যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে ইংরেজি নববর্ষের অনুষ্ঠানে সশস্ত্র সংগঠন আইএস-এর পতাকাবাহী একটি ট্রাক দিয়ে হামলার ঘটনায় ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।
বুধবারের (১ জানুয়ারি) এই হামলা চালান শামসুদ-দ্বীন জব্বার নামে এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
হামলার পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়।
হামলায় ব্যবহৃত ট্রাকটি তল্লাশি করে বেশ কিছু অস্ত্র ও বোমা পাওয়া গেছে।
জব্বারের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত বলে ধারণা করছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ফেডেরাল ব্যুরো অব ইনভেস্টটিগেশন (এফবিআই)।
এ ঘটনার পর আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টারে আরও কিছু বোমা উদ্ধার করে এফবিআই।
এ প্রসঙ্গে এফবিআই-এর কর্মকর্তা অ্যালিথিয়া ডানকান বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস জব্বার একা এই কাজটি করেনি। নিশ্চয়ই তার সঙ্গী ছিল। এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
হামলায় ব্যবহৃত ট্রাকে আইএসের পতাকা থাকায় সশস্ত্র সংগঠনটির সঙ্গে জব্বারের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে জব্বার আইএসকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
হামলার পর স্তব্ধ হয়ে পড়েছে নিউ অরলিন্সের স্বাভাবিক জনজীবন। নববর্ষ উদযাপন বন্ধ রেখে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কিমবারলি স্ট্রিকল্যান্ড বলেন, ‘সব স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ শুনলাম একটা বিকট আওয়াজ। এরপর ঘুরে দেখি চারদিকে চেচামেচি, রাস্তায় মরদেহ পড়ে রয়েছে।’
জব্বার প্রায় এক দশক মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। আগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করেছেন।
এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে বিভিন্ন সংকট ও স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর তিনি ইন্টারনেটে বিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর বারবান স্ট্রিট এলাকায় স্থায়ী ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বড় গাড়ি বেপোরোয়া চালালে আটকানো যায়। সূত্র: রয়টার্স
নাইমুর/অমিয়/