পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে চায় না বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ সংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইমরানের বিরুদ্ধে একশোরও বেশি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
সাবেক ক্রিকেট তারকা ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২০২৩ সালের মে মাসে কারারুদ্ধ হন।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২৩ সালের আগস্টের পর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেনি।
সম্প্রতি তিনি সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার প্রস্তাব করেন। তবে তার আদর্শ ও নীতির পরিপন্থি কোনো বিষয়ে রাজি হতে তিনি নারাজ।
পাকিস্তানের জনগণের কল্যাণই তার আদর্শের মেরুদণ্ড জানিয়ে ইমরান খান বলেন, ‘আজীবন কারাগারে থাকতে হলেও নিজের নীতির সঙ্গে আপস করব না।’
২০১৮ সালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতায় বসলেও পরে সেনাবাহিনীই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে আটক করে।
ইমরান আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা স্পষ্ট নাকচ করেছেন।
তাদের মতে, ইমরানকে মামলার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে। কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা তিনি পাবেন না।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘নিজে সবাইকে আইন মেনে চলার উপদেশ দিলেও ইমরান নিজে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে চান।’
এদিকে পাকিস্তানের ক্ষমতায় থাকা শেহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সেনাবাহিনীর সহায়তা পেয়ে আসছে। এমনকি সম্প্রতি শেহবাজের সরকার সেনাবাহিনী প্রধানের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোর আইন পাস করেছে।
এতে দেশটির বিচার বিভাগেও সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব বেড়ে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইমরান খান রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাবের বিষয়ে স্পষ্ট সমালোচক। তবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দোদুল্যমান।
তার বিরুদ্ধে করা মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে এসবকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিকে চলমান এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২৪ নভেম্বর রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ইমরান খান। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নাইমুর/পপি/