ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন
Nagad desktop

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৫, ০১:২৮ পিএম
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের নিরাপত্তা জোরদার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত। এর অংশ হিসেবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সাথে সমন্বয় করে সীমান্তের সংবেদনশীল নানা এলাকায় যৌথ টহল শুরু করেছে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)।

শুক্রবার (২ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায় যৌথ টহল শুরু করেছে। সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সাথে সমন্বয় করে যৌথ টহল দেওয়া হচ্ছে। 

এনডিটিভি বলছে, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা, সেই সঙ্গে রেলওয়ের সম্পদ এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। রেলপথের যেসব অংশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছ দিয়ে গেছে, সেখানে নজরদারি আরও জোরালো করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করতে আরপিএফ, জিআরপি এবং বিএসএফ একসঙ্গে এই টহল শুরু করেছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) বিভিন্ন ডিভিশনে ইতোমধ্যেই এই যৌথ টহল চালানো হয়েছে, বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছের এলাকাগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনএফআর-এর বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, রেলওয়ের অবকাঠামো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি কোনো রকম চুরি, ভাঙচুর, অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনো ঝুঁকির চিহ্ন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এছাড়া সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল বহুদিন ধরে রোহিঙ্গাদের অবৈধ যাতায়াতের পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলেও দাবি করা হয় এই প্রতিবেদনে। সূত্র: এনডিটিভি

দিনা

 

 

কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন। দীর্ঘ সাত বছর পর পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, ‘কিম জং উনের আমন্ত্রণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং ৮ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া সফর করবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের কয়েক সপ্তাহ পরেই এই সফরে যাচ্ছেন শি।

চীন উত্তর কোরিয়ার একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটি কোণঠাসা অবস্থায় আছে।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তারা একে অপরকে সহায়তা প্রদান করবে। এই বছর সেই চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী পালিত হবে।

কিমের কাছে শির সফরের প্রচারণাগত গুরুত্ব সুস্পষ্ট। মহামারি মোকাবিলা করে এবং রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর পিয়ংইয়ং বিশ্বমঞ্চে তার অবস্থান উন্নত করেছিল।

পিয়ংইয়ং ও মস্কো উভয়ের সঙ্গেই বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিম ও পুতিনের মধ্যে গড়ে ওঠা জোট নিয়ে শি সন্দিহান। কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বেইজিংই কিমের জন্য প্রধান জীবনরেখা হয়ে আছে। আশা করা হচ্ছে, কিম স্থল সীমান্ত দিয়ে আরও বেশি বাণিজ্য এবং তার নবনির্মিত সমুদ্রসৈকত ও স্কি রিসোর্টগুলো প্রাণবন্ত করতে আরও বেশি চীনা পর্যটক চাইবেন।

কিম গর্বের সঙ্গে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগার প্রদর্শন করে আসছেন। তিনি সফররত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজধানী পিয়ংইয়ংও প্রদর্শন করছেন। তিনি বিশ্বকে জানাতে চান, এই সবকিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতজানু না হয়ে বা দক্ষিণের সঙ্গে কোনো সম্পর্কে না জড়িয়েই অর্জন করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করেছে যে তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সপ্তাহেই একটি নতুন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম বলেছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার ‘অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে’। সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রচেষ্টা চলছে। ইসরায়েলেও এই সমঝোতার সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

একটি চুক্তি হতে পারবে কি না এটা আসল প্রশ্ন নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি একটি সমঝোতায় পৌঁছায় তাহলে ইসরায়েল কী করবে?

ইসরায়েলি গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং নিরাপত্তা মহলে বিতর্কটি এখন চুক্তিটি পুরোপুরি ঠেকানোর চেষ্টার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। পরিবর্তে এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তি মোকাবিলার উপায় নিয়ে বেশি মনোযোগী ইসরায়েল। শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেই নয়, বরং এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের স্বাধীনতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।ইসরায়েলের উদ্বেগের একটি প্রধান দিক হলো, সম্ভাব্য যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির একটি সংশোধিত সংস্করণের অনুরূপ হবে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। কিন্তু তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক, ড্রোন এবং তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অক্ষুণ্ণ রাখবে।

সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সম্ভাব্য চুক্তিটি যুদ্ধের শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারবে না, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা, তেহরানের সামরিক কাঠামো দুর্বল করা এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা।

সংবাদমাধ্যমটির মতে, এই পর্যায়ে ইসরায়েলের লক্ষ্য হয়তো ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহর সৃষ্ট হুমকি বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা আদায় করা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলে কোনো ঐকমত্য নেই। ইসরায়েল ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ডিরেক্টরেটের ইরান বিভাগের সাবেক প্রধান ড্যানি সেট্রিনোভিচ তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গড়ে ওঠা চুক্তিটি ‘অনেক দিক থেকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি ভীতিকর পরিস্থিতি’ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি চূড়ান্ত আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকে এবং ট্রাম্প প্রশাসন এতে ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে নেতানিয়াহু এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন, যা তার মতে যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির চেয়েও খারাপ।

এমন একটি পরিস্থিতি, যা ড্যানি সেট্রিনোভিচ নিম্নরূপভাবে বর্ণনা করেছেন: ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো প্রকৃত নিষেধাজ্ঞা নেই, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় গ্রহণের কোনো আশা নেই এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ছে।’ দানি চেত্রিনোভিচ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ‘অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ’ চুক্তিও কোনো চুক্তি না থাকার চেয়ে ভালো হতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের সবাই এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, যদি এই যুদ্ধ ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে যেকোনো চুক্তিই একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

 এই মতবিরোধটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও বিশ্লেষণমূলক পরিমণ্ডলের একটি শূন্যতাকে প্রতিফলিত করে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, একটি সম্ভাব্য চুক্তি ইসরায়েলের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। কিন্তু আলোচনার সম্পূর্ণ ব্যর্থতা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামনে একাধিক বিকল্পও রয়েছে।

প্রথম বিকল্প: চুক্তিটি কঠিন করার চেষ্টা করা

ইসরায়েলের কাছে থাকা প্রাথমিক বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো যেকোনো চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা। গত ৬ মে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জেরুজালেম ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াকভ আমিদ্রোরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইরানের সাথে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং একটি কঠোর প্রয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

দ্বিতীয় বিকল্প: সামরিক কার্যকলাপের স্বাধীনতা বজায় রাখা

কিন্তু আরেকটি বিকল্পও রয়েছে, যা ইসরায়েল যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি সত্ত্বেও বজায় রাখতে চাইতে পারে। যাকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘কর্মের স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করেন। যার অর্থ হলো ইরান ও এই অঞ্চলে থাকা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলা বা সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা বজায় রাখা।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেছেন, ‘যদি ইসরায়েল এই চুক্তির অংশ না হয়, তবুও তার কাছে সমস্ত বিকল্প খোলা থাকবে।’তিনি মনে করেন ইসরায়েল কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু যে চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করেনি, তার দ্বারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের আবদ্ধ বলে বিবেচনা করার সম্ভাবনা কম।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিশ্লেষণে লিখেছে, সরাসরি মার্কিন সমর্থন ছাড়া ইরানের সঙ্গে একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা সীমিত থাকবে। বিশেষ করে যদি ওয়াশিংটন কূটনীতির পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তৃতীয় বিকল্প: গোপন যুদ্ধে প্রত্যাবর্তন

নতুন চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে যদি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়, তবে তারা একটি নতুন কৌশল অবলম্বন করতে পারে। আর তা হলো ‘যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধ’। এর মধ্যে সাইবার অভিযান, অন্তর্ঘাত এবং অতীতের মতোই লক্ষ্যবস্তুকে গুপ্তহত্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ইসরায়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে। 

ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মহলে এমন কথাও চলছে, বিষয়টি শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যম গোষ্ঠী ওয়াইনেট-এর ওয়েবসাইট গত মার্চে জানিয়েছে, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী একটি মূল্যায়ন দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা উস্কে দিতে সাহায্য করতে পারে। সূত্র: বিবিসি

নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উদ্বেগ যেন আরও বাড়ছে। মানুষের তৈরি করা এই প্রযুক্তি এখন নিজেই নিজেকে আরও উন্নত করার ক্ষমতা অর্জন করছে। ফলে একসময়ে এই শক্তিশালী এআই সিস্টেমের ওপর মানুষের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে। এমন এক আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিশ্বের সব বড় এআই কোম্পানিকে আপাতত এই প্রযুক্তির দৌড় থামানোর আহ্বান জানিয়েছে খ্যাতনামা টেক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ক্লোড’ নামক জনপ্রিয় এআইয়ের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, এআই এখন নিজেই নিজের উন্নত সংস্করণ বা উত্তরসূরি তৈরি করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রযুক্তিবিদরা একে বলছেন ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইম্প্রুভমেন্ট’ বা স্বয়ংক্রিয় ধারাবাহিক উন্নতি। সহজ কথায়, মানুষের কোনো রকম হস্তক্ষেপ বা সাহায্য ছাড়াই এআই এখন নিজেকে আরও বেশি শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারছে।

কোম্পানিটি আরও জানায়, তারা এআই তৈরির কাজ দিন দিন এআইয়ের ওপরেই বেশি ছেড়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন লক্ষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত কম্পিউটিং ক্ষমতা পেলে এআই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের চেয়েও উন্নত এআই ডিজাইনও তৈরি করতে সক্ষম হবে।

বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অ্যানথ্রোপিক জানায়, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের নিজস্ব মূল কোডবেসের ৮০ শতাংশের বেশি কোড লিখেছে তাদেরই তৈরি এআই ‘ক্লোড’। উল্লেখ্য, কোডবেস হলো যেকোনো সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি তৈরি, পরীক্ষা এবং তা টিকিয়ে রাখার মূল চালিকাশক্তি বা মাস্টারপ্ল্যান।
অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির তুলনায় অ্যানথ্রোপিক একটু ব্যতিক্রম। তারা প্রায়ই এআইয়ের দ্রুত উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে সতর্ক করে। তারা জানায়, প্রযুক্তির ধারা অনুযায়ী আগামী বছরগুলোতে এআই আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই ধারার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। নিজে নিজেই তৈরি হতে পারা এআই প্রযুক্তি মানব ইতিহাসের এক বিশাল বড় মাইলফলক হতে পারে। এটি বিজ্ঞান, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের জন্য অভাবনীয় কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, যদি কোনো এআই নিজেই নিজের উত্তরসূরি তৈরি করতে পারে, তাহলে সেটিকে নিরাপদ রাখা, পর্যবেক্ষণ করা এবং তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ফিউচার শিফট ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাগর বিষ্ণই এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতের এআই সিস্টেমের কোড যেহেতু এআই নিজেই লিখছে, তাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ এর ক্ষমতা বাড়ানো নয়, বরং একে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই স্বয়ংক্রিয় উন্নতি উদ্ভাবনের গতি অনেক বাড়িয়ে দেবে। তবে এটি নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলবে। আসল পরীক্ষা হবে এটিই নিশ্চিত করা যে, এআই যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
কাজ স্থগিত রাখার প্রস্তাব ও বিতর্ক এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যানথ্রোপিক বলছে, এই খাতের সব কোম্পানির একসঙ্গে বসে অত্যাধুনিক এআই বা ‘ফ্রন্টিয়ার এআই’ তৈরির কাজ কিছুদিনের জন্য ‘স্থগিত’ করা উচিত। তবে তারা এই ভয়ও পাচ্ছে যে, এই ধীরগতির সুযোগ নিয়ে যদি কম দায়িত্বশীল কোনো দেশ বা কোম্পানি প্রযুক্তিতে এগিয়ে যায়, তবে তা সবার নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।

কোম্পানিটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের কাজ সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা বিশ্বের জন্য ভালো হবে। এতে করে সমাজ ও গবেষকরা এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।’
তবে এআইনসিউরডের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘ধারণাটি শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কঠিন। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে চাইবে না।’

অবশ্য অ্যানথ্রোপিক বসে নেই। তাদের গবেষণা শাখা ‘অ্যানথ্রোপিক ইনস্টিটিউট’ এই ধীরগতির প্রক্রিয়াকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সিস্টেম বা কাঠামো নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে।

দ্য কাটিং এজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও এআই শিক্ষাবিদ অংশ মেহরা অ্যানথ্রোপিকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত আগামী ছয় মাস নতুন বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) প্রকাশে স্বেচ্ছায় বিরতি দেওয়া। এই সময়টায় মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাস্তব প্রয়োগে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ইতিহাসের উদাহরণ টেনে অংশ মেহরা বলেন, ‘আমরা ১৯৭০-এর দশকে ডিএনএ প্রযুক্তির সময়েও এমনটি দেখেছিলাম। তখন বিজ্ঞানীরা কেবল অন্ধের মতো আবিষ্কারের পেছনে ছুটে যাননি। তারা প্রথমে এর নিরাপত্তা নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা করেছিলেন।’

তবে পদ্মনাভুনির মতো তিনিও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এআই প্রতিযোগিতায় থাকা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বিরতিতে রাজি হবে কি না।
অন্যদিকে ‘শর্টহিলস এআই’য়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পবন প্রভাত অবশ্য মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় নিয়ে একটু ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “আমি ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ বা ‘টার্মিনেটর’ সিনেমার মতো চরম কোনো পরিস্থিতির ব্যাপারে চিন্তিত নই। কারণ এআই যদি কখনো মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, মানুষ সব সময়ই এর প্লাগ টেনে (লাইন কেটে) এটি বন্ধ করে দিতে পারবে।”

তবে তিনি সতর্ক করেছেন, নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য অনেক উপকার বয়ে আনতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে সামাজিক মূল্য বা নেতিবাচক প্রভাবও থাকবে।

খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার বার্তা নিয়ে আবারও ফিরে আসছে ‘এল নিনো’। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে এই আসন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের আগে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ ও নভেম্বরের আগে এই সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।

তবে বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের পটভূমিতে এবার এল নিনো আবির্ভূত হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব আরও মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে এশিয়া মহাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি এই অঞ্চলের কৃষি, বিদ্যুৎ গ্রিড ও পানি সরবরাহের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

ভারতের জন্য ‘প্রাণঘাতী সংমিশ্রণ’ মূল শঙ্কা হচ্ছে, এল নিনো ভারতের চলমান তীব্র তাপপ্রবাহকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি আসন্ন মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দিতে পারে। জুন মাসে শুরু হতে যাওয়া বর্ষা মৌসুমে ইতোমধ্যে ‘স্বাভাবিকের চেয়ে কম’ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানিসংকটে থাকা ভারতের জন্য এটি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

যদি এল নিনোর কারণে বৃষ্টিপাত দেরিতে হয়, তবে তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘায়িত হবে। এতে সাধারণ মানুষের জীবিকা ব্যাহত হবে ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। বৃষ্টির ঘাটতি কৃষকদের জন্য বড় বিপর্যয় নিয়ে আসবে। মে মাসের তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যে গম ও সরিষা ফসলের ক্ষতি করেছে। এল নিনো খরা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ভারতীয় কৃষি বিশেষজ্ঞ ও অ্যাক্টিভিস্ট দেবিন্দর শর্মা জলবায়ুর গতিপ্রকৃতি অনুসরণ করা প্রতিষ্ঠান ‘কার্বন কপি’কে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৬ সাল ভারতের জন্য একটি পরীক্ষা ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে।’

‘চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ শঙ্কা তৈরি করছে। আমরা এল নিনো আসছে বলে মনে করছি, যার প্রভাব জুলাই বা আগস্টে দৃশ্যমান হবে। এটি ভারতের জন্য, বিশেষ করে ভারতের কৃষির জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।’

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ভারতের কৃষকরা ইতোমধ্যে সারসংকটের শঙ্কায় রয়েছেন। এ ছাড়া এল নিনোর প্রভাব পড়তে পারে ভারতের মুম্বাই শহরের ওপর। মুম্বাইয়ের ২২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের পানির একমাত্র উৎস সাতটি বৃষ্টিনির্ভর হ্রদ। বর্তমানে এই হ্রদগুলোতে মাত্র ৪৫ দিনের পানি অবশিষ্ট রয়েছে। বর্ষা সময়মতো না এলে মুম্বাই বড় ধরনের পানির সংকটে পড়বে।

চীনের বিভিন্ন অংশে জরুরি রসদ মজুতের ডাক। চীনে গ্রীষ্মকালে সাধারণত বন্যা ও খরা উভয় পরিস্থিতিই দেখা যায়। জলবায়ুসংকটের কারণে এই দুর্যোগগুলো আরও তীব্র হয়েছে ও বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এল নিনোর কারণে চলতি বছর এই চ্যালেঞ্জ আরও বড় হবে। দেশটির জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্র জানিয়েছে, শরৎ ও শীতকালে এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এর ফলে দক্ষিণ চীনে বৃষ্টিপাত বাড়বে ও সারা দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু অংশে বৃষ্টিপাত গড় পরিমাণের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি হতে পারে।

তিব্বত মালভূমিতে অবস্থিত উত্তর-পশ্চিম চীনের উঁচু প্রদেশ ছিংহাইয়ের আবহাওয়া ব্যুরো সতর্ক করেছে, এল নিনোর প্রভাব এই মালভূমিতে ‘অপ্রত্যাশিত ও চরম’ হবে। ব্যুরো আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বাড়িতে জরুরি রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর ও জটিল’ বলে উল্লেখ করেছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। হুবেই প্রদেশসহ দেশের কিছু অংশে ইতোমধ্যে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য এক ‘স্ট্রেস টেস্ট’।মালয়েশিয়া সাবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক অধ্যাপক জাস্টিন সেনটিয়ান জানান, একটি শক্তিশালী এল নিনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও বায়ুদূষণ তৈরি করতে পারে। সাধারণত শক্তিশালী বাতাস পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে উষ্ণ পানি নিয়ে আসে, যা এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়। তিনি বলেন, ‘তবে এই বাতাস যখন দুর্বল বা উল্টো হয়ে যায়, তখন সেই উষ্ণ পানির প্রবাহ পূর্ব দিকে সরে যায়। এটি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বায়ুমণ্ডলীয় আর্দ্রতা থেকে বঞ্চিত করে।’ এর ফলে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, যা জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলবে, বিদ্যুৎ গ্রিডকে বিপর্যস্ত করবে ও পানির মজুত দ্রুত কমিয়ে দেবে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ভিজিটিং প্রফেসর ও বোস্টন কলেজের অধ্যাপক মিং ই জানান, কৃষি ও জলবিদ্যুৎশিল্প সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে জ্বালানি ও সারের ঘাটতি রয়েছে, যার কারণে তারা দূষিত জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

গ্লোবাল হিট হেলথ ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সাউথইস্ট এশিয়া হাবের চেয়ার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জেসন লি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এল নিনোর প্রত্যাবর্তন কেবল একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়। এটি ইতোমধ্যে চাপে থাকা ব্যবস্থাগুলোর জন্য স্ট্রেস টেস্ট।’

অধ্যাপক জাস্টিন সেনটিয়ান সতর্ক করেছেন, শুষ্ক মাটি ধান ও পাম তেলের মতো প্রধান ফসলের ক্ষতি করতে পারে। এটি খাদ্য সংকট তৈরি করবে ও বাজারের দাম বাড়িয়ে দেবে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর পুষ্টির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় যেখানে পানির অবকাঠামো দুর্বল, সেখানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। সেনটিয়ান বলেন, ‘শহরগুলো যেখানে কেন্দ্রীভূত ইউটিলিটি গ্রিড দিয়ে চলে, সেখানে বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়গুলো প্রায়ই অগভীর কুয়া, প্রাকৃতিক নদী ও পাহাড়ের ঝরণার ওপর নির্ভর করে।’

‘এল নিনোর কারণে বাষ্পীভবন দ্রুত হলে এই ভঙ্গুর পানির উৎসগুলো অদৃশ্য হয়ে যেতে বাধ্য। শোধন প্ল্যান্ট না থাকায় পরিবারগুলোর কাছে নদীগর্ভ থেকে অনিরাপদ, জমে থাকা পানি সংগ্রহ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এটি কলেরার মতো পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দেয়।’
অধ্যাপক মিং ই আরও জানান, শক্তিশালী এল নিনো ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো ক্রান্তীয় রোগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

পর্যটন খাতও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানান সেনটিয়ান। ব্যাংকক থেকে দা নাং পর্যন্ত বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে দর্শনার্থীদের জন্য আউটডোর আকর্ষণ ও সৈকতগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এ ছাড়া সুমাত্রা ও কালিমান্তানের মতো জায়গায় কৃষিজমি ও পিটল্যান্ডে আগুন লাগতে পারে। এর ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ার মেঘ সিঙ্গাপুর এবং কুয়ালালামপুরের মতো আর্থিক ও ট্রানজিট হাবগুলোকে ঢেকে ফেলতে পারে।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের স্কুল অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের ডিন অধ্যাপক বেঞ্জামিন হর্টন বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। তিনি যোগ করেন, ‘যে বিষয়টি এই পর্বকে আমার কাছে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক করে তুলেছে তা হলো এটি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের পটভূমিতে উন্মোচিত হচ্ছে। আমরা এখন আর আলাদাভাবে এল নিনোকে মোকাবিলা করছি না।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন বন্ধে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার পর এই প্রথম পুতিনকে সরাসরি প্রকাশ্যে চিঠি লিখলেন জেলেনস্কি। চিঠিতে তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের ২৬ বছরের ক্ষমতার ব্যাপক সমালোচনা করেন।

পুতিনের কাছে পাঠানো খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউরোপের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ফিরে আসা পর্যন্ত ‘অপেক্ষা করাটা ভুল হবে’। তার মতে, কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই শান্তির রাস্তা তৈরি হতে পারে।

চিঠিতে প্রস্তাবিত আলোচনার সময়সীমা পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। যদিও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আগেই এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন পুতিন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বৈঠকের ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন যে, এই দুই নেতার বৈঠক হলে তা ‘দারুণ হবে’।

ক্রেমলিন চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, পুতিনকে এর বিষয়বস্তু জানানো হবে। অবশ্য জেলেনস্কির চিঠির ভাষা ছিল দৃঢ় এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যঙ্গাত্মকও। যেখানে সম্প্রতি রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের চালানো হামলাগুলোর দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে বয়সের প্রভাব পুতিনের ওপর পড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া চিঠিতে একটি আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ইউক্রেন আমাদের অর্থাৎ আপনার এবং আমার- সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি।’ যদিও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব নতুন নয়, এর আগেও এমনটা হয়েছিল। যার প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিন জানিয়েছিল যে, জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে গিয়ে পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

তবে এবার লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কিয়েভ প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ‘পুরোপুরি ইরানের ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত’। জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ইউরোপের যুদ্ধ আবারও মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভুল হবে।’

সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন জানিয়েছেন, তিনি ‘নিশ্চিতভাবেই ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক’, তবে তিনি এ-ও যোগ করেছেন যে, উভয় পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। পুতিন ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প যেহেতু ইরান নিয়ে ব্যস্ত, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ জেলেনস্কিকে ভূখণ্ড সমর্পণের জন্য রাজি করাতে পারে।
পুতিনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেনকে অবশ্যই রাশিয়ার আংশিক দখলে থাকা চারটি অঞ্চল- দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টা থেকে ফিরে আসতে হবে।

ইউক্রেন এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে। কিয়েভের মতে, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে রাশিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। যেমনটা তারা ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সময় করেছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনাগুলোও ব্যর্থ হয়েছে।

১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ এই চিঠিতে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘এমন নয় যে ইউক্রেনে আমরা রুশ সৈন্যদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে আপনার যুদ্ধ আমাদের দেশে যা কিছু নিয়ে এসেছে তার পর। তবে আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা আমাদের মানুষদের হারাচ্ছি এবং প্রতিটি ক্ষতি আমাদের কাছে বেদনাদায়ক।’

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানিসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি অনুরোধ জানান, ‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথে পা বাড়াতে ভয় পাবেন না। এখন আপনার কাছে প্রধানত এটাই চাওয়া হচ্ছে।’

সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো দেশে এই মুখোমুখি আলোচনা হতে পারে বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিয়ে সিবিহা বলেছেন, ‘যুদ্ধ শেষ করার জন্য এই খোলা চিঠি একটি অর্থবহ প্রস্তাব। ‘আমরা এই প্রস্তাবের একটি অর্থবহ জবাব আশা করছি। এখন এই যুদ্ধ শেষ করার সময়। শান্তির পথ বেছে নেওয়ার সময় এসেছে,’ তিনি যোগ করেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই চিঠিটি এমন এক দিনে এসেছে যেদিন পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিচ্ছেন।

আর এর আগের দিনই রাশিয়ার একটি শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল কিয়েভ, যে ঘটনাকে জেলেনস্কি তার বার্তায় ‘পরিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপোল এলাকায় চারজনের মৃত্যুর জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে রুশ-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ। যদিও ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা একটি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত করেছিল।

গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে পুতিন তাৎক্ষণিকভাবে একটি বৈঠক বা চুক্তি হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, জেলেনস্কি ইউক্রেনের বৈধ প্রতিনিধি কি না, তা আইনজ্ঞদের এবং আইনি বিশ্লেষণের বিষয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশকে শান্তি আলোচনার জন্য কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তাদের দেখা করাটা দারুণ হবে। তাদের দেখা করা উচিত।’
উভয় পক্ষকে কী ধরনের ছাড় দিতে হবে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি তা ‘বলতে চান না’। তিনি যোগ করেন, ‘আমি চাই তারা প্রত্যেকেই কিছু ছাড় দিক এবং আমার মনে হয় তারা তা করবে।’

 সূত্র: বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান