যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে বড় ধরনের সংশোধন চাইবে হামাস। একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এমন একটি সময় এ খবর এল যখন পুরো বিশ্ব অপেক্ষা করছে হামাসের উত্তরের অপেক্ষায়। আরব বিশ্বের নেতারা এরই মধ্যে ওই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সের নেতৃস্থানীয়রাও।
ট্রাম্প হামাসকে উত্তর দেওয়ার জন্য তিন থেকে চারদিন সময় বেঁধে দিয়েছে। তার দেওয়া প্রস্তাব অনুসারে, গাজার যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ইসরায়েলি জিম্মিরা মুক্তি পাবে। মৃত ইসরায়েলি জিম্মিদের লাশ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি বন্দিরা মুক্তি পাবে। তবে গাজার শাসনে আর হামাস থাকবে না। আন্তর্জাতিক একটি প্রশাসন অবরুদ্ধ উপত্যকাটির দেখভালের দায়িত্বে থাকবে। হামাস ওই প্রস্তাবে রাজি না হলে তাদের ‘নরকে গিয়ে মূল্য দিতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
কায়রোভিত্তিক রাজনৈতিক বিজ্ঞানী মখাইমার আবুসাদা বলেছেন, হামাসকে এখন ‘খারাপ’ ও ‘খুব খারাপের’ মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। তারা (হামাস) যদি না বলে, তাহলে ট্রাম্প এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বিষয়টি ভালো হবে না এবং ইসরায়েলকে তিনি এটি শেষ করার জন্য যা করা প্রয়োজন, সব করতে দিবেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের পরিকল্পনায় রাজি হয়েছেন। তবে গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস যদি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বা এর প্রয়োগকে ধীরগতির করে, তাহলে ইসরায়েলের ‘লক্ষ্য পূরণ’ করা উচিত।
প্রসঙ্গত, গত মার্চে ইসরায়েল নিজে থেকেই দুই মাসের একটি যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটায়। ওই যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করে দ্বিতীয় ধাপের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল সেটির অবসান ঘটিয়ে দেওয়ায় তা আর হয়নি। জিম্মি মুক্তিও আটকে যায়।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিদেন বলছে, হামাস নেতারা ইস্তাম্বুল, দোহা ও গাজায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। ফলে প্রস্তাবের জবাব কী দেওয়া যায়, সে-সংক্রান্ত আলোচনা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তুরস্ক ও কাতার হামাসকে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।
এদিকে এসব আলোচনা সমালোচনার মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় গতকাল ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে গাজা সিটিতে। একটি হামলা হয় গাজা সিটির সাবরা পাড়ায়। সে হামলায় দুই তরুণ নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৬৬ হাজার ২২৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৮ জন। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। ইসরায়েলি হামলায় গোটা গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। গাজার গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্যানুসারে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ও নিখোঁজদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের এখনো মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটি করা হলে মৃতের সংখ্যা আরও বেশ কয়েক হাজার বৃদ্ধি পাবে।
যুদ্ধের প্রভাবে গাজার হাসপাতালগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি উপত্যকাটির দক্ষিণে অবস্থিত নাসের হাসপাতালের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। ওই হাসপাতালে মা ও নবজাতকরা ব্যাপক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, দক্ষিণ গাজার মূল হাসপাতালের রসদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। রোগীরা উপত্যকাটির উত্তরের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। মাত্রই শিশু জন্ম দেওয়া নারীদের হাসপাতাল করিডরে ভিড় জমাতে দেখা যাচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা