কয়েক বছর আগেও কল্পনা করা যেত না ইতালি হবে ইউরোপের অন্যতম স্থিতিশীল সরকারের দেশ। কারণ দেশটির জোট সরকারগুলো সাধারণত এক বছরের বেশি স্থায়ী হতো না।যা ইতালিকে খুব স্বাভাবিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল।
তবে সম্প্রতি একাধিক কারণে ইতালি ইউরোপের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
এর মধ্যে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো স্থিতিশীল দেশগুলোর সংকট এবং ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বে ইতালির বর্তমান জোট সরকারের জনপ্রিয়তা অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এর ফলে রোম এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের উন্নয়নে মূল খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্সির সময়।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী মেলোনির নেতৃত্বে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নতির দিকে যেতে পারে।
এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন তাদের দুজনেরই বন্ধু ইলন মাস্ক। গত সপ্তাহে মাস্ক, ট্রাম্প ও মেলোনি একসঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আমন্ত্রণে প্যারিসে এক নৈশভোজে অংশ নেন।
পরে ট্রাম্প এটিকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছি।’ তিনি মেলোনিকে একটি ‘লাইভ ওয়্যার’ (কম উচ্চতা) উল্লেখ করে মজা করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারা বিশ্বকে কিছুটা সোজা করতে পারেন। ট্রাম্প ও মেলোনি রাজনৈতিকভাবে মিললেও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংকট নিয়ে একমত নন।
এর মধ্যে ইউক্রেনের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক মেলোনি। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে অনেক বার সাক্ষাৎ করেছেন।
ট্রাম্পের ওপর মেলোনি কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন কি না তা বলা কঠিন। তবে ইউরোপে একপ্রকার প্রভাব বিস্তারে তার সুযোগ থাকবে। সূত্র: সিএনএন