সুদানের যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ অংশে পশ্চিম করদোফানের আল-নুহুদ হাসপাতালের বড় একটি অংশকে সামরিক কমান্ড সেন্টার ও ব্যারাকে পরিণত করেছে বিদ্রোহী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ-RSF)। পাঁচ মাসের বেশি সময় আগে শহরটি দখলের পর থেকেই এভাবে হাসপাতাল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সুদান ডাক্তার্স নেটওয়ার্ক।
বেসরকারি এই সংগঠনটি আজ শুক্রবার জানায়, সরকার-ঘনিষ্ঠ সুদানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিদ্বন্দ্বী আরএসএফ হাসপাতালটিকে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মূল ভূমিকা থেকে কার্যত বিরত রেখেছে।
ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে সামরিক কাজে ব্যবহার করা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকে ধ্বংস করে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহরের কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং তারা পরে শহর ছেড়ে পালিয়ে যান।
“এর ফলে হাসপাতালটি মারাত্মক জনবল সংকটে ভুগছে। হাতে থাকা অল্প কিছু চিকিৎসা সেবা চরম সীমিত এবং রোগীদের চাহিদা মেটাতে পারছে না,” বিবৃতিতে বলা হয়।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ ও সেনাবাহিনী রক্তক্ষয়ী তিন বছরের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে, যা শেষ করতে কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাই এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।
এই সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে—যা জাতিসংঘের ভাষায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়।
আরএসএফ এর দখল করা এল-ফাশের থেকে পালিয়ে পশ্চিম দারফুরের তাওইলা শহরে শত শত সুদানি শিশু তাদের বাবা-মা ছাড়া এসে পৌঁছেছে। গত মাসে আরএসএফ এল-ফাশের শহর দখলের পর থেকে এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি মানবিক সংগঠন।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (NRC) বৃহস্পতিবার জানায়, অন্তত ৪০০ শিশুকে বাবা-মা ছাড়া তাওইলায় আসতে দেখা গেছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
আরএসএফ গত ২৬ অক্টোবর এল-ফাশের শহর দখল করে যা উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী। এর আগে ১৮ মাস ধরে তারা শহরটিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, ফলে খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
শহর দখলের সময় আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে গণহত্যা, অপহরণ ও ব্যাপক যৌন সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধ চলাকালীন সুদানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে।
ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সুদানের যুদ্ধে জড়িত দুই পক্ষকে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরএসএফ গত সোমবার একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।
কিন্তু মঙ্গলবার সুদানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা পশ্চিম করদোফানের বাবনুসায় তাদের একটি ঘাঁটিতে আরএসএফ-এর হামলা প্রতিহত করেছে যা যুদ্ধের নতুন ফ্রন্টলাইন হয়ে উঠেছে।
সুদানের সেনাপ্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল–বুরহান বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশের শান্তির জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তবে এর আগে প্রস্তাবিত এক যুদ্ধবিরতি বুরহান প্রত্যাখ্যান করেছেন আরএসএফ এর সহযোগী আরব আমিরাতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক মতামতে বুরহান বলেন, সত্য ও ন্যায়সংগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য সুদানের জনগণ এখন ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে’’।
বুরহান ও তার সাবেক ডেপুটি আরএসএফ কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান “হেমেদতি” দাগালো—এ দুজনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। এ যুদ্ধ কয়েক লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি করেছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো এই যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখান। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তাকে হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ করার পর তিনি বলেন, তিনি এই যুদ্ধ শেষ করবেন। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/