ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক
Nagad desktop

দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে ৫ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে ৫ বছরের কারাদণ্ড
ইউন সুক ইয়ল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিজের গ্রেপ্তার ঠেকাতে তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করেছিলেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন–এমন অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার ব্যর্থ সামরিক আইন জারির ঘটনাকে ঘিরে এটি প্রথম কোনো বিচারিক রায়।

এ রায়টি ইউনের বিরুদ্ধে চলমান প্রধান রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বাইরে দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় প্রসিকিউটররা চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন এবং আগামী মাসে সেখানে রায় হওয়ার কথা রয়েছে। সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে বিশেষভাবে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নথি জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত বলেন, তিনি সংবিধানকে উপেক্ষা করেছেন এবং কোনো অনুশোচনা দেখাননি। ইউনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

বিচারক বেক দে-হিউন বলেন, ইউনের কর্মকাণ্ড ‘নিন্দার যোগ্য’। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে ইউন সামরিক আইন জারি করে পুরো দেশকে চমকে দেন। তিনি জাতীয় পরিষদে পুলিশ ও সশস্ত্র সেনা পাঠান। আইনপ্রণেতারা দ্রুত সেখানে জড়ো হয়ে আদেশ বাতিল করতে ভোট দেন। কেউ কেউ ভোটে অংশ নিতে ভবনের বেড়া টপকেও ভেতরে ঢোকেন।

জরুরি এই শাসন মাত্র ৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয়, এরপর ইউন পিছু হটেন। পৃথক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আইনজীবীদের অভিযোগ, তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করে সংসদকে অচল করে দেওয়া, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের গ্রেপ্তার করা এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

সামরিক আইন ব্যর্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর দুর্নীতি তদন্ত দপ্তরের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদ্রোহসংক্রান্ত অভিযোগে ইউনকে গ্রেপ্তার করতে যান। কিন্তু তিনি সহযোগিতা না করে নিজের বাসভবনের ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর ঠেকাতে তিনি শত শত প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস সদস্য মোতায়েন করেন এবং গাড়ির ব্যারিকেড ও মানবপ্রাচীর দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ে বিচারক বেক বলেন, ইউন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রজাতন্ত্রের সেবা করার শপথ নেওয়া নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কার্যত নিজের ব্যক্তিগত বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’ 

শুক্রবার (১২জুন) ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে- যুদ্ধ থামানোর একটি খসড়া চুক্তিতে তারা একমত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক স্বাক্ষর হতে পারে।

একদিকে হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জোর গুঞ্জন- দুই মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চরম নাটকীয়তা চলছে।

ইরান বলছে ‘আমরাই বিজয়ী’, অন্যদিকে আমেরিকার দাবি ভিন্ন।

চুক্তিটিতে এখনো কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তবে এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রবিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা (সংগৃহীত )

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের এসব পদক্ষেপ দেশকে ‘দেউলিয়াত্বের দিকে’ ঠেলে দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রতি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা তার অন্যতম প্রধান কর্মসূচি বিনামূল্যের খাবার বিতরণ প্রকল্প বাতিলেরও আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

শিক্ষার্থীরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। কয়েক মাস ধরে সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় এই বিক্ষোভ হয়। দেশটির মুদ্রা রুপিয়ার মানও সম্প্রতি নতুন সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আর আমাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পাচ্ছেন? বলা হয়, সংবিধান বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আজ আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না।’

বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিখ্যাত হোটেল ইন্দোনেশিয়া মোড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ঢাল নিয়ে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও লাথি মারার ঘটনাও ঘটে। কিছু বস্তু আকাশে ছুড়ে মারতেও দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা ‘মেনুজু ইন্দোনেশিয়া বাংক্রুট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া ইন্দোনেশিয়ার পথে’।

গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভেরও এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এই নতুন আন্দোলন শুরু হলো। সে সময় এক পণ্যবাহী মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্য ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। সূত্র: বিবিসি

রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার কাছে মে মাসে ইউক্রেন যতটুকু ভূখণ্ড হারিয়েছে তার চেয়ে বেশি এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি কিয়েভের। কয়েক মাস ধরে চলমান রাশিয়ার ধারাবাহিক নেট অগ্রগতির প্রবণতাও উল্টে গেছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি টেলিগ্রামে বলেন, ‘মুক্ত করা এবং হারানো ভূখণ্ডের অনুপাত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার আমাদের পক্ষে রয়েছে।’ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিলিতারনি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রকৃত নেট অর্জনের পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়া প্রায় ১৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করলেও ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারিয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার উন্মুক্ত উৎস থেকে পাওয়া ভূ-অবস্থানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও বড় অঙ্কের ইউক্রেনীয় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়া প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে সক্ষম হলেও প্রায় ২৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, ইউক্রেন এপ্রিল মাসেও রাশিয়ার অগ্রগতি উল্টে দিতে সক্ষম হয়েছিল। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে রাশিয়া ২৮ বর্গকিলোমিটার ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করলেও ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারায়। এই মূল্যায়নগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পাল্টা অগ্রগতি ক্রমেই বাড়ছে।

সিরস্কি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ইউক্রেন মোট ৬০০ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড পুনর্দখল করেছে। তবে একটি ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে রাশিয়া। এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাশিয়া অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষক কোস্তিয়ানতিন মাশোভেটস।

তিনি গত বুধবার (১০জুন) জানান, রুশ বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় কোস্তিয়ানতিনিভকা শহরের পূর্ব অংশে আরও এগিয়ে গেছে। শহরটি দোনেৎস্ক অঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক শহর নিয়ে গঠিত তথাকথিত ‘দুর্গ বেল্ট’-এর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। রুশ বাহিনী প্রথম গত বছরের অক্টোবর মাসে শহরটির কিছু অংশে অনুপ্রবেশ করেছিল। বর্তমানে তারা শহরের প্রায় ১৩ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ দখলকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। বর্তমানে অঞ্চলটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা কয়েকবার পেরিয়ে গেলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন
ছবি: ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি রাস্তায় গত বুধবার এক নারী দেশটির পতাকা ধরে আছেন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে গতকাল শুক্রবার (১২জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে একটি পশ্চিমা সূত্র। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা।

সূত্রটি জানায়, সমঝোতা স্মারকের ভাষা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইরান চুক্তিতে লেবাননকে যুক্ত করার অবস্থানে অনড় রয়েছে। আজ শনিবারের মধ্যে চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে, যাতে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে স্বাক্ষর করতে পারেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত হয়নি। তবে জেনেভাই সবচেয়ে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার (১১জুন) বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা স্থগিত করছেন, কারণ চুক্তিটি এখন প্রায় প্রস্তুত। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে একটি দুর্দান্ত মীমাংসা করেছি।’

গতকাল ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণনায় যে চুক্তির খসড়ার বিষয়বস্তু উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তেহরান তার দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর অধিকাংশই আদায় করতে যাচ্ছে। বিপরীতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া ছাড়া ট্রাম্প তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর খুব কমই অর্জন করতে পেরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

রয়টার্সকে ইরানের একটি সূত্র গতকাল জানায়, খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কয়েক শ কোটি ডলারের তহবিল অবমুক্ত করা হবে এবং লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতির শর্ত আরোপ করা হবে। পারমাণবিক ইস্যু পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তি চায়, যা নিশ্চিত করবে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। 

ইরানের প্রধান দাবি– তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। তবে বিনিময়ে ইরান কী দেবে, সে বিষয়ে সূত্রটি কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ের বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং বিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন। ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।’

দুর্দান্ত মীমাংসা

বৃহস্পতিবার (১১জুন) রাতে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের চুক্তির ঘোষণা আসে। এর ফলে গতকাল বিশ্ববাজারে শেয়ারদরের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় এবং তেলের দাম কমে যায়। ইউরোপীয় লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে চুক্তি আসন্ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি। এবার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, কারণ ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যকে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। এরপর দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায় এবং জবাবে ইরানও অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানে।

ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। ইউরোপে সেটি খুব দ্রুত, হয়তো চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই হতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি চুক্তিটি অনুমোদন করেছেন কি না–এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার জানামতে উত্তর হলো হ্যাঁ।’

দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত

ইরানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার বলেছেন, চুক্তির বেশির ভাগই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে ইরান তার ‘রেড লাইন’-এর বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না।এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এখনো চলছে। বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দুটি ইরানি একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে বাধা দিয়েছে। গতকাল ভোরে সেখানে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে বলে খবর প্রকাশ করা হয়।

এই যুদ্ধ হোয়াইট হাউসের জন্য রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে।রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্য প্রকাশ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছেন যে যুদ্ধে জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে ট্রাম্পের দল।

লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে। কারণ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে যুদ্ধ শুরু করলেও শান্তি আলোচনায় ইসরায়েলকে রাখা হয়নি। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা স্মারকের পক্ষে নয় ইসরায়েল। সূত্র: রয়টার্স

চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি
ডেভিড হকনি। ছবি: এআই

কিংবদন্তি ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

শুক্রবার (১২ জুন) তার প্রচার কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার লন্ডনে নিজ বাড়িতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।

১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেওয়া হকনির সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। তিনি ১৯৬০-এর দশকে বিশ্ব কাঁপানো 'পপ আর্ট' আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সারথী ছিলেন।

ব্রাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট ও রয়্যাল কলেজ অব আর্ট থেকে স্বর্ণপদকসহ শিক্ষা শেষ করা হকনি তরুণ বয়সেই চেনা সামাজিক নিয়ম ভেঙে নিজের সমকামী পরিচয় প্রকাশ করেন এবং চিত্রশিল্পে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে হকনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। সেখানকার প্রাণোচ্ছল জীবন, বিশেষ করে সুইমিং পুলের পটভূমিতে আঁকা চিত্রকর্মের জন্য তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান।

পানির ওপর আলোর খেলা এবং ম্যাট অ্যাক্রিলিক পেইন্টের জাদুকরী ব্যবহারে তিনি ক্যানভাসে এক স্বপ্নময় জগৎ তৈরি করেছিলেন।
২০১৮ সালে নিউ ইয়র্কের এক নিলামে তার বিখ্যাত পেইন্টিং 'পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)' প্রায় ৭ কোটি পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা সে সময় কোনও জীবিত শিল্পীর ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছিল।

চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ফটোগ্রাফি ও স্টেজ ডিজাইনে দক্ষ হকনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অগ্রগামী ছিলেন। ২০১০ সালে আইপ্যাড বাজারে আসার পর থেকেই তিনি ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি আঁকা শুরু করেন এবং অ্যাপ প্রস্তুতকারীদের সাথে মিলে বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়মিত ছবি আঁকা ও প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়া এই শিল্পী দীর্ঘদিনের সঙ্গী জঁ-পিয়ের গনকালভেস দে লিমা, দুই ভাই এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এসএন/