ভারতের ওড়িশায় দীর্ঘদিন ধরে এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণ করেন ভাগ্যধর দাস (৬০) ও পঞ্চানন দাস (৫৮) নামে আপন দুই ভাই। এতে ওই কিশোরী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে দুই ভাই মিলে তাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া অভিযুক্ত টুলু নামে একজন পলাতক রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ওড়িশার জগতসিংপুর জেলায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত দুই ভাইসহ তিনজন জগতসিংপুরের বানশবাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে নাবালিকাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। যখন তারা নির্যাতিতার গর্ভাবস্থার কথা জানতে পারে তখন তারা নিজেদের অপরাধ লুকানোর জন্য ভুক্তভোগীকে জীবন্ত পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তরা ওই কিশোরীকে গর্ভপাত করার খরচ দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে ওই কিশোরী দেখে একটা গর্ত খোড়া রয়েছে। এর পর অভিযুক্তরা তাকে হুমকি দিতে থাকেন যে যদি সে গর্ভপাত না করায়, তাহলে তাকে জীবন্ত গর্তে পুঁতে দেবেন।
পরে ওই কিশোরী সেখান থেকে পালিয়ে তার বাবাকে সব কথা জানায়। এর পর জেলা সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয় এবং কুজং থানায় তার বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। দুই অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এবং তদন্ত চলেছে।
ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ অনুসারে, অভিযুক্ত দুই ভাই একটি মঠে (আশ্রম) কাজ করতেন। ভুক্তভোগী কিশোরী সেই মঠে প্রায়ই যেত। সেখান থেকেই পরিচয় হয় তাদের। এর পর দুই ভাই দীর্ঘ সময় ধরে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তারা তাদের অপরাধ লুকানোর জন্য ভুক্তভোগীকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নির্যাতিতার বাবার দাবি, এ বিষয়ে তিনি প্রথমে স্থানীয় পঞ্চায়েতের এক কর্মকর্তাকে জানান। তবে ওই কর্মকর্তা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাকে অর্থের প্রস্তাব পর্যন্ত দেন। এমনকি পুলিশের কাছে এ খবর না জানানোর জন্য তাকে হুমকিও দেন।
এর আগে গত এক মাসে ওড়িশায় কমপক্ষে ১২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জুন মাসে, ১০ দিনের মধ্যে রাজ্যে পাঁচটি ধর্ষণ এবং গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ মাসের শুরুতে, বালাসোরের ফকির মোহন স্বায়ত্তশাসিত কলেজের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগে ক্যাম্পাসের মধ্যেই গায়ে আগুন দেয় এক ছাত্রী।
মেহেদী/