ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইংল্যান্ড ফেবারিট না হলেও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে: টুখেল যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত! হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের আজকের মুদ্রার বাজার: ১০ জুন, ২০২৬ বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ? আবারও কমল সোনার দাম, নতুন দর কত? ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে আত্মহত্যা প্রেমিকার শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬ রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত বিদেশি কোচদের চোখে নতুন ইতিহাস ল্যাবএইডে ডেঙ্গুবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত
Nagad desktop

ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইউরোপের পাল্টা প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শর্তে বড় অমিল

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৬ পিএম
আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩২ পিএম
ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইউরোপের পাল্টা প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শর্তে বড় অমিল
গতমাসে লন্ডনে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন একটি শান্তি কাঠামো তৈরি করেছে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা—এমন খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। যদিও প্রস্তাবটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এ ধরনের কোনো নথির বিষয়ে অবহিত নন বলে জানিয়েছেন।

তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের কথিত এই পাল্টা প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রস্তাবের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

ইউরোপের প্রস্তাবিত কাঠামোর মূল পয়েন্টগুলো

•    শান্তিকালীন সময়ে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ ৮ লাখ সদস্যে সীমিত থাকবে।
•    ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হবে—তবে ন্যাটো সদস্যদের সর্বসম্মতির বিষয়টিকে শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে নেই।
•    ন্যাটো ইউক্রেনে স্থায়ীভাবে সেনা মোতায়েন করবে না—এ প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে।
•    যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর মতো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে, অর্থাৎ ইউক্রেনের ওপর হামলা হলে তা ন্যাটোর ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
•    চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বয়ে নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
•    ইউক্রেন অঙ্গীকার করবে যে দখলকৃত ভূখণ্ড সামরিক পথে পুনরুদ্ধার করবে না, বরং আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে এর সমাধান খুঁজবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো

•    ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ৬ লাখে সীমিত করার শর্ত।
•    ইউক্রেনকে সংবিধানে ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকার যুক্ত করতে হবে এবং ন্যাটোকেও এটিকে নিজেদের নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
•    ন্যাটোর ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন না করার প্রতিশ্রুতি।
•    চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন।
•    ক্রিমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলকে “ডি-ফ্যাক্টো রুশ” এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং রাশিয়ার দখলকৃত সীমান্ত রেখা স্থায়ীভাবে জমাট বাঁধা।

বড় পার্থক্য কোথায়?

ইউরোপীয় প্রস্তাব ইউক্রেনের ন্যাটো স্বপ্ন পুরোপুরি বন্ধ না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ন্যাটো সদস্যপদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

এছাড়া রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল নিয়ে ইউরোপ আলোচনা-নির্ভর সমাধানের কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবে এসব অঞ্চল কার্যত রাশিয়ার বলে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল।

শান্তি প্রতিষ্ঠার দুই পরিকল্পনার এ গুরুত্বপূর্ণ অমিল ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। সূত্র: বিবিসি

মাহফুজ/

 

যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:২৮ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম
ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

বুধবার (১০ জুন) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬০ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়। 

বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, সবশেষ হামলার ফলে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আবারও যুদ্ধঝুঁকি এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের দিকে ফিরে গেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে নতুন করে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব যুক্ত হয়েছে।

এদিকে, তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও সংঘাতে জড়াবে। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ না হওয়ায় বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আইএনজির পণ্য কৌশলবিদরা বলছেন, দ্রুত কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা না থাকায় এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার প্রতিদিন আরও সংকুচিত হওয়ায় দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে এই বিঘ্ন যদি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যখন তেলের চাহিদা সাধারণত বেশি থাকে।

উল্লেখ্য, ইরান এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল সীমিত রেখেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে। সূত্র: রয়টার্স

থিও/অমিয়/

হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি বাহিনীর হামলায় একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও যুদ্ধের পরিবর্তে একটি সমঝোতামূলক সমাধানের পক্ষে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হামলায় হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে অবস্থিত ইরানের একাধিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। 

এর পরপরই তেহরান ঘোষণা দেয় যে, তারা কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে থাকবে না।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জাস্ক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হামলা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের তাসনিম সংবাদসংস্থা জানায়, কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের সিরিকসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, মার্কিন বাহিনী তিন দফায় হামলা চালিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা।

অন্যদিকে, ইরানের ফার্স সংবাদসংস্থা জানায়, সিরিকের বেমানি জেলায় দুটি পানির ট্যাঙ্কও হামলায় ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে, কুয়েতে অবস্থিত আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতেও ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের

সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সংকল্প’ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে থাকবে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং মার্কিন ‘আগ্রাসন’ চলতে থাকলে আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইআরজিসি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিকের বেমানি জেলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর জানিয়েছে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসির যৌথ অভিযানে অঞ্চলের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ইরান দাবি করে, তারা জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও জর্ডান বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসির দাবি, তারা জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। 

সংস্থাটির ভাষ্য, হামলায় ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে, বাহরাইন হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আগের দিন একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ করেছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে একটি ইরানি ড্রোন অ্যাপাচি গানশিপটিকে আঘাত করেছিল, যার ফলে এটি হরমুজ প্রণালীর কাছে বিধ্বস্ত হয়। তবে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, এই হামলাগুলো ছিল আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ‘আনুপাতিক জবাব’।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মার্কিন বাহিনী ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।’ সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত
ছবি:সগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলের সর্বশেষ সামরিক অভিযান শুরুর ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। ১০০তম দিনেও গতকাল ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর টায়ারে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত আটজন নিহত হন। টায়ার শহরের বাসিন্দাদের নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে শহরের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত বন্দরসংলগ্ন এলাকাও রয়েছে, যা আগে এমন নির্দেশনার বাইরে ছিল।

এই ১০০ দিনে দক্ষিণ লেবাননের বহু গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত ২৪৫ জন শিশু। এ ছাড়া ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রায় শিশু ৯০০ জন।

নিহতদের বড় একটি অংশ বেসামরিক নাগরিক। কমপক্ষে ১৩১ জন প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ একই স্থানে পরপর দুই বা তিন দফা হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ১৭টি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনটি হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১০০ দিনে সাংবাদিকদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বর্তমানে সংঘাত বন্ধে নানা পর্যায়ে চেষ্টা চলছে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবানন সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে তারা লেবাননের সংঘাতের বিষয়টিকেও যুক্ত করবে।

কিন্তু হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিরোধী। সম্প্রতি সংগঠনটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে, যা সংঘর্ষের ধরন বদলে দিয়েছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক ও হিজবুল্লাহবিষয়ক বইয়ের লেখক নিকোলাস ব্লানফোর্ড বলেন, ‘তারা আবার গেরিলা যুদ্ধের শিকড়ে ফিরে গেছে। নব্বইয়ের দশকের মতো এখন তাদের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি বাহিনীকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দেওয়া। ইসরায়েল যেসব নতুন প্রতিরক্ষা বা আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেগুলো অতিক্রম করে তারা ইসরায়েলি সেনাদের হতাহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান শুরু হয় ২ মার্চ। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে টার্গেট করে ছয়টি রকেট নিক্ষেপ করলে এই সংঘাত শুরু হয়। এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর প্রথম সরাসরি প্রতিক্রিয়া।

হিজবুল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনাও তাদের প্রতিক্রিয়ার কারণ ছিল।

অন্যদিকে লেবানন সরকার দেশজুড়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চাপও বাড়ছে।

গত ২ মার্চ লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে এখন পর্যন্ত সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতার ওপর এর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি। হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ইরানও লেবাননের পরিস্থিতিকে নিজেদের যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ করার চেষ্টা করছে। লেবানন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার ওপর আস্থা রেখে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।  সূত্র: আল-জাজিরা

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

মুহাম্মদ আল-বাকরি তার ধর্ষণের তারিখটি স্পষ্টভাবে মনে রেখেছেন। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল। পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরের ছুটি চলছিল। গাজার সরকারি এই কর্মচারীকে এর এক মাস আগে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি সেনারা। তাকে মারধর, নির্যাতন, বেঁধে রাখা এবং অপমানজনক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সেদিন তার চারপাশে ঘিরে ছিল ইসরায়েলি সেনারা এবং তাদের প্রশিক্ষিত কুকুর। তিনি বলেন, ‘ডান পাশে ছয়জন সৈন্য, বাম পাশে ছয়জন সৈন্য ছিল। তারা নাম জিজ্ঞেস করত। যদি বলতাম ‘মুহাম্মদ’, তারা বলত, ‘না, বল তোমার নাম হারামজাদা।’

আল-বাকরি জানান, তার সঙ্গে আরও সাতজন বন্দি ছিলেন। সবাইকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের পোশাক খুলে নেওয়ার পর ধর্ষণ করা হয়। আমরা চিৎকার করে বলছিলাম, ‘হে আল্লাহ, হে সৃষ্টিকর্তা’, কিন্তু তারা শুধু হাসছিল এবং ভিডিও ধারণ করছিল।”

আল-বাকরি আরও বলেন, কারারক্ষীরা যৌন নির্যাতনের সময় কুকুরও ব্যবহার করত। তিনি বলেন, ‘কুকুরগুলো কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে আমাদের ওপর হামলা করে। কোনো দয়া ছিল না। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট আমরা এই যৌন নির্যাতন ও মারধরের শিকার হয়েছিলাম। পরে তারা আমাদের কাপড় পরতে বলে আবার কারাগারে নিয়ে যায়।’

আল-বাকরি সেই সব বন্দির মধ্যে একজন, যারা ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইসরায়েলস ডার্কেস্ট ওয়েপন’ অনুষ্ঠানের জন্য আল-জাজিরাকে বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা, জাতিসংঘ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানেজে বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ব্যবহার ব্যাপক এবং সুসংগঠিত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন প্যালেসটাইনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (পিসিএইচআপর) এবং ইউরো-মেড মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাও এমন বহু সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেছে, যেখানে বন্দিরা ইসরায়েলি সেনাদের কুকুর দিয়ে যৌন নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়; এর ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। আল-জাজিরার অনুসন্ধান এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ধর্ষণকে উল্লেখযোগ্যভাবে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। 

২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে যৌন, প্রজননসংক্রান্ত এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ব করেছে।

মে মাসে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের ‘সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার কালো তালিকা’য় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বিৎসেলেম এবং ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র—সবাই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যৌন সহিংসতার বিস্তৃত সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বেশি।

এদের অনেককে ইসরায়েলের প্রশাসনিক আটকব্যবস্থার আওতায় কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনো ইসরায়েলি সৈন্য বা কারারক্ষীকে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নেগেভ মরুভূমির স্দে তেইমান আটক শিবিরে এক বন্দিকে ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর ইসরায়েল ১০ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আটক করেছিল। কিন্তু ডানপন্থি বিক্ষোভকারীরা, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্যও ছিলেন, অভিযুক্তদের মুক্ত করার জন্য আটক কেন্দ্রটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে।

গত জুলাইয়ে ইসরায়েল ওই রক্ষীদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। ভিডিওটি ফাঁস করার অভিযোগে নারী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমিকেও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সৈন্যদের ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ করাকে দেশের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘সবচেয়ে গুরুতর জনসংযোগ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেন।

জাতিসংঘের রিপোর্টার ফ্রানচেস্কা আলবানেজ বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্য শুধু শারীরিক কষ্ট দেওয়া নয়, বরং তাদের ব্যক্তিসত্তা ও আত্মমর্যাদাবোধকে ধ্বংস করা।

তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের মধ্যে, বিশেষ করে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন মানুষের মানসিক জগৎকে ধ্বংস করে দেয়। এতে একজন মানুষের নিজের জীবন পুনর্গঠন করা এবং স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

গণহত্যা ও ধর্ষণের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকা
মজুর হিসেবে কাজ করা আইয়ুব (ছদ্মনাম) আল-জাজিরা বলেন, কখনো ভাবেননি যে তার জীবন অন্যদের কাছে বিশেষ কিছু। আল-বাকরির মতো তিনিও ছিলেন গাজার এক সাধারণ মধ্যবয়সী পারিবারিক মানুষ। নিজের চেয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পরিবারের নিরাপত্তাই ছিল তার প্রধান চিন্তা।

কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের জীবন বদলে যায়। আল-বাকরির মতো আইয়ুবও স্পষ্টভাবে নিজের ধর্ষণের স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘নারী সৈন্যরা আমার কক্ষে প্রবেশ করে আমার দুই হাত পেছনে নিয়ে লোহার হাতকড়া পরাল। তারপর পায়ের হাতকড়া খুলে অন্য হাতকড়া পরাল। এরপর আমার সব কাপড় খুলে নেয়। সৈন্যরা তার ঘাড় ও পিঠের ওপর বুট চেপে ধরে রেখেছিল। এরপর নারী সৈন্যরা বিভিন্ন কৃত্রিম বস্তু ব্যবহার করে তাকে ধর্ষণ করে। চারপাশে থাকা সৈন্যরা হাততালি দিচ্ছিল এবং ভিডিও ধারণ করছিল।

প্রতিশোধের উন্মত্ততা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার ঘটনা ইসরায়েলি সমাজকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। আইয়ুব বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তাকে চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল, মারধর করা হয়েছিল এবং পদদলিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাকে ৭ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

মানবিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়া
পর্যবেক্ষকদের মতে, যেসব ইসরায়েলি সৈন্যের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই এমন একটি সামাজিক পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের সমমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি দুর্বল।

দায়মুক্তির সংস্কৃতি
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের একটি সুস্পষ্ট ধারা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে কার্যকর আইনি শাস্তি কিংবা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়নি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করতে চাইলে ইসরায়েল তাতে বাধা দেয়। জাতিসংঘের মতে, জোরপূর্বক নগ্ন করা, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া এবং যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে হামলা চালানো- এসব কর্মকাণ্ড ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রায় নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় টিম বনাম ডিপ্লোম্যাটিক কোর টিমের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ‍জুন) অনুষ্ঠিত এই বিশেষ ম্যাচে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক নিজে মাঠে নেমে খেলায় অংশগ্রহণ করেন। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রীতি ম্যাচটিতে বাংলাদেশে কর্মরত তিউনিশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইটালি, সুইডেন ও ইরানের কূটনীতিকরা অংশ নেন। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে লড়েন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকারা ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ।

খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমানে সামাজিক মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও সচেতনতামূলক বিষয়গুলো আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ ফুটবল দরজায় কড়া নাড়ছে। আমরা বিশ্বের কাছে জানান দিতে চাই যে, আমরা একটি ফুটবলপ্রেমী জাতি। স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির (ক্রীড়া কূটনীতি) মাধ্যমে আমরা বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চাই।’

আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও দেশের মানুষের মাঝে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনার কোনো কমতি নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না, তবুও আমাদের উদ্দীপনার কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমান সরকার ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শূন্য থেকে শুরু করতে চাই। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। রাতারাতি বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা দেশের খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়ন করব।’

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়া কূটনীতিকে আরও বেগবান করতে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মো: আমিনুল হক বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে  একটি ডেডিকেটেড ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি উইং’ খোলা হয়েছে এবং এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এই উইংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ক্রীড়া বিনিময় কর্মসূচি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

তোফায়েল/এসএন