যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের তেল বিক্রির চুক্তিতে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাম্প জানান, কারাকাস এবং ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের অপরিশোধিত ভারী তেল রপ্তানির বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলা চীনের কাছে তেল বিক্রি কমিয়ে দেবে এবং দেশটি তেলের উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এই চুক্তিটি একটি জোরালো সংকেত যে, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর জন্য নিজেদের উন্মুক্ত করে দিচ্ছে, নতুবা তারা আরও সামরিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকির মুখে পড়ত।
ট্রাম্প বলছেন, তিনি চান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগিয়েজ যুক্তরাষ্ট্র এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ দিন।
গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত রপ্তানি অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলা তাদের ট্যাংকার এবং স্টোরেজ ট্যাংকে থাকা লাখ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাতে পারছিল না।
মাদুরোর সরকারের ওপর ক্রমবর্ধমান মার্কিন চাপের অংশ ছিল এই অবরোধ, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী তাকে বন্দি করে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কর্মকর্তারা মাদুরোর এই বন্দি হওয়াকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশের বিশাল তেল সম্পদ চুরির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।
এর আগে, ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, ভেনেজুয়েলা ৩ থেকে ৫ কোটি (৩০-৫০ মিলিয়ন) ব্যারেল ‘নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন তেল’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘হস্তান্তর’ করবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ আমি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করব, যাতে এটি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়!’
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন এবং তেল সরাসরি জাহাজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই আটকে পড়া তেল সরবরাহ করার জন্য প্রাথমিকভাবে চীনের দিকে রওনা হওয়া কার্গোগুলোকে পুনরায় বরাদ্দ করার প্রয়োজন হতে পারে। গত এক দশকে এবং বিশেষ করে ২০২০ সালে ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবসার সাথে জড়িত কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ভেনেজুয়েলার প্রধান ক্রেতা ছিল।
তেল শিল্পের একটি সূত্র বলেছে, ‘ট্রাম্প চান এটি দ্রুত ঘটুক যাতে তিনি বলতে পারেন, এটি একটি বড় জয়।’
সুলতানা দিনা/