সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত একদল বাংলাদেশি প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সদস্য সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া পুলিশ।
মালয়শিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দাতুক সেরি মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল বলেন, ‘এই সদস্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য হলো আইএসের পক্ষ নিয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করা এবং সিরিয়া, আইএস নেটওয়ার্ক ও বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর জন্য তহবিল সংগ্রহ করা।’
শুক্রবার (৪ জুলাই) মালয়শিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল বলেন, ‘আমাদের পুলিশের বিশেষ শাখা প্রথমে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত বেশ কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করে। এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সক্রিয়ভাবে প্রচার করে। সবগুলো অ্যাকাউন্টের ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) ঠিকানা মালয়েশিয়া বলে জানা গেছে। এই দলটি কয়েকটি কৌশলগত উপায়ে কাজ করে।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমত, তারা মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের লক্ষ্য করে কারখানা, নির্মাণাধীন স্থান এবং পেট্রোল পাম্পের মতো জায়গা থেকে সদস্য সংগ্রহ করে। দ্বিতীয়ত, আরও বেশি সমর্থক আকৃষ্ট করার জন্য তারা ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি মতাদর্শ ছড়ায়। তৃতীয়ত, বিভিন্ন প্রক্রিয়া সমন্বয় এবং গোপনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যাপকভাবে প্রচার চালানোর জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহার করে। এখানে বিভিন্ন তালিম সেশনসহ (ধর্মীয় নির্দেশনা) ও সভা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার পরিষেবাসহ টাচ অন গো এবং বিকাশের মতো মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তাদের জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছে। হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপটির সঙ্গে জড়িত এমন ১০০ থেকে ১৫০ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।’
মালয়েশিয়ার আইজিপি বলেন, ‘এই কার্যক্রমে যারা ন্যূনতম জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাব। আর যারা গভীরভাবে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব এবং আমাদের জাতীয় আইন অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করব।’
তিনি বলেন, ‘যেসব ব্যক্তি অনলাইনে বাইয়াত বা আনুগত্যের শপথ নিতেন, তাদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নতুন শাখা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল গোষ্ঠীর প্রভাব ও কার্যক্রম বাড়ানো। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন ধাপে সম্পন্ন হতো। প্রথমে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলত। এরপর সেখান থেকে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তৈরি করা হতো।’
খালিদ বলেন, ‘মালয়েশিয়ার জন্য ঝুঁকি হলো দেশটি জঙ্গিদের জন্য একটি সরবরাহ ও ট্রানজিট কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে উগ্রপন্থিদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার নাম জড়িয়ে পড়ে সুনাম নষ্ট হতে পারে। এটিই আমাদের প্রধান উদ্বেগ।’
তিনি বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধান না হলে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রভাবিত হতে পারে। তাই জাতীয় নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনো অবস্থাতেই এটি বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল জানান, মালয়েশিয়া পুলিশ ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। তারা চরমপন্তি ও সন্ত্রাসী মতাদর্শী এবং মৌলবাদী জঙ্গি আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সূত্র: মালয়মেইল
সুমন/