পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘খুব, খুব খারাপভাবে হেরেছে’ পক্ষান্তরে, ভারত কূটনৈতিক এবং সামরিক উভয় দিক থেকেই এই জয়লাভ করেছে। আর এই বাস্তবতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সম্পর্কে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন।
বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের একজন সিনিয়র ফেলো এবং পেন্টাগনের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ভারত সন্ত্রাসী অবকাঠামোগুলিকে নির্ভুল লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সাম্প্রতিক হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে।
মাইকেল রুবিন আরও বলেন, ‘ভারত তাদের (পাকিস্তানের) বিমানঘাঁটিগুলো অকার্যকর করার পর পাকিস্তান ভীতু কুকুরের মতো দুই পায়ের নিচে লেজ় গুটিয়ে যুদ্ধবিরতির জন্য দৌড়ে গিয়েছিল।‘
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিন বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী খুব, খুব খারাপভাবে হেরেছে, আর এই বাস্তবতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। তিনি বলেন, ভারত কূটনৈতিক এবং সামরিক উভয় দিক থেকেই বিজয়ী হয়েছে।'
৭ মে ভারতের পরিচালিত সার্জিকাল স্ট্রাইককে তিনি কীভাবে দেখেন এবং ভারত যা বোঝাতে চেয়েছিল তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে কিনা?, এই প্রশ্নের উত্তরে রুবিন বলেন, ‘ভারত কূটনৈতিক এবং সামরিক উভয় দিক থেকেই এই জয়লাভ করেছে। ভারতের কূটনৈতিকভাবে জয়ের কারণ হলো এখন সবার সমস্ত মনোযোগ পাকিস্তানের সন্ত্রাসী মদদের উপর।’
এছাড়া ‘পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সন্ত্রাসীদের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া থেকে বোঝা যায় যে, একজন সন্ত্রাসী এবং আইএসআই বা পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।‘
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত, বিশ্বনেতারা এর পরই দাবি করে বসে, পাকিস্তান যেন তার নিজস্ব ব্যবস্থা থেকে এই পচন দূর করে। তাই, ভারত কূটনৈতিক আলোচনা বদলে দেয়। আর যা দেখে পাকিস্তান হতবাক হয়ে পড়ে।’
কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইতিহাসবিদ এবং এর অর্থ হলো আমি ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য অর্থ পাই। এবং একটি জিনিস নিশ্চিতভাবে বলতে পারি তা হলো, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে প্রতিটি যুদ্ধে কোনো না কোনোভাবে জিতবে। এই চার দিনের যুদ্ধে ভারত জিতেছে। কারণ, ভারত নির্ভুলতার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সদরদপ্তর এবং প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।’
তবে পাকিস্তান পরবর্তীতে কী করবে? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘স্পষ্টতই, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি সমস্যা রয়েছে। কারণ এটি পাকিস্তানের সমাজের উপর একটি ক্যান্সার। তাছাড়া সামরিক বাহিনী হিসেবেও এটি অযোগ্য।‘
তারপর তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আসিম মুনির কি তার চাকরি টিকিয়ে রাখতে পারবেন? পাকিস্তানি জেনারেলদের অহংকার কি সমগ্র পাকিস্তানি সমাজের ভবিষ্যৎ শক্তি এবং উন্নয়নের উপর প্রভাব ফেলবে?
এরপর স্বগতোক্তি করে তিনি বলেন, ‘মুলত পাকিস্তানকে আগে ঘর পরিষ্কার করতে হবে।' সূত্র : এএনআই
সুলতানা দিনা/অমিয়/