ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

ঈদে ৪০ হাজার টাকায় বাজারের সেরা প্রিমিয়াম স্মার্টফোন

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
ঈদে ৪০ হাজার টাকায় বাজারের সেরা প্রিমিয়াম স্মার্টফোন
ফোন কিনতে গেলে আগে থেকে যাচাই করে নেওয়া চাই এর ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা। ছবি : সংগৃহীত

আসছে ঈদে বহুদিনের পুরনো ফোনটি বদলে নতুন ফোন কিনতে চাচ্ছেন, অথবা প্রিয়জনকে ফোন উপহার দেবার কথা ভাবছেন। কিন্তু মন মতো পছন্দ ও বাজেটের ফোন পাচ্ছেন না। তাই তো ফোন কিনতে গেলে আগে থেকে যাচাই করে নেওয়া চাই এর ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বাজেট। বিশেষ করে এই ঈদে ৪০ হাজার টাকার বাজেটের মধ্যে সেরা প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বেছে নিতে চাইলে এখনই দেখে নিতে পারেন বাজারের আকর্ষণীয় অপশনগুলো। এই বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ ভালো ফোনটি এর মধ্যে থেকে আপনি কোনটি বেছে নেবেন, ঈদের আগেই ঠিক করে নিন, যাতে ঈদ আনন্দে আপনার হাতেও থাকে নতুন স্মার্টফোন।

টেকনো ক্যামন ৫০
টেকনোর ক্যামন ৫০ স্মার্টফোনটির বিশেষত্ব হচ্ছে এর ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি ওআইএস ক্যামেরা, যা দিয়ে কম আলোতেও দারুণ ছবি তোলা যায়। সঙ্গে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং ৩২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, ফলে ফটোগ্রাফি ও সেলফি, দুই ক্ষেত্রেই পাওয়া যায় চমৎকার অভিজ্ঞতা। ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১.৫কে ১৪৪ হার্জ ডিসপ্লে, মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ আলটিমেট প্রসেসর এবং ৬৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি, যা ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে। এছাড়াও টেকনো এআই ফিচার ও মিলিটারি-গ্রেড টেকসই ডিজাইন ফোনটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফোনটির ৮ জিবি+১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩৪,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)। এবং ৮ জিবি+২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩৮,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।

বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সে এখন বাজারে এবং ব্যবহারকারীদের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে আছে ক্যামন ৫০, তবে যাদের বাজেট আরেকটু বেশি এবং আরো উন্নত ক্যামেরা ও পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য রয়েছে টেকনো ক্যামন ৫০ আলট্রা ফাইভজি। এতে আছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি ওআইএস ক্যামেরা, ৩x টেলিফটো লেন্স, এআই ১০০x সুপারজুম এবং ৪ ন্যানোমিটারের ডাইমেনসিটি ৭৪০০ প্রসেসর। ফোনটির ৮ জিবি+২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম ৪৬,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।

পোভা কার্ভ ২ ফাইভজি
টেকনো পোভা কার্ভ ২ ফাইভজির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মাত্র ৭.৪২ মিলিমিটার স্লিম বডির মধ্যে থাকা শক্তিশালী ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যা সাধারণ ব্যবহারে টানা তিনদিন পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। এতে রয়েছে ৪৫ ওয়াট সুপার চার্জ ও বাইপাস চার্জ প্রযুক্তি। ফোনটিতে আছে প্রিমিয়াম কার্ভড ডিজাইন, ৬.৭৮ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ৪,৫০০ নিটস
ব্রাইটনেস। পাশাপাশি কর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই, আইপি৬৪ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স এবং ১.৫ মিটার ড্রপ রেজিস্ট্যান্স ফোনটিকে করেছে আরও টেকসই ও নির্ভরযোগ্য। পাশাপাশি রয়েছে পাওয়ারফুল ফাইভজি প্রসেসর। টেকনো পোভা কার্ভ ২ ফাইভজি আপাতত বাজারে এসেছে দুটি ভ্যারিয়েন্টে। বেস মডেলে রয়েছে ১২৮ জিবি রম এবং ৮ জিবি র‍্যাম, যার দাম ৩৬,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)। অন্যদিকে প্রিমিয়াম ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ২৫৬ জিবি রম এবং ৮ জিবি র‍্যাম, এটির দাম পড়বে ৩৯,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।

দুটি ভ্যারিয়েন্টেই পাওয়া যাবে একই মানের অসাধারণ ব্যাটারি পারফরম্যান্স, যা এই ডিভাইসটির মূল আকর্ষণ। ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার ও ডলবি অ্যাটমস প্রযুক্তি এনে দেবে মনোমুগ্ধকর অডিও অভিজ্ঞতা। ফ্রিলিংক ২.০ দীর্ঘ দূরত্বেও নেটওয়ার্ক ছাড়া কানেক্টিভিটির সঙ্গে আপোস করে না এবং ফোনটিতে থাকা টাচ ট্রান্সফার ফিচার অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইসের মধ্যে ডেটা স্থানান্তরকে করে তোলে আরো সহজ ও সাবলীল।

অপো এ৬এস প্রো ফোরজি
অপো এ৬এস প্রো স্মার্টফোনটির বিশেষত্ব হচ্ছে এর ৭০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি, যা দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা ও ৫০ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, ফলে দারুণ মানের ছবি ও সেলফি তোলা সম্ভব। পাশাপাশি রয়েছে হেলিও জি১০০ ফোরজি প্রসেসর। ফোনটির ৮ জিবি+২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৩৯,৯৯০ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।

ভিভো ভি৬০ লাইট ফোরজি
ভিভো ভি৬০ লাইট স্মার্টফোনটির ক্যামেরার বিশেষত্ব হচ্ছে, অরা লাইট পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি সিস্টেম দিয়ে রাতের আলোতেও খুব সুন্দর পোর্ট্রেট ছবি তোলা সম্ভব। ফোনটিতে থাকা ৬৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্লুভোল্ট ব্যাটারি ও ৯০ ওয়াট ফ্ল্যাশচার্জ থাকায় চার্জিং হয় খুবই দ্রুত। ফোনটির ৮ জিবি+২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৩৪,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।

ইনফিনিক্স জিটি ৩০ প্রো
ইনফিনিক্স জিটি ৩০ প্রো স্মার্টফোনটির বিশেষত্ব হচ্ছে এর মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৩৫০ আলটিমেট প্রসেসর ও ১৪৪ হার্টজ অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যা গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা দেয়। ফোনটিতে রয়েছে ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং ৫৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি, যা ব্যাটারির দিক দিয়ে অন্য মডেলগুলো থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকবে তবে রেগুলার ইউজে ১ দিন প্লাস ব্যবহার করা সম্ভব এই ফোন। ফোনটির ১২ জিবি+২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৩৭,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।

রিয়েলমি ১৪ ফাইভজি
রিয়েলমি ১৪ স্মার্টফোনটির বিশেষত্ব হচ্ছে এর ৬০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি ২০২৬ সালের ম্যাসিভ ব্যাটারি ট্রেন্ডে এই ফোনটিও কিছুটা পিছিয়ে থাকবে। এছাড়া ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং ১২ জিবি র‍্যাম, ফলে ছবি তোলা ও দৈনন্দিন ব্যবহারে পাওয়া যায় মসৃণ পারফরম্যান্স। ফোনটির ১২ জিবি+২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৪১,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।

এই সবগুলো ফোনই বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী, বিভিন্ন ফিচারকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনো বিশেষত স্টাইলিশ গ্যাজেটপ্রেমী তরুণদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে স্মার্টফোন তৈরি করে থাকে। তাই এই ব্র্যান্ডটির স্মার্টফোনগুলোতে শক্তিশালী ক্যামেরা, বড় ব্যাটারি, উন্নত এআই ফিচার এবং আকর্ষণীয় ডিসপ্লে প্রযুক্তি দেখা যায়। পাশাপাশি এতে থাকা এআই ফিচারগুলো ফোন ব্যবহারকে এতটাই মজাদার করে তোলে যে তরুণদের কাছে এর বিশেষ আবেদন তৈরি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বর্তমানে বাজার মাতিয়ে বেড়ানো টেকনোর স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে ক্যামন ৫০ ফোনটি সাশ্রয়ী বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে টেকনো নিয়ে এসেছে বিশেষ ক্যাম্পেইন, যেখানে ক্যামন বা পোভা সিরিজের যেকোনো স্মার্টফোন কিনলেই গ্রাহকরা ল্যাপটপ ও ইলেকট্রিক বাইকের মতো আকর্ষণীয় মেগা উপহার জেতার সুযোগ পাচ্ছেন। ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অফার চলবে ঈদ পর্যন্ত, যা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

আসুসের নতুন ল্যাপটপ এক্সপার্টবুক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
আসুসের নতুন ল্যাপটপ এক্সপার্টবুক
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের ‘কম্পিউটেক্স’ প্রযুক্তি মেলায় বেশ কয়েকটি নতুন উইন্ডোজ ল্যাপটপ উন্মোচন করেছে আসুস। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরানো যায় এমন একটি কনভার্টিবল মডেল, বিজনেস ল্যাপটপ এবং তিনটি ভিন্ন প্রসেসরের জেনবুক ১৪ মডেল। নতুন এই কম্পিউটারগুলো পেশাদার কাজ ও দৈনন্দিন ব্যবহারে গ্রাহকদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আসুস এক্সপার্টবুক বি৫ ফ্লিপ জি২’। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরানো যায় এমন এই ল্যাপটপটি ট্যাবলেট, টেন্ট এবং ডিসপ্লে মোডে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ওজন ২.৯ পাউন্ড। এতে দুটি ক্যামেরা এবং একটি এমপিপি ২.০ স্টাইলাস পেন রয়েছে, যা ল্যাপটপের ভেতরেই চার্জ করা যায়। মাত্র ১৫ সেকেন্ড চার্জে পেনটি ৬০ মিনিট ব্যবহার করা সম্ভব। এটি ইন্টেল কোর ৭ প্রসেসর, ১৮ টপস এনপিইউ, ৩২ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজসমৃদ্ধ। ল্যাপটপটিতে দ্রুত চার্জিং সুবিধাসহ সারা দিন চলার মতো ব্যাটারি ব্যাকআপ রয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এটি বাজারে আসবে।

এ ছাড়া আসুস মিলিটারি-গ্রেড সুরক্ষাসম্পন্ন ১৪ ও ১৬ ইঞ্চি সাইজের ‘এক্সপার্টবুক পি৫’ এবং ‘পিএম৫’ মডেলের ল্যাপটপ এনেছে। এগুলো ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৭ এবং এএমডি রাইজেন প্রসেসর দ্বারা চালিত। মেলায় স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর ও ২০ ঘণ্টার বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপসমৃদ্ধ ‘ভিভোবুক এস১৪ ফ্লিপ’ এবং ‘এস১৬ ফ্লিপ’ মডেলের ল্যাপটপও প্রদর্শন করা হয়।

আসুস জেনবুক ১৪ মডেলটি তিনটি ভিন্ন প্রসেসর ও উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরযুক্ত মডেলটি সবচেয়ে হালকা, যার ওজন মাত্র ২.৪৩ পাউন্ড। 

এতে রয়েছে ৮ কোরের প্রসেসর এবং ৪৫ টপস ক্ষমতাসম্পন্ন এনপিইউ। অন্য দুটি মডেল ইন্টেল ও এএমডি রাইজেন প্রসেসর দ্বারা চালিত। এএমডি মডেলটিতে ২৪ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম এবং ওএলইডি ডিসপ্লে রয়েছে। অন্যদিকে ইন্টেল মডেলটিতে সর্বোচ্চ ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ওএলইডি ডিসপ্লে এবং থান্ডারবোল্ট ৪ পোর্ট দেওয়া হয়েছে। এই জেনবুক মডেলগুলোর দাম ও বাজারে কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

পিসিতে সরাসরি এআই ব্যবহারে এনভিডিয়ার নতুন চিপ

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
পিসিতে সরাসরি এআই ব্যবহারে এনভিডিয়ার নতুন চিপ
ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য নতুন একটি চিপ উন্মোচন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। ‘আরটিএক্স স্পার্ক’ নামের এই পিসি চিপটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যবহার করা যাবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই উদ্ভাবন এআই ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়াকে বদলে দেবে।

তাইওয়ানের ‘কম্পিউটেক্স’ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং এই চিপের ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের সঙ্গে তিন বছরের যৌথ প্রচেষ্টায় এআই যুগের উপযোগী কম্পিউটার তৈরি করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিপটি তাইওয়ানের আরেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান মিডিয়াটেকের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের নিজস্ব মেমোরি ব্যবহার করে এআই এজেন্ট চালাতে পারবে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিল শাহ বলেন, এই চিপ প্রচলিত কম্পিউটারকে একটি সত্যিকারের কাজের এআই কম্পিউটারে রূপান্তর করবে।

পিসি চিপের পাশাপাশি এনভিডিয়া তাদের নতুন ‘ভেরা’ সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ) উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়া প্রধান জানান, ভেরা সিপিইউ মূলত এআই এজেন্টের কাজের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ব্যবহার শুরু করেছে। গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির আয়সংক্রান্ত এক সভায় হুয়াং বলেন, নতুন ভেরা প্রসেসরের মাধ্যমে এনভিডিয়া নতুন করে আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশ করতে পারছে। এটি তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হবে।

এআই প্রযুক্তির কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কাকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেনসেন হুয়াং। তিনি যুক্তি দেন যে, এই প্রযুক্তি কর্মীদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করছে। তাইওয়ানে জন্ম নেওয়া হুয়াং দেশটিকে এআই বিপ্লবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে প্রতিবছর ১৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের দুই সপ্তাহ পর তাইপেইতে তিনি এই বক্তব্য দেন।

র‌্যাম্পে মানুষের সঙ্গে হাঁটল হিউম্যানয়েড রোবট

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
র‌্যাম্পে মানুষের সঙ্গে হাঁটল হিউম্যানয়েড রোবট
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শোয়ে মানুষের পাশাপাশি র‌্যাম্পে হেঁটেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির এমন এক ভবিষ্যতের আভাস পাওয়া গেল, যেখানে রোবট শুধু কাজের সরঞ্জাম নয়, বরং সংস্কৃতিরও অংশ হবে।

‘ম্যাক৩৩: ফিজিক্যাল এআই ফ্যাশন শো’ নামের এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি করপোরেশন। সিউলের নবনির্মিত ‘গ্যালাক্সি রোবট পার্ক’-এ এই জমকালো প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ ও রোবটের একসঙ্গে বসবাসের ধারণা থেকে এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়।

ফ্যাশন শোতে মানুষের মতো দেখতে রোবটগুলো ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক পরে মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্যাটওয়াক করে। শুধু তা-ই নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তারা নিখুঁতভাবে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবিও তুলেছে। সাধারণত রোবটকে বিভিন্ন কারখানা, গবেষণাগার বা প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে দেখা যায়। তবে এই প্রথমবারের মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনোদনের মাধ্যমে রোবটকে একদম ভিন্নরূপে উপস্থাপন করা হলো।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি করপোরেশন মূলত উন্নত প্রযুক্তি ও বিনোদনকে একসঙ্গে মিলিয়ে কাজ করে। কোরিয়ান পপ তারকা জি-ড্রাগনের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ব্যবস্থাপনাও করে এই প্রতিষ্ঠানটি। আগামী দিনে রোবট কনসার্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি রোবট ব্যবহার করা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া তার মধ্যে অন্যতম। দেশটিতে প্রতি ১০ হাজার শ্রমিকের বিপরীতে ১ হাজারেরও বেশি শিল্প-রোবট রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গবেষকরা রোবটকে শুধু কলকারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। যদিও রোবটের ভারসাম্য ও মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখনো কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সিউলের এই ফ্যাশন শো প্রমাণ করে যে মানুষের একচেটিয়া জায়গাগুলোতেও এখন রোবট নিজের স্থান করে নিচ্ছে।

/আবরার জাহিন

এআই বদলে দিচ্ছে অনলাইন জগৎ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
এআই বদলে দিচ্ছে অনলাইন জগৎ
ছবি: সিএনএন থেকে

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী সার্চ ইঞ্জিন গুগল তাদের দীর্ঘদিনের আইকনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার করছে। এর প্রধান কারণ হলো, ব্যবহারকারীদের দিন দিন বাড়তে থাকা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘ অনুরোধ। 

গুগল সার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি স্টেইন সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মানুষ এখন এমন সব কঠিন প্রশ্ন করছে যার কোনো নির্দিষ্ট বা সরাসরি উত্তর ইন্টারনেটের কোথাও এককভাবে নেই। এই নতুন চাহিদা মেটাতে গুগল এখন কাস্টম ভিজ্যুয়াল, ইন্টারঅ্যাক্টিভ গ্রাফিক্স ও সরাসরি সার্চ পেজের মধ্যেই মিনি-অ্যাপ চালানোর মতো ফিচার নিয়ে কাজ করছে। এটি গুগলের গত ২৫ বছরের ইতিহাসে সার্চ ইঞ্জিনের সবচেয়ে বড় আপডেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন আর আগের মতো সংক্ষিপ্ত বা সাধারণ কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে কিছু খুঁজছে না। তারা এখন চ্যাটজিপিটির মতো এআই অ্যাপগুলোর আদলে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সার্চ করতে শুরু করেছে। আগে মানুষ দুই থেকে তিনটি শব্দের মাধ্যমে কোনো কিছু খুঁজত। এখন ৫ থেকে ১০, এমনকি ১১ শব্দের দীর্ঘ বাক্যে পরিণত হয়েছে অনুরোধ।

এসইও ও মার্কেটিং-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সেমরাস তাদের বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ইন্টারনেটে কথোপকথনের ভঙ্গিতে খোঁজার হার ৫ শতাংশ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এখনো অনেকে তিন শব্দের প্রথাগত পদ্ধতিতে সার্চ করছেন। অবশ্য দীর্ঘ বাক্যের সার্চের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

গুগল ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের আচরণের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। সেমরাস প্রায় এক বিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। 

সেখানে দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটির রেফারেল ট্রাফিকের ২০ শতাংশ সরাসরি গুগলে যায়। মানুষ সাধারণত সরাসরি কোনো তথ্য জানতে বা লেনদেনের প্রয়োজনে এখনো গুগল ব্যবহার করে। 

অন্যদিকে দীর্ঘ কোনো তথ্যের সারসংক্ষেপ তৈরি করা, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে জটিল তুলনা করা অথবা কোনো বিষয়ের খসড়া তৈরির জন্য মানুষ চ্যাটজিপিটির মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। গুগল তাদের সার্চ বক্স বড় করছে, যেন ব্যবহারকারীরা আরও বেশি টেক্সট লিখতে পারেন। 

এর পাশাপাশি ছবি, ফাইল বা ব্রাউজার ট্যাব যুক্ত করে খোঁজার কাজকে আরও সহজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছবি তুলে বা ফোনের স্ক্রিনে কোনো কিছু বৃত্ত দিয়ে মার্ক করে খোঁজার প্রবণতা গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এআই মোডে বা কথোপকথনমূলক সার্চের হার প্রতি প্রান্তিকে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।

এআইয়ের প্রভাব কেবল সার্চ ইঞ্জিনের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই। এটি সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আইতানা লোপেজের মতো এআই তৈরি ইনফ্লুয়েন্সার বা প্রভাবশালী চরিত্ররা এখন বিপুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। 

লোপেজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে দেখা যায়, তিনি গ্ল্যামারাস ইভেন্টে যাচ্ছেন, জিমে শরীরচর্চা করছেন বা বিউটি টিপস দিচ্ছেন। তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ ছুঁইছুঁই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, লোপেজ কোনো বাস্তব মানুষ নন। তিনি পুরোপুরি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। 

বড় ব্র্যান্ডগুলো এখন রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়ে এই এআই চরিত্রদের সঙ্গে কাজ করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। কারণ এই ডিজিটাল চরিত্রগুলো মানুষের চেয়ে অনেক সস্তা। যেকোনো নির্দিষ্ট প্রচারের জন্য এদের সহজেই প্রয়োজনমতো রূপান্তর করা যায়। 

বিলিয়ন ডলার বয় নামের একটি সংস্থার তথ্যমতে, প্রায় ৮০ শতাংশ বিপণনকারী এখন এআই-তৈরি কন্টেন্টের পেছনে তাদের বাজেট বাড়িয়েছেন।

অনলাইন কেনাকাটার জগতেও এআই এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব ঘটাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রিটেইল বা খুচরা কেনাকাটার সাইটগুলোতে এআই পরিষেবার মাধ্যমে আসা ট্রাফিক প্রায় ৩৯৩ শতাংশ বেড়েছে। গুগল এই সপ্তাহে একটি বিশেষ ‘ইউনিভার্সাল শপিং কার্ট’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের বিভিন্ন আলাদা দোকানের পণ্য একটিমাত্র কার্টে যুক্ত করতে পারবেন। 

অন্যদিকে অ্যামাজন তাদের ‘রুফাস’ নামক শপিং অ্যাসিস্ট্যান্টকে ‘অ্যালেক্সা ফর শপিং’ টুলের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে ক্রেতারা সার্চ বারেই এআইকে পণ্যের গুণমান যাচাই বা দামের ইতিহাস সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারছেন। মেটা এবং ওপেনএআইও পিছিয়ে নেই, তারাও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শপিং টুল যুক্ত করছে।

এআইয়ের এই দ্রুত বিস্তার মানুষের মনে একধরনের উদ্বেগেরও জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মানুষের চাকরি কমে যাওয়া, তথ্যের নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। তবে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অধ্যাপক জোসেফ টুরো মনে করেন, এআই এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এআইয়ের দেওয়া সরাসরি উত্তরের কারণে অনেক সময় মানুষ মূল ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করছে না। এতে ওয়েবসাইটে সরাসরি ট্রাফিক কমলেও এসইও বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে, ট্রাফিক কমলেও যারা ওয়েবসাইটে আসছেন, তারা অনেক বেশি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আসছেন। ফলে কেনাকাটা সম্পন্ন করা বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার হার আগের চেয়ে বেড়েছে। 

এআই বর্তমান ইন্টারনেটের রূপরেখাকে এমনভাবে পরিবর্তন করছে যে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ডিজিটাল পৃথিবীতে রূপ নিতে পারে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সূত্র: সিএনএন

পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন ইলন মাস্ক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন ইলন মাস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ইলন মাস্ক কি পরিবেশবান্ধব টেকসই অর্থনীতির স্বপ্ন থেকে সরে আসছেন? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া স্পেসএক্সের একটি নথি বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এমনটাই ধারণা করছেন।

টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক অতীতে তার ‘মাস্টার প্ল্যান’-এ জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন। সেখানে খনিজ জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বদলে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত অর্থনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তব চিত্র এখন ভিন্ন। মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ তাদের ডেটা সেন্টারের জন্য এখন দেদারসে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করছে। এমনকি আরও ২৮০ কোটি ডলারের গ্যাস টারবাইন কেনার পরিকল্পনা করছে তারা। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি দিয়ে সাম্রাজ্য গড়া একজন উদ্যোক্তার জন্য এটি একটি বড় নীতিবদল।

অবশ্য মাস্ক তার এক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারে বেশ পটু। স্পেসএক্স টেসলা থেকে সাইবারট্রাক কিনেছে এবং এক্সএআই কিনেছে গ্রিড-সংলগ্ন ব্যাটারি ব্যবস্থা। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, এক্সএআই টেসলা থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সৌর প্যানেল কেনেনি।

স্পেসএক্সের নথিতে সৌরবিদ্যুতের উল্লেখ থাকলেও তা মূলত মহাকাশকেন্দ্রিক। মাস্ক এবং সিলিকন ভ্যালির অন্য শীর্ষ কর্তারা এখন মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী। সেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়ার কারণে পৃথিবীর চেয়ে পাঁচ গুণের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পৃথিবীতে ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব ও পরিবেশগত আপত্তির কারণে মাস্ক এখন মহাকাশে বড় সার্ভার স্টেশন বসানোর কথা ভাবছেন।

তবে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। মহাকাশে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচ হবে অনেক বেশি। তা ছাড়া মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে চিপ সুরক্ষা নিশ্চিত করাও বেশ ব্যয়বহুল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলো মাত্র ৪০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। অথচ মাস্কের ধারণা, ভবিষ্যতে এআইয়ের জন্য প্রতিবছর টেরাওয়াট-স্কেলের বিদ্যুৎ লাগবে, যা পৃথিবীতে জোগানো অসম্ভব।

অনেকের মতে, মহাকাশে যাওয়ার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বপ্ন পৃথিবীর সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনাকে আড়াল করছে। নক্ষত্র ছোঁয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি পৃথিবীতে জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন করার যে প্রতিশ্রুতি মাস্ক তিন বছর আগে দিয়েছিলেন, তা এক্সএআইয়ের ডেটা সেন্টার থেকে শুরু হতে পারত। সূত্র: টেকক্রাঞ্চ