ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত! ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা
Nagad desktop

বিমান হামলায় লস্কর-ই-তাইয়েবার হেড কোয়ার্টার ধ্বংস

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৫, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৭ মে ২০২৫, ১১:৩২ এএম
বিমান হামলায় লস্কর-ই-তাইয়েবার হেড কোয়ার্টার ধ্বংস
লস্কর-ই-তইবার হেড কোয়ার্টার, মাসুদ আজহারের মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দিল ভারত। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সেনাবাহিনী লস্কর-ই-তাইয়েবার হেডকোয়ার্টার এবং জঙ্গিনেতা মাসুদ আজহারের মাদরাসা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

গত ২২ এপ্রিল পাহালগামে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২৬ জনকে গুলি করে হত্যার ১৫ দিনের মাথায় এই হামলা চালাল ভারত।

 কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটিতে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর এই যৌথ অভিযানকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্থান টাইমস সূত্রের খবর, এই পাল্টা হামলায় অন্তত ১৭ জঙ্গি নিহত এবং ৬০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছে।

সরকারি সূত্রমতে, হামলায় মোট ৯টি জায়গায় জঙ্গিদের নিশানা করা হয়। 

অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, পাকিস্তান  সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই হামলার কথা  স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ভারত কমপক্ষে ২৪টি মিসাইল ছুড়েছে বলে দাবি করা হয় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। 

ভারত সরকার বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৫টি জায়গায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়েছে। একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোনো ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়নি। বেছে বেছে মাসুদ আজহার এবং হাফিজ সাইদদের জঙ্গি ক্যাম্প এবং মাদরাসাতেই হামলা করেছে ভারত।’ 

এদিকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আজ (৭ মে) সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানা গেছে। তার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এই হামলা নিপুণ লক্ষ্যভিত্তিক। এমনভাবে মাপজোখ করে জঙ্গি শিবিরে আঘাত হানা হয়েছে যাতে এর অভিঘাতে নতুন করে উত্তেজনা না বাড়ে। পাকিস্তানের কোনো সামরিক ঘাঁটিকে এই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। টার্গেট এবং কৌশল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারত যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে।’

এদিকে মঙ্গলবার (৬ মে) রাতেই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় মুজফফরাবাদ, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুর ও আরও কয়েকটি অঞ্চলে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা জানায়। 

স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪৪ মিনিটে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, পাহালগামের জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাব দিতে অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছে ভারত।

এই মুহূর্তে জম্মু-কাশ্মীরের বেশিরভাগ স্কুল, কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা প্রদেশে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। ওদিকে সীমান্তে এখন পর্যন্ত লাগাতার গুলিবর্ষণ করে চলেছে দুই পক্ষের সেনারা। সূত্র: দ্য হিন্দুস্থান টাইমস এবং দ্য ডন

দিনা/অমিয়/

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএইবি)।

আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে একটি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনে বিমানটি আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জনসহ মোট ২৬০ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় ও ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। একমাত্র জীবিত উদ্ধার হন যুক্তরাজ্যের লেস্টার শহরের বাসিন্দা বিশ্বাস কুমার রমেশ।

দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে এএইবি জানায়, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিমানটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্য, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ নথি এবং পরিচালনাগত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের বিশ্লেষণ এখনো চলমান থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

গত বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ড পর বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ হঠাৎ ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে যায়। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে বিমানটি শক্তি হারায়।

ককপিটের অডিও রেকর্ডিংয়ে  শোনা যায় এক পাইলটকে অন্যজনকে জিজ্ঞেস করতে ‘তুমি এটা কেন করলে?’ জবাবে অন্য পাইলট বলেন, ‘আমি করিনি’। তবে তদন্তকারীরা কার কণ্ঠ ছিল তা প্রকাশ করেননি।

পরে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়ালের দিকে সন্দেহের ইঙ্গিত দেওয়া হলে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এ বিষয়ে তার বাবা পুষ্কর রাজ বলেন, প্রমাণ ছাড়া তার ছেলেকে দায়ী করা হচ্ছে। তিনি ছেলের সুনাম রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এএইবি জানায়, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সব তথ্য সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। সূত্র: বিবিসি 

খাদিজা রুমি/অমিয়/

শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’ 

শুক্রবার (১২জুন) ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে- যুদ্ধ থামানোর একটি খসড়া চুক্তিতে তারা একমত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক স্বাক্ষর হতে পারে।

একদিকে হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জোর গুঞ্জন- দুই মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চরম নাটকীয়তা চলছে।

ইরান বলছে ‘আমরাই বিজয়ী’, অন্যদিকে আমেরিকার দাবি ভিন্ন।

চুক্তিটিতে এখনো কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তবে এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রবিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা (সংগৃহীত )

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের এসব পদক্ষেপ দেশকে ‘দেউলিয়াত্বের দিকে’ ঠেলে দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রতি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা তার অন্যতম প্রধান কর্মসূচি বিনামূল্যের খাবার বিতরণ প্রকল্প বাতিলেরও আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

শিক্ষার্থীরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। কয়েক মাস ধরে সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় এই বিক্ষোভ হয়। দেশটির মুদ্রা রুপিয়ার মানও সম্প্রতি নতুন সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আর আমাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পাচ্ছেন? বলা হয়, সংবিধান বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আজ আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না।’

বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিখ্যাত হোটেল ইন্দোনেশিয়া মোড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ঢাল নিয়ে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও লাথি মারার ঘটনাও ঘটে। কিছু বস্তু আকাশে ছুড়ে মারতেও দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা ‘মেনুজু ইন্দোনেশিয়া বাংক্রুট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া ইন্দোনেশিয়ার পথে’।

গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভেরও এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এই নতুন আন্দোলন শুরু হলো। সে সময় এক পণ্যবাহী মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্য ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। সূত্র: বিবিসি

রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার কাছে মে মাসে ইউক্রেন যতটুকু ভূখণ্ড হারিয়েছে তার চেয়ে বেশি এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি কিয়েভের। কয়েক মাস ধরে চলমান রাশিয়ার ধারাবাহিক নেট অগ্রগতির প্রবণতাও উল্টে গেছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি টেলিগ্রামে বলেন, ‘মুক্ত করা এবং হারানো ভূখণ্ডের অনুপাত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার আমাদের পক্ষে রয়েছে।’ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিলিতারনি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রকৃত নেট অর্জনের পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়া প্রায় ১৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করলেও ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারিয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার উন্মুক্ত উৎস থেকে পাওয়া ভূ-অবস্থানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও বড় অঙ্কের ইউক্রেনীয় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়া প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে সক্ষম হলেও প্রায় ২৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, ইউক্রেন এপ্রিল মাসেও রাশিয়ার অগ্রগতি উল্টে দিতে সক্ষম হয়েছিল। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে রাশিয়া ২৮ বর্গকিলোমিটার ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করলেও ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারায়। এই মূল্যায়নগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পাল্টা অগ্রগতি ক্রমেই বাড়ছে।

সিরস্কি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ইউক্রেন মোট ৬০০ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড পুনর্দখল করেছে। তবে একটি ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে রাশিয়া। এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাশিয়া অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষক কোস্তিয়ানতিন মাশোভেটস।

তিনি গত বুধবার (১০জুন) জানান, রুশ বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় কোস্তিয়ানতিনিভকা শহরের পূর্ব অংশে আরও এগিয়ে গেছে। শহরটি দোনেৎস্ক অঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক শহর নিয়ে গঠিত তথাকথিত ‘দুর্গ বেল্ট’-এর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। রুশ বাহিনী প্রথম গত বছরের অক্টোবর মাসে শহরটির কিছু অংশে অনুপ্রবেশ করেছিল। বর্তমানে তারা শহরের প্রায় ১৩ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ দখলকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। বর্তমানে অঞ্চলটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা কয়েকবার পেরিয়ে গেলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন
ছবি: ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি রাস্তায় গত বুধবার এক নারী দেশটির পতাকা ধরে আছেন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে গতকাল শুক্রবার (১২জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে একটি পশ্চিমা সূত্র। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা।

সূত্রটি জানায়, সমঝোতা স্মারকের ভাষা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইরান চুক্তিতে লেবাননকে যুক্ত করার অবস্থানে অনড় রয়েছে। আজ শনিবারের মধ্যে চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে, যাতে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে স্বাক্ষর করতে পারেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত হয়নি। তবে জেনেভাই সবচেয়ে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার (১১জুন) বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা স্থগিত করছেন, কারণ চুক্তিটি এখন প্রায় প্রস্তুত। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে একটি দুর্দান্ত মীমাংসা করেছি।’

গতকাল ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণনায় যে চুক্তির খসড়ার বিষয়বস্তু উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তেহরান তার দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর অধিকাংশই আদায় করতে যাচ্ছে। বিপরীতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া ছাড়া ট্রাম্প তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর খুব কমই অর্জন করতে পেরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

রয়টার্সকে ইরানের একটি সূত্র গতকাল জানায়, খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কয়েক শ কোটি ডলারের তহবিল অবমুক্ত করা হবে এবং লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতির শর্ত আরোপ করা হবে। পারমাণবিক ইস্যু পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তি চায়, যা নিশ্চিত করবে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। 

ইরানের প্রধান দাবি– তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। তবে বিনিময়ে ইরান কী দেবে, সে বিষয়ে সূত্রটি কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ের বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং বিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন। ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।’

দুর্দান্ত মীমাংসা

বৃহস্পতিবার (১১জুন) রাতে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের চুক্তির ঘোষণা আসে। এর ফলে গতকাল বিশ্ববাজারে শেয়ারদরের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় এবং তেলের দাম কমে যায়। ইউরোপীয় লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে চুক্তি আসন্ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি। এবার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, কারণ ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যকে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। এরপর দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায় এবং জবাবে ইরানও অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানে।

ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। ইউরোপে সেটি খুব দ্রুত, হয়তো চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই হতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি চুক্তিটি অনুমোদন করেছেন কি না–এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার জানামতে উত্তর হলো হ্যাঁ।’

দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত

ইরানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার বলেছেন, চুক্তির বেশির ভাগই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে ইরান তার ‘রেড লাইন’-এর বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না।এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এখনো চলছে। বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দুটি ইরানি একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে বাধা দিয়েছে। গতকাল ভোরে সেখানে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে বলে খবর প্রকাশ করা হয়।

এই যুদ্ধ হোয়াইট হাউসের জন্য রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে।রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্য প্রকাশ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছেন যে যুদ্ধে জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে ট্রাম্পের দল।

লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে। কারণ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে যুদ্ধ শুরু করলেও শান্তি আলোচনায় ইসরায়েলকে রাখা হয়নি। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা স্মারকের পক্ষে নয় ইসরায়েল। সূত্র: রয়টার্স