গাজায় শনিবার (১২ জুলাই) ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একমাত্র ত্রাণকেন্দ্রের সামনে গোলাবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন। ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ও মানবিক সহায়তা সীমিত হওয়ায় মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগে মারা যাচ্ছে শিশুরা। চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
গাজা সিটির তুফাহ এলাকার জাফফা স্ট্রিটে একটি বাসায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হন, আহত হন আরও ১০ জন। শহরটির বিভিন্ন অংশে এদিন নিহত হন আরও ১৪ জন।
অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে সহায়তা নিতে আসা মানুষের ওপর ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায়। এতে অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারান। এ হামলার সময় ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকে বহু মরদেহ। আহতদের খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা
গাজার উত্তরের ক্ষুধার্ত পরিবারগুলো দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে রাফাহর একমাত্র সক্রিয় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে আসতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ এই কেন্দ্রগুলোকে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আগেই ‘মৃত্যুকূপ’ ও ‘মানুষ হত্যার কারখানা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
গাজার সরকার পরিচালিত মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ শিশু অপুষ্টিতে মারা গেছে। পাঁচ বছরের নিচের প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার শিশু আগামী সপ্তাহগুলোতে চরম অপুষ্টির ‘প্রকৃত ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে’ রয়েছে।
এক বিবৃতিতে গাজা প্রশাসন বলেছে, গত তিন দিনে খাদ্য ও ওষুধের সংকটে বহু মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যা এক নিষ্ঠুর মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়। তারা এটিকে গাজায় নজিরবিহীন মানবিক ট্র্যাজেডির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ–এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, ইসরায়েল একটি নির্মম ও নিষ্ঠুর পরিকল্পনায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই গাজা হয়ে উঠেছে শিশু ও অনাহারী মানুষের কবরস্থান।’
জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, গ্লোবাল হিউম্যানিটেরিয়ান ফোরাম (GHF) মে মাসে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে সহায়তা নিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/