প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের চলমান হামলাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ইরান এই অঞ্চলে ‘অনেক রেড লাইন’ (সীমানা) অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আল-আনসারি জানান, কাতারের ওপর সাম্প্রতিক ইরানি হামলাগুলো দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বিপর্যয়কর প্রভাব’ ফেলছে। তিনি যুদ্ধের সকল পক্ষকে পরমাণু স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যেকোনো ধরনের উসকানি বা উত্তেজনা বৃদ্ধি সকল পক্ষের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে ইরান কাতার, ইরাক, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, জর্ডান এবং কুয়েতকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরান দাবি করছে যে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোকে নয়, বরং সেখানে থাকা মার্কিন সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, এসব হামলায় বিমানবন্দর, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বন্দরের মতো অসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছে।
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতার বর্তমানে পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত না থাকলেও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
আল-আনসারি বলেন, “আমরা পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগকে সমর্থন করি এবং আশা করি এটি অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।”
উল্লেখ্য, গত রবিবার পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে চারপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে ‘পাঁচ দফা’ শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে, যেখানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে একই দিনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আলোচনার পাশাপাশি সামরিক অভিযানের পথও খোলা রাখছে ওয়াশিংটন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/