বিতর্কিত মুসলিম ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আর অশান্তির পারদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। শনিবার ( ১৯ এপ্রিল) ভারতের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের উদ্যোগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দরাবাদ এবং কর্ণাটকে বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
রবিবার(২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় দ্য ইকোনোমিক টাইমস।
এদিন কর্ণাটক রাজ্য উলেমা সমন্বয় কমিটির ব্যানারে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ ওয়াকফ সংশোধনী আইন, ২০২৫ এর প্রতিবাদে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা সংশোধিত আইনের বিধানগুলোর তীব্র বিরোধিতা করেন।তাদের মতে ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করে এবং ধর্মীয় ও দাতব্য দানগু্লোর উপর সম্প্রদায়ের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।
এই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কমিটির সভাপতি শেখুল্লাহ তাকওয়া ওস্তাদ বলেন, ওয়াকফ আইনে করা পরিবর্তনগুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে ‘দুর্বল’ করার গভীর প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন,’মুসলিম সম্প্রদায় অতীতেও অনেক নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু এবার, ওয়াকফ আইন সংশোধনের মাধ্যমে, ওয়াকফের গুরুত্ব হ্রাস করার একটি অন্তর্নিহিত প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।‘
তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে তাদের আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি জাতির বহুসাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
কর্ণাটক ওয়াকফ বোর্ডের প্রাক্তন সচিব শফি সাঈদী অভিযোগ করেন যে এই সংশোধনী একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ। তিনি বলেন, ‘আমরা এই দেশ শাসনকারী ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোকে উন্মোচিত করছি, এবং তবে আমরা বিশ্বাস করি ৫ মে, সুপ্রিম কোর্ট আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করবে’।
নতুন আইনের অধীনে ওয়াকফ সম্পত্তির শ্রেণীবিভাগ এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পণ্ডিত ও ধর্মগুরুদের একটি মূল উদ্বেগ ছিল যে, সংশোধিত আইনের বিভিন্ন বিধানের মাধ্যমে - বিশেষ করে ৩কে, ১৪ এবং ৪০ ধারা - ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন ইদগাহ, মসজিদ, কবরস্থান এবং মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখার পিছনে যুক্তিদিয়ে ওয়াকফ সম্পত্তি জোরপূর্বক অধিগ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে।
এই সমাবেশে একজন বক্তা উল্লেখ করেন, ‘একসময় সারা ভারতে ৩৬ লক্ষ একর ওয়াকফ জমির উপর মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। এখন তা কমে মাত্র ৯ লক্ষ একরে দাঁড়িয়েছে। অথচ মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে নীরব থাকতে প্ররোচিত করা হচ্ছে।
এছাড়া সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) দলের প্রধান এবং হায়দরাবাদের প্রভাবশালী রাজনীতিক আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, এই আইনটি বাতিল করতেই হবে, কারণ এটি সংবিধানের চেতনার বিরুদ্ধে।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এই সংশোধনীর ফলে অ-মুসলিমদের ওয়াকফ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষভকারীরা জানান, যতদিন না এই আইন প্রত্যাহার করা হয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস
দিনা/