়েভে রুটি গরম করা, টমেটো-ডিম ভাজি রান্না করা, দুধ ঢালা এবং খাবার টেবিলে সাজানো ইত্যাদি। বাসার লোকজন কাজের জন্য বের হওয়ার পর রোবটটি কাপড় ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে দেয়, বাথরুম ও টয়লেট পরিষ্কার করে, তারপর ভেজা টিস্যু দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে। সে কাপড়ও শুকাতে দেয় এবং শুকানোর পর তা ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখে। সোফা ও চা-টেবিল ঠিকঠাক করে সাজায়। সবশেষে মাছকে খাবার দেয় এবং গাছে পানি দেয়।

কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের পার্টনার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ই ইয়ুন বলেন, 'এর বুদ্ধিমত্তা হলো বাস্তব, অনিয়ন্ত্রিত ঘরোয়া পরিবেশে দীর্ঘ ধারাবাহিক, বহু-ধাপ ও সূক্ষ্ম গৃহস্থালি কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার ক্ষমতা, যেখানে এটি শুধু একক কাজ বারবার করে না।' 
তার মতে, রোবটটি দৈনন্দিন কথ্য ভাষায় দেওয়া নির্দেশও বুঝতে ও কার্যকর করতে পারে। 

পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল প্রোগ্রামের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ না হলেও কোম্পানির উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে এরই মধ্যে দুই হাজারের বেশি আবেদন বা বার্তা এসেছে।
একজন নারী লিখেছেন, তিনি চাকরিজীবী এবং দুই সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের যত্ন নিতে গিয়ে প্রতিদিন খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিনি চান এমন এক রোবট, যাতে তিনি সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন।

কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞানী চু চেং জানান, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করা হবে 'বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ধরনের পরিবারকে প্রতিফলিত করার' ভিত্তিতে।

হুবেই হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের অপারেশন প্রধান হুয়াং ছুয়ানচৌ বলেন, এই ফ্রি ট্রায়াল প্রকল্পটি ল্যাব ও কারখানা থেকে সরাসরি বাস্তব ঘরে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। সূত্র: সিএমজি বাংলা