ভারতের পঞ্জাব প্রদেশের জলন্ধরে বিএসএফ সদর দপ্তরের বাইরে বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। অপরদিকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অমৃতসরের সেনা ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা হয়েছে। এই সেনা ক্যাম্পটি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত।
বুধবার (৬ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেলে আরোহী দুই মুখোশধারী বোমা ছুড়ে মারে। সেই বোমা দেয়ালে লেগে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে দেয়ালের টিনের শেডগুলো ভেঙে পড়ে। ছয় ও সাত নম্বর গেটের মাঝে দেয়াল কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এসএসপি সোহেল মীর কাসিম জানিয়েছেন, রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে অমৃতসরের খাসা এলাকায় সেনা শিবিরের বাইরে একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিস্ফোরণের পরপরই। বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির দলটি ঘটনাস্থল থেকে নমুনা এবং প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
এদিকে জলন্ধরের বিস্ফোরণে আইইডি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, জলন্ধরে বিএসএফ সদর দপ্তরে গুরপ্রীত সিং নামে এক ব্যক্তির স্কুটারে আগুন লাগে এবং পরে সেখান থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। গুরপ্রীতের এক আত্মীয় সেই স্কুটারটি ব্যবহার করছিলেন। সেই আত্মীয় কুরিয়ারবয় হিসেবে কাজ করেন। ৫ মে রাতে অ্যাক্টিভা পার্ক করে তিনি সদর দপ্তরের ভিতরে পার্সেল সরবরাহ করতে গিয়েছিলে। তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।
এই ঘটনায় গুরপ্রীত ও তার সেই আত্মীয়কে আটক করেছে পুলিশ।
জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কৌর জানিয়েছেন, স্কুটিতে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণ ঘটে। সেই স্কুটারে বিস্ফোরক ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু বলেননি তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে জলন্ধরে বিএসএফ সদর দপ্তরের সামনে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে খলিস্তান লিবারেশন আর্মি।
সামাজিক মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, ৫ মে রাত ৮টায় পঞ্জাবের জলন্ধরের বিএসএফ সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছিল। খলিস্তান লিবারেশন আর্মি এই হামলার দায় স্বীকার করছে। এই হামলায় বিএসএফের দুই জওয়ান নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। অপারেশন নাভা সাভেরার অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। আমাদের ভাই শহিদ রঞ্জিত সিংয়ের রক্তের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা। খলিস্তান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই পোস্টে ডিআইজি সন্দীপ গোয়েল এবং তার পরিবারকে টার্গেট করার হুমকিও দেওয়া হয়।
তবে এই পোস্টে জওয়ানদের মৃত্যুর দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি পুলিশ। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
অমিয়/