রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে প্রথমবারের মতো ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসবে ভূখণ্ড প্রশ্ন–বিশেষ করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল। আজ শনিবারও চলবে এ আলোচনা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই আলোচনায় ডনবাসের মর্যাদা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচিত হবে। তিনি বলেন, ‘তিন পক্ষ কীভাবে এই ভূখণ্ডগত ইস্যুকে দেখছে, তা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে।’ জেলেনস্কির ভাষায়, এটি যুদ্ধ অবসানের পথে একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ, যদিও ফলাফল অনিশ্চিত।
এর আগে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসংক্রান্ত শর্তগুলো চূড়ান্ত হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ভূখণ্ড প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত। ট্রাম্প এই বৈঠককে ‘ভালো’ বললেও যুদ্ধ অবসানকে একটি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পথ খুলেছে। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ও প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ওই আলোচনায় অংশ নেন। উশাকভ বৈঠকগুলোকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে অভিহিত করেন।
তবে ভূখণ্ড প্রশ্নে রাশিয়ার অবস্থান কঠোর। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট করে বলেন, ডনবাস অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রত্যাহার রাশিয়ার একটি অপরিহার্য শর্ত। তার ভাষায়, ‘ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে ডনবাস ছাড়তেই হবে।’
অন্যদিকে জেলেনস্কি ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বহু বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রক্ষা করা ইউক্রেনীয় ভূমি হস্তান্তরের প্রশ্নই ওঠে না। পাশাপাশি ইউরোপে জব্দ করা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ইউক্রেনের পুনর্গঠনে ব্যবহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধ অবসানের ব্যাপারে ভূখণ্ড ছাড় বা সমাধানের বিষয়টিই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। কোনো পক্ষই তাদের দাবি ছাড়তে রাজি নয়। বিশ্লেষকদের মতে, আবুধাবির ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় ভূখণ্ড প্রশ্নে সমঝোতা না হলে যুদ্ধ অবসানের পথ এখনো জটিলই থেকে যাবে। সূত্র: বিবিসি