সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং দেশটি সম্ভবত আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা নেবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আমি মনে করি, সৌদি আরবই পথ দেখাবে। রাজাকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি এবং পছন্দও করি—আমাদের সম্পর্কও চমৎকার। আমি বিশ্বাস করি, আব্রাহাম চুক্তির পথে সৌদি আরবই নেতৃত্ব দেবে। এটি সত্যিই বড় বিষয়।”
ট্রাম্প বলেন, “সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমরা আগের চার সদস্যকেই ধরে রাখতে পেরেছি। তারা আব্রাহাম চুক্তিতে দারুণ করছে, তাই কেউ বাদ যায়নি। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা ছিল ছয় মাসের মধ্যে চার সদস্য থেকে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা।”
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ধারণা, এখন এই চুক্তি সম্প্রসারণের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুকূল। তিনি বলেন, “এখন আরও সহজ, আরও ভালো সময়। দেখুন, তখন ইরানের হুমকি ছিল। তাই আমি তাদের চার দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যারা ইরানের হুমকি জেনেও এই চুক্তিতে যুক্ত হয়েছিল।”
২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “তারা বড় সাহস দেখিয়েছে—তারা আঞ্চলিক ঝুঁকি জেনেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের এখন আর ইরানের হুমকি নেই, কোনো হুমকিই নেই। মধ্যপ্রাচ্যে এখন শান্তি বিরাজ করছে। আমি বিশ্বাস করি, আব্রাহাম চুক্তিতে আরও অনেক দেশ দ্রুত যোগ দেবে—এটা আমি নিশ্চিতভাবেই জানি।”
উল্লেখ্য, আব্রাহাম চুক্তি হলো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা, যা ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়। ওই বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এই চুক্তির ঘোষণা ও স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দেয়। পরে সুদান ও মরক্কোও এতে যোগ দেয়।
চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা ও শত্রুতা কমিয়ে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। এর ফলে দেশগুলো একে অপরের রাজধানীতে দূতাবাস স্থাপন, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়, পর্যটন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুরু করে। যদিও এই চুক্তি ফিলিস্তিন ইস্যুর সমাধান দেয়নি, তবু এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক কূটনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে।
মাহফুজ/