মানবজাতির কাছে সবচেয়ে ভীতিকর একটি সত্য হলো মৃত্যু। জন্মিলে মরিতে হবে, এটা প্রত্যেক জীবের কাছে অবধারিত সত্য। পরকাল বলতে আদৌ কিছু আছে কি না, সেই বিতর্ক বহু যুগের। মৃত্যুর আগে মানুষ কী অনুভব করে, কী দেখে বা কী প্রত্যক্ষ করে এটিও এক রহস্যময় প্রশ্ন।
যদিও এই বিষয়টি অনেকের কাছে হতাশাজনক বা অস্বস্তিকর হতে পারে, তবুও মৃত্যুর ঠিক আগে কী ঘটে তা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি এ নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এক নার্স। তার নাম জুলি। তিনি প্রতিদিন মৃত্যুর কাছাকাছি থাকা রোগীদের সঙ্গে থাকেন।
যদিও এই বিষয়টি অনেকের কাছে হতাশাজনক বা অস্বস্তিকর হতে পারে, তবুও মৃত্যুর ঠিক আগে কী ঘটে তা নিয়ে মানুষের কৌতূহল প্রবল। সম্প্রতি এ নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এক নার্স জুলি, যিনি প্রতিদিন মৃত্যুর কাছাকাছি থাকা রোগীদের সঙ্গে থাকেন।
জুলি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইসিইউ নার্স হিসেবে কাজ করার পর গত পাঁচ বছর ধরে হসপিস কেয়ারে কাজ করছেন। তিনি সম্প্রতি তার অভিজ্ঞতা ভাগ করতে শুরু করেছেন।
হসপিস কেয়ার মূলত মরণাপন্ন রোগীদের ব্যথা ও যন্ত্রণা কমানো এবং মানসিক ও আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণে সহায়ক চিকিৎসা।
জুলির মতে, মৃত্যুপথযাত্রী রোগীরা জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহে প্রায়ই মৃত আত্মীয়-স্বজন, প্রয়াত বন্ধু কিংবা পুরনো পোষা প্রাণীকে দেখতে পান। তবে কেন এমন হয়, তা ব্যাখ্যা করা যায় না।
তার মতে, ‘আমরা নির্দেশনামূলক কাগজপত্রে লিখে দিই যাতে রোগী এবং তাদের প্রিয়জনরা বুঝতে পারেন কী ঘটছে, কারণ এটি ঘন ঘন ঘটে। তবে এর আসল কারণ বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমরা জানি না।’
জুলির আরও দাবি, রোগীরা এই দৃশ্য দেখে ভীত হন না, বরং মৃত আত্মীয়রা এসে তাদের সান্ত্বনা দেন। তারা প্রায়ই বলেন - ‘আমরা তোমাকে নিতে আসছি শিগগিরই’ বা ‘আমরা তোমাকে সাহায্য করব।’
কারও প্রশ্নে তিনি জানান, তিনি এটিকে হ্যালুসিনেশন মনে করেন না। কারণ তখন রোগীরা সচেতন ও সুস্থভাবে প্রতিক্রিয়া জানান।
জুলির ভিডিওতে বহু মানুষ মন্তব্য করে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ লিখেছেন, মৃত্যুর সময় তার দাদু বলেছিলেন যে তার পুরো পরিবার উপস্থিত আছেন। যখন নাতি তার হাত ধরেছিলেন, তখন বোঝা গিয়েছিল, তিনি তাদের কথা বলছেন না, বরং অন্য উপস্থিত আত্মাদের কথা বলছেন।
ব্রেন্ডাল নামে একজন লিখেছেন, তার অসুস্থ বন্ধু নীলের সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি দাবি করেছিলেন যে, তার দীর্ঘদিনের মৃত ভাই প্রায়শই তাকে দেখতে তার ঘরের কোণে লন চেয়ারে বসে থাকতেন। অন্য কেউ তাকে দেখতে পেত না। তবে এটি নীলকে অনেক সান্ত্বনা দিত। এটি তার মৃত্যুর অনেক আগে ঘটেছিল।
আনারয় লিখেছেন, আমার মা প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। তিনি একটি নার্সিংহোমে ছিলেন। মৃত্যুর প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তিনি আমাদের বলতেন যে তার বিছানার ধারে একটি ছোট ছেলে বসে আছে। তার একটি সন্তান মারা গিয়েছিল। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের ভাই তার জন্য অপেক্ষা করছিল।
ডেনাহোওয়ার্থ লিখেছেন, আমার দাদি মারা গেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন - তিনি এবং তার স্বামী বিছানায় পাশাপাশি বসেছিলেন। আমরা দেখতে পেলাম যেন তার মুখ থেকে কুয়াশা বেরিয়ে আসছে। তার আত্মা তার শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে। তিনি ছিলেন সেই বিশেষ দয়ালু এবং প্রেমময় ব্যক্তি যাকে সবাই ভালোবাসতো।
জোয়ার নামে একজন লিখেছেন, আমার স্বামী হঠাৎ মারা গেছেন। ওই দিন ছিল আমাদের বাড়িতে তার শেষ দিন। আমরা একসঙ্গে বসে ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করল, আজ আমরা ক্যাথির সঙ্গে কী করছি? আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ক্যাথি কোথায়? তিনি বললেন যে সে সোফায় বসে আছে। সে মারা যাওয়ার পর আমি এটা নিয়ে ভাবছিলাম এবং আমি বুঝতে পারলাম যে এটা আমার ভাগ্নি ক্যাথি হবে যে আমার স্বামীর কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছিল।
ইউমি লিখেছেন, আমি একজন চিকিৎসক। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে এটা সবসময় ঘটে। আর আমার নিজের দাদি যেদিন মারা গেছেন সেদিন তিনি আমাকে বলেছিলেন, সেদিন সকালে তিনি তার মাকে রাস্তায় দেখেছিলেন। এটা আমাকে একরকম খুশি করে।
গ্রেগফোস্টার লিখেছেন - ‘১৯৮৯ সালে এক হাসপাতালে আমার আর বাবার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল... আমি আর ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলছি আর বাবাও কথা বলতে শুরু করলেন। আর পরিবারের সদস্যদের দেখতে পেলের যারা মারা গেছেন... আমি বললাম বাবা আমি কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। আর তিনি বললে- ওরা তো ওখানেই আছে... কয়েক সপ্তাহ পরে ও চলে গেলেন... আমি এটা কখনো ভুলবো না...’
আরেকজন জানান, তার মায়ের মৃত্যুর শেষ দিনে তিনি একই ধরনের অভিজ্ঞতা শুনেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অধিকাংশ সিদ্ধান্ত এসেছে মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ থেকে।
জুলির ওই ভিডিওর নিচে অসংখ্য মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে এমন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। - নিউজএইটিন
অমিয়/