কানাডার কুখ্যাত শূকরের খামারী সিরিয়াল কিলারের মুখের ভেতরে ভাঙা ঝাড়ু ঢুকিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার অভিযোগে দেশটির কারাগারের এক বন্দী দোষ স্বীকার করেছেন।
গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্টিন চারেস্ট নামের এই বন্দি তার আইনজীবীর মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, তিনি পিকটনের হত্যার জন্য দোষ স্বীকার করার পরিকল্পনা করছেন। তাছাড়া, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত নন।
এই বন্দির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ মে কুইবেকের পোর্ট-কারটিয়ার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারে সিরিয়াল কিলার রবার্ট পিকটনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরার সময় চারেস্ট বলেন, "আমি জানি যে, আমরা নিজের হাতে ন্যায়বিচারের ভার তুলে নিতে পারি না, কিন্তু আমি তাকে ভুক্তভোগীদের জন্য হত্যা করেছি, নিজের জন্য নয়।" দ্য ভ্যাঙ্কুভার সান জানিয়েছে।
কুখ্যাত এই সিরিয়াল কিলার এসব হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যান ১৯৯০-এর দশকের শেষ থেকে ২০০০ সালের গোড়ার দিক পর্যন্ত। তবে বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী এই কৃষকের ভয়াবহ এসব হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্য অপরাধ উন্মোচিত হতে দুই দশকেরও বেশি সময় লেগে যায়।
নব্বইয়ের দশকে ভ্যাঙ্কুভারের রাস্তা থেকে কয়েক ডজন নারী নিখোঁজ হন। যাদের মধ্যে অনেক ভুক্তভোগী ছিলেন যৌনকর্মী এবং মাদকাসক্ত। এরপর এসব ঘটনা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে তদন্ত চলতে থাকলেও সেসব অন্তর্ধান রহস্যের কোনো সমাধান হচ্ছিল না।
এরপর সন্দেহের জায়গা থেকে পুলিশ পোর্ট কোকুইটলামের শহরতলিতে পিকটনের শূকরের খামারে তল্লাশি শুরু করে। এরপরই পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ!
পুলিশ সেই খামারে ৩৩ জন মহিলার দেহাবশেষ এবং ডিএনএ খুঁজে পায়। এরপর এই সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, পিকটন একবার একজন পুলিশ অফিসারের কাছে গর্ব করে বলেছিলেন যে, তিনি মোট ৪৯ জন মহিলাকে হত্যা করেছেন।
বিচার চলাকালীন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী অ্যান্ড্রু বেলউড বলেন, পিকটন তাকে বলেছিলেন যে, কীভাবে তিনি তার শিকারদের শ্বাসরোধ করে তারপর জবাই করে হত্যা করেছিলেন। এরপর তিনি এও বলেন যে, কীভাবে তিনি ভিক্টিমদের দেহের খণ্ডিত অংশ তার শূকরদের খাওয়াতেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, একবার পিকটনের খামার থেকে শুয়োরের মাংস কিনে আনা এক প্রতিবেশী তাদের কাছে দূষিত মাংস বিক্রির অভিযোগ করেন। কারণ তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে, সেই মাংসে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে!
পিকটনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল ছয়টি খুনের অভিযোগে। যার জন্য তাকে ২০০৭ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। পরে এই সিরিয়াল কিলার ছয়টি খুনের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
পিকটনের বয়স যখন ৭৪ বছর। তখনই পিকটনকে মুখের ভেতরে ভাঙা ঝাড়ু ঢুকিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে মার্টিন চারেস্ট নামের কারাগারের সেই বন্দি। পরে আহত অবস্থায় এই সিরিয়াল কিলারকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কুইবেকের একটি হাসপাতালে কোমায় চলে যাওয়ার ১২ দিন পর পিকটনের মৃত্যু হয়।
মনে করা হয়, পিকটন আরও কয়েক ডজন নারীকে হত্যা করেছেন। প্রতিটি শিকারকে ভ্যাঙ্কুভারের খামারে এনে তাদের জবাই করে এই খুনি কৃষক তার শূকরদের খাওয়াতেন।
এদিকে, ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ মামলাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে না নেওয়ার জন্য এখন সমালোচিত হচ্ছেন। কারণ নিখোঁজদের মধ্যে অনেকেই যৌনকর্মী বা মাদকসেবী ছিলেন।
যদিও পিকটনের বিরুদ্ধে ২৬ জন নারীর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল কিন্তু মাত্র ছয় জনকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তারা হলেন সেরিনা অ্যাবটসওয়ে, মোনা উইলসন, আন্দ্রেয়া জোসবারি, ব্রেন্ডা অ্যান উলফ, প্যাপিন এবং মার্নি ফ্রে।
এদিকে, খুনি পিকটন ২০১৬ সালে একটি স্ব-প্রকাশিত স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছিলেন যেটি অ্যামাজন পরে দ্রুত সরিয়ে ফেলে।
সুলতানা দিনা/