ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশে দক্ষিণের প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) যদি এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় যা উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় তা প্রতিহত করা হবে। শনিবার সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
জোটের মুখপাত্র জেনারেল তুরকি আল-মালকির দেওয়া এই বিবৃতি আসে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি’র অনুরোধের পর। তিনি হাদরামাউতে এসটিসি-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ড’ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় জোটকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত এসটিসি চলতি মাসে সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে তাদের ঘাঁটি ‘আদেন’ থেকে উৎখাত করেছে এবং ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে।
গতকাল শুক্রবার এসটিসি সৌদি আরবের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে ডিসেম্বরের শুরুতে দখল করা এলাকা থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। গোষ্ঠীটি জানায়, তারা হাদরামাউত ও মাহরা - এই দুই পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে নিরাপত্তা জোরদার অব্যাহত রাখবে।
এদিকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসটিসিকে মধ্যস্থতার আহ্বানে সাড়া দিতে এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে এসটিসির জন্য সৌদি-আমিরাতি মধ্যস্থতার উদ্যোগে সাড়া দিয়ে উত্তেজনা বন্ধ করা, হাদরামাউত ও মাহরার সামরিক ঘাঁটি থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং সেগুলো শান্তিপূর্ণভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা।”
প্রিন্স খালিদ আরও বলেন, “দক্ষিণের প্রশ্ন যেকোনো সর্বাত্মক রাজনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবেই থাকবে। এটি সমঝোতা, অঙ্গীকার রক্ষা এবং সব ইয়েমেনির মধ্যে আস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে—এমন দুঃসাহসিকতার মাধ্যমে নয়, যা কেবল সবার শত্রুকেই উপকার করে।” সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/