দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর একটি স্থায়ী ব্রিগেড বিদেশের মাটিতে মোতায়েন করলো জার্মানি।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ জানান, ব্রিগেডটি চলতি সপ্তাহে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে পৌঁছেছে।
ন্যাটোর পূর্বাঞ্চল সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে প্রথমবার লিথুয়ানিয়ায় জার্মানি সৈন্য মোতায়েন করে। তবে সেটি রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ এক্সক্লেভ এবং মস্কো-মিত্র বেলারুশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল।
তবে নতুন জার্মান ব্রিগেডটি রুডনিনকাই শহরে অবস্থিত হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা। এতে থাকছে প্রায় চার হাজার ৮০০ সেনা, কয়েকশ বেসামরিক কর্মী, এবং সাঁজোয়া যানসহ প্রায় দুহাজার সামরিক বাহন।
লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসের কেন্দ্রীয় ক্যাথেড্রাল স্কোয়ারের একটি সামরিক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মান ব্রিগেড মোতায়েনের কথা জানান চ্যান্সেলর মার্জ। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাল্টিক মিত্রদের নিরাপত্তা মানেই আমাদের নিরাপত্তা।’
এদিকে, শনিবার (২৪ মে) পৃথক সাক্ষাৎকারে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়ুস জানান, সেনাবাহিনীতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক না মিললে ২০২৬ সালের শুরু থেকে বাধ্যতামূলক যোগদানের বিধি আবার চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে জার্মানি। ২০১১ সালে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান বিধি বাতিল করা হয়।
সম্প্রতি ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানি। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানায়, আগামী কয়েক বছরে ন্যাটোর শর্ত পূরণে অতিরিক্ত এক লাখ সেনার প্রয়োজন হবে। তবে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক না পাওয়া গেলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ কারণেই বর্তমান জোট সরকার নতুন করে বাধ্যতামূলক যোগদান বিধি চালুর সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়াকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা হুমকি এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় মার্কিন সংশ্লিষ্টতা হ্রাসের সম্ভাবনার মধ্যে এই পদক্ষেপগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তার জন্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর নিজেদেরই মনোযোগী হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদের অনেকটা পাশ কাটিয়েই কূটনৈতিক পন্থায় যুদ্ধাবসানের জন্য চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায়, রাশিয়ার ভবিষ্যৎ হুমকি নিয়ে শঙ্কিত ইউরোপীয় নেতারা।
পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে তিনটি বাল্টিক দেশ—লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়া। এই দেশগুলোকে মূল ন্যাটো ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে একমাত্র সুওয়াকি গ্যাপ নামে পরিচিত একটি সরু করিডোর, যা রাশিয়া ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের মাঝখানে অবস্থিত।
সেনা মোতায়েনের বিষয়ে চ্যান্সেলর মার্জ বলেন, রাশিয়া কেবল ইউক্রেন নয়, সমগ্র ইউরোপের ভূখণ্ডই পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে।
এছাড়া ,লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেডা অভিযোগ করেন, রাশিয়া ও বেলারুশ ইতিমধ্যে লিথুয়ানিয়া সীমান্তে সামরিক মহড়া শুরু করেছে।
চ্যান্সেলর মার্জ বলেছেন, ন্যাটোর কোনও সদস্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠলে, তাদের স্মরণ রাখা উচিত, পুরো জোট তাদের একসঙ্গে প্রতিহত করবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং সিএনএন
সুলতানা দিনা/